তুরাগ নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আশে পাশের নিম্নাঞ্চলে ফসলি জমির ক্ষতির আশঙ্কা । এতে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও প্রশাসনের উদ্যেগে দ্রুত অস্হায়ী বাঁধ নির্মাণ করায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নে তুরাগ নদীর পানি অস্বাভাবিক ভাবে পানি বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার বিকেল থেকে বাধ নির্মাণের কাজ করা হয়। ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে বাধ নির্মানে দ্রুত পদক্ষেপ নেন বোয়ালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রঘুনাথপুর ত্রিমোহনা এলাকায় গোয়ালীয়া নদীর উপর অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এতে বোয়ালী, রঘুনাথপুর, সিকদারচালা, নলুয়া, শ্রীপুর, গাছবাড়ী, বহেরাতলী, নাবিরবহর ও ফুলবাড়ীয়া এলাকাসহ গোয়ালীয়া নদীর দুই পাশের প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত ফসল সাময়িকভাবে রক্ষা পেয়েছে।
বোয়ালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন খান জানান, স্থানীয় কৃষকদের মাধ্যমে পরিস্থিতির খবর পেয়ে তিনি দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে জরুরি ভিত্তিতে দুটি এক্সকাভেটরের ব্যবস্থা করা হয়। নদীর দুই পাশ থেকে মাটি ভরাট করে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
তিনি আরও বলেন, জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কৃষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় রাতভর কাজ চালিয়ে অবশেষে বাঁধ নির্মাণ সম্পন্ন করা সম্ভব হযেছে।
কৃষকরা জানায়, সময় মতো বাধ না দিলে আমাদের পুরো মৌসুমের ধান পানিতে তলিয়ে যেত। স্হানীয় চেয়ারম্যান, জনপ্রতিনিধি, কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবীরা এক সাথে বাধ দিতে সহযোগিতা করায় কৃষি জমি রক্ষা পায়।
অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, তুরাগ নদীর পানি বৃদ্ধির এ ধরনের পরিস্হিতি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি। কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে প্রতিবছর কৃষকদের এ ধরনের ঝু্ঁকির সম্মুখীন হতে হবে। নদী ব্যবস্হাপনায় দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করা জরুরি।
বাধ নির্মাণের দ্রুত উদ্যেগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত কৃষকের স্বপ্নের ফসল রক্ষা পেয়েছে। তবে ভবিষ্যতে টেকসই সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এখন সময়ে দাবি। সময়ের সঠিক উদ্যেগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে কয়েক হাজার একক ফসলি জমি।
অরবিন্দ রায়, স্টাফ রিপোর্টার: 





















