ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে নিম্নমানের কাজ, জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম ও কাজ না করেই বিল উত্তোলনসহ ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার ও এলজিইডি উপ সহকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বোদা উপজেলার শিকারপুর বাগানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজের প্রাক্কলনে মনিটর ধরা থাকলেও ক্রয় করা হয়নি, নিম্নমানের ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠ দিয়ে করা হয়েছে দরজা, তালা ১ হাজার ১০০ টাকা ধরা থাকলেও ক্রয় করা হয়েছে ২৫০ টাকায়।

প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা বলেন, কাজ আরো অনেক বেশি করা হয়েছে। এছাড়াও কাজের প্রাক্কলন করতে এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুর ই আকরামকে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। বিল করতে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা। এগুলো টাকা কোথায় পাবো। এখান থেকে সমন্বয় করা হয়েছে।
জোতদেবী কান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ২০০ টাকায় পানির পাম্প নিয়ে দেখিয়েছেন ১২ হাজার ১৩২ টাকা, ৫০০ টাকা তালার দাম ১ হাজার ১৩৫ টাকা। রাউটার দেখানো হয়েছে ৮ হাজার টাকা। অতিরিক্ত দামের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আরো বিভিন্ন খরচসহ মিস্ত্রির মজুরি দিতে হয়। শিক্ষা অফিসারকে চা খরচ দিতে হয়। সবকিছুতো আর লেখা যায় না।

শালশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিব কক (পানির টেপ) ৯১০ টাকায় ক্রয় দেখানো হলেও নিয়েছেন ৬০ টাকায়, ২ হাজার ৪০০ টাকায় ফ্যান নিয়ে দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৪৮০ টাকা, ফাইল কেবিনেট মেরামত দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
ভাসাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যমুনা ব্রান্ডের ২০ ওয়াট এনার্জি বাল্ব ৩০০ টাকায় নিয়ে দেখানো হয়েছে ৯০০ টাকা, হোল্ডার ৭০ টাকায় নিয়ে দেখানো হয়েছে ২৫০ টাকা।এছাড়াও উপজেলার একাধিক বিদ্যালয় ঘুরে একই চিত্র চোখে পড়ে।
শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বোদা উপজেলার ২৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত করার লক্ষ্যে ৩০ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন, বোদা উপজেলার এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুর ই আকরাম।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমিও শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে ধরেছি পরে আমাকে বলেছেন বাগান করতেছি, এজন্য পরে কিছু বলিনি, তবে আমার বিরুদ্ধে যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা, যে অভিযোগ করেছে সে নিজে বাঁচার জন্য বলেছে।

বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, স্কুলের সংস্কার কাজের সময় কম হওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে, তবে টাকা নেওয়া ও দেওয়া দুটাই অপরাধ। তবে বিষয়টা দেখবো। অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বোদায় প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:২৯:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে নিম্নমানের কাজ, জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম ও কাজ না করেই বিল উত্তোলনসহ ঘুষ বাণিজ্যের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার ও এলজিইডি উপ সহকারি প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বোদা উপজেলার শিকারপুর বাগানবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজের প্রাক্কলনে মনিটর ধরা থাকলেও ক্রয় করা হয়নি, নিম্নমানের ইউক্যালিপটাস গাছের কাঠ দিয়ে করা হয়েছে দরজা, তালা ১ হাজার ১০০ টাকা ধরা থাকলেও ক্রয় করা হয়েছে ২৫০ টাকায়।

প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা বলেন, কাজ আরো অনেক বেশি করা হয়েছে। এছাড়াও কাজের প্রাক্কলন করতে এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুর ই আকরামকে দেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। বিল করতে উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে দেওয়া হয়েছে ৭ হাজার টাকা। এগুলো টাকা কোথায় পাবো। এখান থেকে সমন্বয় করা হয়েছে।
জোতদেবী কান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪ হাজার ২০০ টাকায় পানির পাম্প নিয়ে দেখিয়েছেন ১২ হাজার ১৩২ টাকা, ৫০০ টাকা তালার দাম ১ হাজার ১৩৫ টাকা। রাউটার দেখানো হয়েছে ৮ হাজার টাকা। অতিরিক্ত দামের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, আরো বিভিন্ন খরচসহ মিস্ত্রির মজুরি দিতে হয়। শিক্ষা অফিসারকে চা খরচ দিতে হয়। সবকিছুতো আর লেখা যায় না।

শালশিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিব কক (পানির টেপ) ৯১০ টাকায় ক্রয় দেখানো হলেও নিয়েছেন ৬০ টাকায়, ২ হাজার ৪০০ টাকায় ফ্যান নিয়ে দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৪৮০ টাকা, ফাইল কেবিনেট মেরামত দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।
ভাসাইনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যমুনা ব্রান্ডের ২০ ওয়াট এনার্জি বাল্ব ৩০০ টাকায় নিয়ে দেখানো হয়েছে ৯০০ টাকা, হোল্ডার ৭০ টাকায় নিয়ে দেখানো হয়েছে ২৫০ টাকা।এছাড়াও উপজেলার একাধিক বিদ্যালয় ঘুরে একই চিত্র চোখে পড়ে।
শিক্ষা অফিসের তথ্যানুযায়ী,ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত বোদা উপজেলার ২৭ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেরামত করার লক্ষ্যে ৩০ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন, বোদা উপজেলার এলজিইডি উপ-সহকারি প্রকৌশলী নুর ই আকরাম।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমিও শিক্ষক আনোয়ার হোসেনকে ধরেছি পরে আমাকে বলেছেন বাগান করতেছি, এজন্য পরে কিছু বলিনি, তবে আমার বিরুদ্ধে যে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা, যে অভিযোগ করেছে সে নিজে বাঁচার জন্য বলেছে।

বোদা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, স্কুলের সংস্কার কাজের সময় কম হওয়ায় একটু সমস্যা হয়েছে, তবে টাকা নেওয়া ও দেওয়া দুটাই অপরাধ। তবে বিষয়টা দেখবো। অপরাধ করলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।