ঢাকা ০৪:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার : মন্ত্রী বছরে রাষ্ট্রের ক্ষতি শতকোটি টাকা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই, তারা আস্থা অর্জনে ব্যর্থ কোটালীপাড়ায় হামের প্রকোপ বেড়ে চলেছে জনগণ আতঙ্কে  তুলে ধরা হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন অগ্রগতি কীর্তনখোলায় ফুল ভাসিয়ে ববি’র চাকমা শিক্ষার্থীদের ‘ফুল বিজু’ উদযাপন এবার আ.লীগপন্থী দুই শিক্ষকের দখলে থাকছে বেরোবির বইমেলার দায়িত্ব ২০ দিনের ছুটি নিয়ে তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালক সিসি ক্যামেরায় ৫ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য, ঢাকায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, চট্টগ্রাম পতেঙ্গা মডেল থানায় জিডি
ঘুষ আর দুর্নীতি মাস্টারমাইন্ড

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার ‘ঘুষের হাটে’ নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মান

রাজধানীর উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে অনিয়ম আর দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। রাজউক জোন-৬/১-এর আওতাধীন ধলপুর এলাকার ২০ নম্বর হোল্ডিংয়ে নকশা বহির্ভূত একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এই দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজা এবং জোন-৬ এর অথোরাইজড অফিসারসহ একটি প্রভাবশালী চক্র মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জোন-৬ এর ধলপুর ২০ নম্বর হোল্ডিংয়ে পিডিডিএল (চউউখ) নামক একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাজউকের অনুমোদিত নকশা তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করে। বিষয়টি রাজউকের নজরে এলে গত কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় একটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জোন-৬ এর অথোরাইজড অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে দেখা যায়, ভবনটি অনুমোদিত নকশার ব্যাপক বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

তৎকালীন অভিযানে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় পিডিডিএল-কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবনটির নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যাতে ওই ভবনে আর কোনো অবৈধ নির্মাণ কাজ না চলে, তা তদারকি করার জন্য। অভিযোগ উঠেছে, পরিদর্শক শামীম রেজাকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পুনরায় ধুমধাম করে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় করছেন শামীম রেজা নিজে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান পিডিডিএল-এর কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করে তাদের অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভয় দিয়েছেন তিনি। শুধু শামীম রেজাই নন, অভিযোগের আঙুল উঠেছে জোন-৬/১ এর অথোরাইজড অফিসারের দিকেও। অভিযোগ রয়েছে, পরিদর্শক শামীম রেজার মাধ্যমে প্রাপ্ত ঘুষের একটি বড় অংশ পৌঁছাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটে। ফলে উচ্ছেদ অভিযান এবং জরিমানা ছিল কেবলই ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো।
সরেজমিনে ধলপুর ২০ নম্বর হোল্ডিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাজউকের সিলগালা বা স্থগিতাদেশের কোনো চিহ্ন এখন আর সেখানে নেই। শ্রমিকরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবনের সেটব্যাক (ছাড় দেওয়া জায়গা) না মেনে এবং নকশার অতিরিক্ত তলা নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “রাজউক যখন অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করল, আমরা ভেবেছিলাম নিয়ম মানা হবে। কিন্তু শামীম রেজা পরিদর্শক হিসেবে আসার পর থেকেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। তিনি প্রায়ই এখানে আসেন, কিন্তু কাজ বন্ধ করার পরিবর্তে বিল্ডার্সের লোকদের সাথে হাসাহাসি করে চলে যান। আমরা জানি, বড় অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে। তা না হলে রাজউকের নির্দেশের পর কাজ চলে কীভাবে?।

রাজউকের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, জোন-৬/১ এলাকাটি বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অনেক অবৈধ ভবনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অথোরাইজড অফিসারের ছত্রছায়ায় তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ভবন নির্মাণে নকশা বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধন না করা পর্যন্ত কাজ শুরু করার অনুমতি নেই। কিন্তু এখানে শামীম রেজার ‘ম্যানেজ’ করার ক্ষমতার কাছে আইন যেন অসহায় হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ঢাকা শহর এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। অগ্নি নিরাপত্তা, ভূমিকম্প ঝুঁকি এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের জায়গা না রেখে ভবন নির্মাণ করার ফলে পাশের ভবনগুলোও ঝুঁকিতে পড়ছে। পিডিডিএল-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পার পেয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার বক্তব্য জানতে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান আর জরিমানার পর পুনরায় অবৈধ কাজ শুরু হওয়া প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ। শামীম রেজার মতো কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লালসা নগরবাসীর নিরাপত্তাকে জিম্মি করে ফেলেছে। ধলপুরের এই ভবন নির্মাণের অনিয়ম রোধে রাজউকের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, ‘উচ্ছেদ অভিযান’ শব্দটি কেবল ফাইলবন্দি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবেই থেকে যাবে, আর অবৈধ ভবনের অরণ্যে পরিণত হবে ঢাকা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরাপদ করতে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার : মন্ত্রী

ঘুষ আর দুর্নীতি মাস্টারমাইন্ড

রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার ‘ঘুষের হাটে’ নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মান

আপডেট সময় ০১:১৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, সেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেই উঠেছে অনিয়ম আর দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। রাজউক জোন-৬/১-এর আওতাধীন ধলপুর এলাকার ২০ নম্বর হোল্ডিংয়ে নকশা বহির্ভূত একটি বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে এই দুর্নীতির মহোৎসব চলছে। অভিযোগ উঠেছে, রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজা এবং জোন-৬ এর অথোরাইজড অফিসারসহ একটি প্রভাবশালী চক্র মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, জোন-৬ এর ধলপুর ২০ নম্বর হোল্ডিংয়ে পিডিডিএল (চউউখ) নামক একটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান রাজউকের অনুমোদিত নকশা তোয়াক্কা না করেই বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করে। বিষয়টি রাজউকের নজরে এলে গত কয়েক মাস আগে ওই এলাকায় একটি বিশেষ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জোন-৬ এর অথোরাইজড অফিসারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে দেখা যায়, ভবনটি অনুমোদিত নকশার ব্যাপক বিচ্যুতি ঘটিয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে।

তৎকালীন অভিযানে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় পিডিডিএল-কে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং ভবনটির নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলার পাশাপাশি নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় যাতে ওই ভবনে আর কোনো অবৈধ নির্মাণ কাজ না চলে, তা তদারকি করার জন্য। অভিযোগ উঠেছে, পরিদর্শক শামীম রেজাকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই তিনি বিষয়টিকে ব্যক্তিগত আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এবং সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর রাজউকের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পুনরায় ধুমধাম করে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় করছেন শামীম রেজা নিজে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান পিডিডিএল-এর কাছ থেকে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ করে তাদের অবৈধভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভয় দিয়েছেন তিনি। শুধু শামীম রেজাই নন, অভিযোগের আঙুল উঠেছে জোন-৬/১ এর অথোরাইজড অফিসারের দিকেও। অভিযোগ রয়েছে, পরিদর্শক শামীম রেজার মাধ্যমে প্রাপ্ত ঘুষের একটি বড় অংশ পৌঁছাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পকেটে। ফলে উচ্ছেদ অভিযান এবং জরিমানা ছিল কেবলই ‘আইওয়াশ’ বা লোকদেখানো।
সরেজমিনে ধলপুর ২০ নম্বর হোল্ডিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাজউকের সিলগালা বা স্থগিতাদেশের কোনো চিহ্ন এখন আর সেখানে নেই। শ্রমিকরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবনের সেটব্যাক (ছাড় দেওয়া জায়গা) না মেনে এবং নকশার অতিরিক্ত তলা নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “রাজউক যখন অভিযান চালিয়ে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করল, আমরা ভেবেছিলাম নিয়ম মানা হবে। কিন্তু শামীম রেজা পরিদর্শক হিসেবে আসার পর থেকেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। তিনি প্রায়ই এখানে আসেন, কিন্তু কাজ বন্ধ করার পরিবর্তে বিল্ডার্সের লোকদের সাথে হাসাহাসি করে চলে যান। আমরা জানি, বড় অংকের টাকার লেনদেন হয়েছে। তা না হলে রাজউকের নির্দেশের পর কাজ চলে কীভাবে?।

রাজউকের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, জোন-৬/১ এলাকাটি বর্তমানে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এমন অনেক অবৈধ ভবনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অথোরাইজড অফিসারের ছত্রছায়ায় তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো ভবন নির্মাণে নকশা বিচ্যুতি ঘটলে তা সংশোধন না করা পর্যন্ত কাজ শুরু করার অনুমতি নেই। কিন্তু এখানে শামীম রেজার ‘ম্যানেজ’ করার ক্ষমতার কাছে আইন যেন অসহায় হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মাণ করলে দীর্ঘমেয়াদে ঢাকা শহর এক ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়বে। অগ্নি নিরাপত্তা, ভূমিকম্প ঝুঁকি এবং পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের জায়গা না রেখে ভবন নির্মাণ করার ফলে পাশের ভবনগুলোও ঝুঁকিতে পড়ছে। পিডিডিএল-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়ে পার পেয়ে যায়, তখন সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার বক্তব্য জানতে তার অফিসিয়াল মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান আর জরিমানার পর পুনরায় অবৈধ কাজ শুরু হওয়া প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং দুর্নীতির চরম বহিঃপ্রকাশ। শামীম রেজার মতো কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত লালসা নগরবাসীর নিরাপত্তাকে জিম্মি করে ফেলেছে। ধলপুরের এই ভবন নির্মাণের অনিয়ম রোধে রাজউকের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তদন্ত কমিটির মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, ‘উচ্ছেদ অভিযান’ শব্দটি কেবল ফাইলবন্দি আইনি প্রক্রিয়া হিসেবেই থেকে যাবে, আর অবৈধ ভবনের অরণ্যে পরিণত হবে ঢাকা।