ঢাকা ০৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

একের পর এক চুরি, বেরোবি হলে বাড়ছে উদ্বেগ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ মুখতার ইলাহী হলে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে হলের ডাইনিং থেকে দুই বস্তা চাল, ৫ লিটার তেল ও দুটি বড় কড়াই চুরি হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ মার্চ রাতে একই হলে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি নেটওয়ার্ক সুইচ চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন রাতেই ১০২ নম্বর কক্ষের সামনে লুঙ্গি মোড়ানো অবস্থায় সুইচটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে হলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীদের অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণে দুই নিরাপত্তা প্রহরী—মো. শাহিন বেগ ও মো. আব্দুর রাজ্জাকের ভূমিকা সন্দেহজনক বলে উঠে এসেছে। তবে চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
হল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সুপারিশ করেছিল। তবে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ডাইনিংয়ের সহকারী বাবুর্চি শাহিন মিয়া বলেন, “আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি আমার কক্ষের বাইরে থেকে সিটকিনি লাগানো। পরে ডাইনিং ম্যানেজারকে খবর দিলে তিনি এসে দরজা খুলে দেন।”
ডাইনিং ম্যানেজার সাদাত হোসেন বলেন, “আজ ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। হয়তো খাবার প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এত বড় জিনিসপত্র মূল ফটক দিয়ে বাইরে নেওয়া সম্ভব নয়। আমার ধারণা, এগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরেই কোথাও রয়েছে।”
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সহকারী প্রভোস্ট ত্বহা হুসাইন জানান, বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি সভা ডাকা হয়েছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একের পর এক চুরি, বেরোবি হলে বাড়ছে উদ্বেগ

আপডেট সময় ০৩:৪৪:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শহীদ মুখতার ইলাহী হলে আবারও চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে হলের ডাইনিং থেকে দুই বস্তা চাল, ৫ লিটার তেল ও দুটি বড় কড়াই চুরি হয়েছে।
এর আগে গত ১৬ মার্চ রাতে একই হলে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি নেটওয়ার্ক সুইচ চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন রাতেই ১০২ নম্বর কক্ষের সামনে লুঙ্গি মোড়ানো অবস্থায় সুইচটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে হলে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরীদের অবহেলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণে দুই নিরাপত্তা প্রহরী—মো. শাহিন বেগ ও মো. আব্দুর রাজ্জাকের ভূমিকা সন্দেহজনক বলে উঠে এসেছে। তবে চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজে কোনো বহিরাগতকে হলে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
হল সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনার পর তদন্ত কমিটি হলে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের সুপারিশ করেছিল। তবে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
ডাইনিংয়ের সহকারী বাবুর্চি শাহিন মিয়া বলেন, “আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি আমার কক্ষের বাইরে থেকে সিটকিনি লাগানো। পরে ডাইনিং ম্যানেজারকে খবর দিলে তিনি এসে দরজা খুলে দেন।”
ডাইনিং ম্যানেজার সাদাত হোসেন বলেন, “আজ ভর্তি পরীক্ষা রয়েছে। হয়তো খাবার প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এত বড় জিনিসপত্র মূল ফটক দিয়ে বাইরে নেওয়া সম্ভব নয়। আমার ধারণা, এগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরেই কোথাও রয়েছে।”
এ বিষয়ে হল প্রভোস্ট ড. মো. কামরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সহকারী প্রভোস্ট ত্বহা হুসাইন জানান, বিষয়টি নিয়ে রোববার একটি সভা ডাকা হয়েছে।