ঢাকা ০৬:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বছরে দুইবার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পরিকল্পনা এনটিআরসিএর

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দেশে শিক্ষক সংকট দ্রুত কমাতে বছরে দুইবার করে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতি ছয় মাসে একটি করে নিয়োগ চক্র সম্পন্ন করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পদ শূন্য না থাকে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আসে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ইস্কাটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এ পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, বছরে দুইবার করে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে এনটিআরসিএ। এর ফলে প্রতি ছয় মাসে একটি করে নিয়োগ চক্র সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকার সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, এরইমধ্যে অষ্টম ধাপের নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরপরই নতুন করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের আরেকটি চক্র শুরু করা হবে। একইভাবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বছরে দুইটি সাইকেল চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেলেও এখন অটোমেশন ও এমসিকিউভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময়ক্ষেপণ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন এ পরিকল্পনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের শূন্য পদ দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকবে না। এতে একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ অটোমেশনের মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশ করা হয়। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নতুন সিস্টেম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-রিকুইজিশন পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সময় বাড়ানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেল সংকটে,যানবহনের চরম ভোগান্তি।

বছরে দুইবার শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পরিকল্পনা এনটিআরসিএর

আপডেট সময় ১২:৫২:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) দেশে শিক্ষক সংকট দ্রুত কমাতে বছরে দুইবার করে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতি ছয় মাসে একটি করে নিয়োগ চক্র সম্পন্ন করা হবে, যাতে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পদ শূন্য না থাকে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতিশীলতা আসে। 

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর ইস্কাটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম এ পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, বছরে দুইবার করে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছে এনটিআরসিএ। এর ফলে প্রতি ছয় মাসে একটি করে নিয়োগ চক্র সম্পন্ন করা সম্ভব হবে এবং কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকার সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, এরইমধ্যে অষ্টম ধাপের নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা আগামী জুনের মধ্যেই শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরপরই নতুন করে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের আরেকটি চক্র শুরু করা হবে। একইভাবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও বছরে দুইটি সাইকেল চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান বলেন, অতীতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা গেলেও এখন অটোমেশন ও এমসিকিউভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের সময়ক্ষেপণ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আগের তুলনায় অনেক দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন এ পরিকল্পনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান প্রধানের শূন্য পদ দীর্ঘদিন ফাঁকা থাকবে না। এতে একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও উপকৃত হবে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শতভাগ অটোমেশনের মাধ্যমে প্রার্থীদের মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশ করা হয়। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নেই। এই নতুন সিস্টেম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-রিকুইজিশন পাওয়া গেলে দ্রুতই নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে সময় বাড়ানোর প্রবণতা থেকে সরে আসা হবে।