ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
একদিনেই ৬টি যুদ্ধবিমান-ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি আইআরজিসির শিশুর দুই চোখে সুপার গ্লু ঢেলে দিয়েছেন দুলাভাই জ্বালানি সংকটে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে : অর্থমন্ত্রী ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতে বন্দী, ১১ মাস পরে ফিরলো লাশ হয়ে ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকান বসানো বন্ধে সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি মেঘনায় লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে গেল বালুবাহী বাল্কহেড চট্টগ্রাম বিভাগীয় শ্রমিক দলের সদস্য হলেন লক্ষ্মীপুরের মনির আহম্মদ রাজন এবার মিয়ানমারে পাচারের সময় ৬ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ বিএনপি জুলাইযুদ্ধকে স্বীকার করে না- এটা ডাহা মিথ্যা কথা বাবার চিকিৎসা করাতে যাওয়ার পথে সড়কে প্রাণ গেল ছেলের

ফুলবাড়ীতে বস্তা সংকটে পড়ে যাচ্ছে আলুর দাম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত বছরের তুলনায় আলুর বস্তার দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। চরম আকার ধারণ করেছে বস্তাসংকট। এর প্রভাব পড়েছে আলুর দামে। বস্তার দাম বেশি হওয়ায় গত দুই দিনে কেজিতে আলুর দাম পড়ে গেছে ২ থেকে ৩ টাকা। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ক্যারেজ জাতের যে আলু প্রতিকেজি ১৫ থেকে ১৬ টাকা বিক্রি হয়েছে, আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সেই আলুর দাম ১২ থেকে ১৩ টাকায় নেমেছে। তবু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বস্তার অভাবে বাড়ীর পাশে আলু স্তূপ করে রাখছেন চাষিরা।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এবার সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়। এ নিয়ে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ কিছু কিছু হিমাগার কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তার দাম বাড়াচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৮০ হেক্টর এবং চাষও একই পরিমাণ জেিমতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন আলু।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পাঠকপাড়া গ্রামের আলু চাষি জাহাঙ্গীর আলম এবার পৌনে চার বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হয়েছে তার। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক ব্যবসায়ী ১৫ টাকা কেজি দাম বলে গেছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তার আলু নিতে আসার কথা ছিল। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বস্তা সংকটের কারণে আলু নিতে আসতে পারছেন না। এখন বাড়ীতেই কষ্ট করে আলু রাখতে হচ্ছে।

উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের আলুচাষি ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, গত বছর ৭৫ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বস্তা পাওয়া গেছে। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ১২০ টাকা করে বস্তা কিনতে হয়েছে। ঈদের এক দিন পর ১৬০ টাকা করে বস্তা কিনেছেন। বস্তার অভাবে আলু কিনতে পারছেন না। এখন দাম উঠেছে ১৮০ টাকা।

মেলাবাড়ী এলাকার আলু চাষি আল আমিন বলেন, বস্তার অভাবে নিজের উৎপাদিত আলু মাত্র ৬ বস্তা ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। বাড়তি আলু বিক্রির অভাবে বাড়ীতেই পড়ে রয়েছে।

রাজারামপুর মৎস্যপাড়া গ্রামের আলু চাষি মো. মামুন বলেন, ২২৫ বস্তা আলু হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৩১ বস্তা আলু ইতোমধ্যে হিমাগারে রেখে দিয়েছেন। বাকি ১৯৪ বস্তা আলুর জন্য বস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। গত বছর যে বস্তার দাম সর্বোচ্চ ৮০ টাকা ছিল, এবার সেই বস্তা ১৮০ টাকা হয়েছে। বস্তার সংকটের কারণে আলুর দামও পড়ে গেছে।

বারাইহাট এলাকার আলু চাষি কার্তিক চন্দ্র রায় ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তার ১৫০ বস্তা আলু হয়েছে। তিনি বুধবার (১ এপ্রিল মার্চ) ১৬ টাকা কেজি দরে আলুর দাম মিটিয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তাকে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম বায়না দিয়ে গিয়েছিলেন। একদিন পর বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সেই ব্যবসায়ী আলুর দাম ১৩ টাকার বেশি নিতে পারবেন না জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বলে গেছেন, অগ্রিম টাকাও ফেরত নেবেন না।

পৌরশহরের বস্তা বিক্রেতারা সাজু সাহা বলেন, পাটের দাম বেশি হওয়ায় বস্তার দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া আলু সংগ্রহ মৌসুমে প্রতি বছরই বস্তার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়। এবার একটু বেশি দাম বেড়েছে। আবার বস্তার সংকটও রয়েছে। চাহিদানুযায়ী বস্তা পাওয়া যাচ্ছে না।

ফুলবাড়ী পাইকারী আলু ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহা বলেন, কয়দিন আগেও ক্যারেজ জাতের আলু পাইকারী বাজারে ১৬ থেকে ১৭ টাকা বিক্রি হলেও এখন একই আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজিতে। আলু সংরক্ষণের জন্য পাটের বস্তার সংকটের জন্য বাজারে আলুর দাম কমে এসেছে।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের প্রধান হিসাব রক্ষক আবুল হাসান বলেন, কোল্ড স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৬৫ হাজার বস্তা। প্রতি বস্তার  ওজন ৫৫ কেজি। কিন্তু ইতোমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার বস্তা। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৬ বস্তা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বস্তার সংকটের মধ্যে কোল্ড স্টোরেজের সংগ্রহ অভিযান শেষ করতে হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ ধরনের বস্তা সংকটের কথা কেউ তাদের জানাননি। আর জানলেও এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই। তারা বড়জোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একদিনেই ৬টি যুদ্ধবিমান-ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের দাবি আইআরজিসির

ফুলবাড়ীতে বস্তা সংকটে পড়ে যাচ্ছে আলুর দাম

আপডেট সময় ০৩:৪৮:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে গত বছরের তুলনায় আলুর বস্তার দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। চরম আকার ধারণ করেছে বস্তাসংকট। এর প্রভাব পড়েছে আলুর দামে। বস্তার দাম বেশি হওয়ায় গত দুই দিনে কেজিতে আলুর দাম পড়ে গেছে ২ থেকে ৩ টাকা। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ক্যারেজ জাতের যে আলু প্রতিকেজি ১৫ থেকে ১৬ টাকা বিক্রি হয়েছে, আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) সেই আলুর দাম ১২ থেকে ১৩ টাকায় নেমেছে। তবু ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। বস্তার অভাবে বাড়ীর পাশে আলু স্তূপ করে রাখছেন চাষিরা।

চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর যে বস্তার দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। এবার সেই বস্তা বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮০ টাকায়। এ নিয়ে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। তাদের অভিযোগ, পাটের দাম বৃদ্ধিসহ কিছু কিছু হিমাগার কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বস্তার দাম বাড়াচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছর উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ হাজার ৮০ হেক্টর এবং চাষও একই পরিমাণ জেিমতে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন আলু।

উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের পাঠকপাড়া গ্রামের আলু চাষি জাহাঙ্গীর আলম এবার পৌনে চার বিঘা জমিতে ক্যারেজ জাতের আলু চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হয়েছে তার। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক ব্যবসায়ী ১৫ টাকা কেজি দাম বলে গেছেন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) তার আলু নিতে আসার কথা ছিল। কিন্তু ওই ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, বস্তা সংকটের কারণে আলু নিতে আসতে পারছেন না। এখন বাড়ীতেই কষ্ট করে আলু রাখতে হচ্ছে।

উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের আলুচাষি ও ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান বলেন, গত বছর ৭৫ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে বস্তা পাওয়া গেছে। এ বছর মৌসুমের শুরু থেকেই ১২০ টাকা করে বস্তা কিনতে হয়েছে। ঈদের এক দিন পর ১৬০ টাকা করে বস্তা কিনেছেন। বস্তার অভাবে আলু কিনতে পারছেন না। এখন দাম উঠেছে ১৮০ টাকা।

মেলাবাড়ী এলাকার আলু চাষি আল আমিন বলেন, বস্তার অভাবে নিজের উৎপাদিত আলু মাত্র ৬ বস্তা ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। বাড়তি আলু বিক্রির অভাবে বাড়ীতেই পড়ে রয়েছে।

রাজারামপুর মৎস্যপাড়া গ্রামের আলু চাষি মো. মামুন বলেন, ২২৫ বস্তা আলু হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৩১ বস্তা আলু ইতোমধ্যে হিমাগারে রেখে দিয়েছেন। বাকি ১৯৪ বস্তা আলুর জন্য বস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না। গত বছর যে বস্তার দাম সর্বোচ্চ ৮০ টাকা ছিল, এবার সেই বস্তা ১৮০ টাকা হয়েছে। বস্তার সংকটের কারণে আলুর দামও পড়ে গেছে।

বারাইহাট এলাকার আলু চাষি কার্তিক চন্দ্র রায় ৩ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তার ১৫০ বস্তা আলু হয়েছে। তিনি বুধবার (১ এপ্রিল মার্চ) ১৬ টাকা কেজি দরে আলুর দাম মিটিয়ে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী তাকে ৫ হাজার টাকা অগ্রিম বায়না দিয়ে গিয়েছিলেন। একদিন পর বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সেই ব্যবসায়ী আলুর দাম ১৩ টাকার বেশি নিতে পারবেন না জানিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বলে গেছেন, অগ্রিম টাকাও ফেরত নেবেন না।

পৌরশহরের বস্তা বিক্রেতারা সাজু সাহা বলেন, পাটের দাম বেশি হওয়ায় বস্তার দাম বেড়ে গেছে। তাছাড়া আলু সংগ্রহ মৌসুমে প্রতি বছরই বস্তার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দাম বেড়ে যায়। এবার একটু বেশি দাম বেড়েছে। আবার বস্তার সংকটও রয়েছে। চাহিদানুযায়ী বস্তা পাওয়া যাচ্ছে না।

ফুলবাড়ী পাইকারী আলু ব্যবসায়ী জয়ন্ত সাহা বলেন, কয়দিন আগেও ক্যারেজ জাতের আলু পাইকারী বাজারে ১৬ থেকে ১৭ টাকা বিক্রি হলেও এখন একই আলু বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ টাকা কেজিতে। আলু সংরক্ষণের জন্য পাটের বস্তার সংকটের জন্য বাজারে আলুর দাম কমে এসেছে।

ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজের প্রধান হিসাব রক্ষক আবুল হাসান বলেন, কোল্ড স্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা ১ লাখ ৬৫ হাজার বস্তা। প্রতি বস্তার  ওজন ৫৫ কেজি। কিন্তু ইতোমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার বস্তা। ধারণ ক্ষমতার চেয়ে ৬ বস্তা বেশি সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে বস্তার সংকটের মধ্যে কোল্ড স্টোরেজের সংগ্রহ অভিযান শেষ করতে হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, এ ধরনের বস্তা সংকটের কথা কেউ তাদের জানাননি। আর জানলেও এ ব্যাপারে তাদের কিছুই করার নেই। তারা বড়জোর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন।