কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কল্পবাস এলাকার বাসিন্দা ফারজানা আক্তার (১৯)-এর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়—পরিকল্পিত হত্যা। এ ঘটনায় তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বক্তব্য দিয়েছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ফারজানা আক্তারের সঙ্গে অভিযুক্ত স্বামী অনিক মিয়াজির বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছর পর অনিকের অতিরিক্ত মাদকাসক্তি ও দাম্পত্য কলহের জেরে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে ফারজানাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং কিছুদিন পর তাকে কসবা উপজেলার আকাবপুর এলাকার শামীম নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু দ্বিতীয় সংসার টিকেনি। কয়েক মাস পর প্রথম স্বামী অনিক মিয়াজির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ হলে ফারজানা আবার তার সংসারে ফিরে যান। অভিযোগ রয়েছে, এরপর আবারও শুরু হয় নির্যাতন। মাদকাসক্ত অনিক নিয়মিত ফারজানার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেন বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য। টাকা দিতে না পারলে তাকে মারধরসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো।
পরিবারের দাবি, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের কল্পবাস এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় ফারজানাকে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
সেদিন বেলা আনুমানিক ১১টা ৩৮ মিনিটে অভিযুক্তের বাবা মো. আলমগীর হোসেন ফোন করে ফারজানার মৃত্যুর খবর জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিহতের ছোট বোন মোসা. সুমি আক্তার, মা বানু বেগম এবং মামা মো. ইসরাফিল মিয়া বক্তব্য রাখেন। তারা অভিযোগ করেন, ফারজানাকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করে আসছিল অনিক মিয়াজি এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা বলেন, হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নিহতের বাবা মো. আবুল কাশেম, মারুফা বেগম এবং বড় ভাই মো. সুমন মিয়া।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, তারা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। বরং থানার এসআই সুজন আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা নথিভুক্ত করেন, যা নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
নিহতের পরিবার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিনিধি : মোরশেদ আলম 



















