মোঃ রমজান খান ২০০৪ সালে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রধান নিবন্ধন অফিস ঢাকায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে একটা কৌশল অবলম্বন করেন, সেটা ঘুষ দুর্নীতি চালাবেননা বলে, কিন্তু ভেতরে ভেতরে সবই চালাতেন তিনি।
২০০৪ সাল থেকে ২০০৬ সাল বিএনপি হয়ে ছিলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৯ সালে তিনি আওয়ামী পন্থী হয়ে খোলোস বদলান। ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের মন্ত্রী আনিসুল হকের সাথে সক্ষতা গড়ে তোলেন। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সব-রেজিস্ট্রার থেকে বদলি হয়ে ২৯শে জুলাই ২০১৯ সালে গুলশান এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলে যোগদান করেন। কথিত আছে ঢাকার মোহাম্মদপুর, গুলশান, তেজগাঁওয়ে বদলি হতে নাকি শত কোটি টাকা লাগে।
সরকারী দলের এবং মন্ত্রীর আস্থাভাজন হতে হয়। তাহলে বুঝতে বাকি থাকেনা যে,নগদ অর্থ , দলীয় ঘনিষ্ঠতা এবং আস্থাভাজন এর সবই তার ছিল। তিনি অবৈধ অর্থ , ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদে এই সমস্ত সার্কেলের পদে বসতে পেরেছিলেন এবং একই পদে ২৯শে জুলাই ২০১৯ থেকে ৮ই ফেব্রয়ারী ২০২২ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। গুলশান সার্কেলে থাকাকালীন তিনি হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস এসোসিয়েশন (বি আর এস এ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে সিনিয়র সহ-সভাপতি পদের দায়িত্বে আছেন।
তিনি নিজ দূর্নীতি ধামাচাপা দিতে নিজ জেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য হয়েছেন। অন্যান্য দূর্নীতিবাজ অফিসাদের সাথে তালমিলিয়ে বহুল আলোচিত এই রমজান খান তার পরিবারের সদস্যেদের বসবাসযোগ্য স্থান হিসেবে বাংলাদেশের চেয়ে আমেরিকাকেই বেশি পছন্দ করেন। অনুসন্ধান ও তথ্য সূত্র অনুযায়ী রমজান খান কোনো দাপ্তরিক প্রয়োজোনীয়তা ছাড়াই গত ১৫ই জুন ২০২৫ সালে আমেরিকার নিউইয়র্কে ৩০ দিনের সফরে যান। সরকারী পত্র মোতাবেক উনার সরকারী এনওসিতে উল্লেখ রয়েছে চিকিৎসা ও আত্বিয়-স্বজনদের সাথে সময় কাটাবেন অর্থাৎ পরিবারের সাথে সময় দিবেন। এতে প্রমাণিত হয় যে, আমেরিকায় তার বাড়ি-ঘর, সম্পদসহ পরিবার বসবাস করেন। তিনি ১০ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ থেকে আজ অবধি জেলা ভূমি রেজিস্টার হিসেবে মুন্সিগঞ্জ জেলায় দায়িত্বরত আছেন। তার পিতার নাম আজ্জম খান এবং মাতা আছিয়া খাতুন , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানাধীন আজমপুর গ্রাম তার স্থায়ী ঠিকানা বলে জানা যায়। বিগত আইন মন্ত্রী আনিসুল হকের এপিএস জীবনের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়ায় উনি খুব সহজেই মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হতে পেরেছিলেন। এদের মতো বর্ণচূরা খোলোস বদলকারী ব্যাক্তি গুলো দেশের সাধারণ জনগণের নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তির ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য খুবই ভয়ঙ্কর বলে আখ্যায়িত করেছেন রাষ্ট্র ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে তিনি বিএনপির ছত্রছায়ায় যেয়ে নিজেকে বিএনপি ঘরোনার প্রমাণ করছেন। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা , দূদক ও ফাইনান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট যদি সঠিক তদন্ত করে তাহলে অবশ্যই তার দূর্নীতির সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের এতো ঘনিষ্ট হওয়ার পরেও তিনি তিরস্কারের বদলে পদোন্নতি পেয়ে জেলা রেজিস্ট্রার মুন্সিগঞ্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এইধরনের দূর্নীতিবাজ অফিসারেরদূর্নীতি ও অপকর্ম গুলো সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুক দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সচেতন মহলের।
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলা ভূমি রেজিস্ট্রার মোঃ রমজান খানের সততার মুখোশে দুর্নীতির পাহাড় !
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৪:৪৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- ৫২২ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ





















