সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

ইউসিবিএল-এর ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ২ পরিচালক কারাগারে

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্যাংকটির সাবেক দুই পরিচালককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাবেক দুই পরিচালক, অপরূপ চৌধুরী (৬৫) ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬) আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ একই আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৫ এপ্রিল মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান (সাবেক চেয়ারম্যান, ইউসিবিএল)। সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আরামিট গ্রুপের কর্মচারীগণ।

দুদকের প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করান। পরবর্তীতে সেই টাকা তুলে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাচারকৃত অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। তদন্ত চলাকালীন আরও ৭ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, মূল এজাহারভুক্ত ২ জন আসামি মারা যাওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

ইউসিবিএল-এর ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ: সাবেক ২ পরিচালক কারাগারে

আপডেট সময় ০৮:১৭:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবিএল) ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ব্যাংকটির সাবেক দুই পরিচালককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩১ মার্চ) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে সাবেক দুই পরিচালক, অপরূপ চৌধুরী (৬৫) ও তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬) আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১১ মার্চ একই আদালত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান গত ৫ জানুয়ারি আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৫ এপ্রিল মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামান (সাবেক চেয়ারম্যান, ইউসিবিএল)। সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী ও রোকসানা জামান চৌধুরী। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরীসহ ব্যাংকের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আরামিট গ্রুপের কর্মচারীগণ।

দুদকের প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ‘ভিশন ট্রেডিং’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান সাজিয়ে ইউসিবিএল থেকে ২৫ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করান। পরবর্তীতে সেই টাকা তুলে হুণ্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাচারকৃত অর্থ দিয়ে বিদেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিল দুদক। তদন্ত চলাকালীন আরও ৭ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, মূল এজাহারভুক্ত ২ জন আসামি মারা যাওয়ায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় মোট ৯২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।