ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাতিরপুলে দোকানে আগুন, ৪ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে শাড়িতে রেট্রো লুকে মারিয়া শান্তর বাজিমাত মুলতবি সংসদ শুরু, মুখোমুখি সরকারি ও বিরোধী দল দুবাইয়ে কুয়েতের তেল ট্যাংকারে হামলা রংপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্স ও কাগজপত্র ছাড়া জ্বালানি তেল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা ফুলবাড়ীতে সর্দি, জ্বর ও ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাবে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগীর চাপ বুকজুড়ে সবুজের সমারোহ কৃষকের মুখে হাসি  নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার কারাতে কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে আশরাফুল আলম সুমনকে ফুলেল শুভেচ্ছা নির্বাচন কমিশন ও শ্রম অধিদপ্তরের বিধি-বিধান অমান্য করায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির ৮ সদস্যকে বহিষ্কার নওগাঁয় গ্যারেজে থাকা বাসের  ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার

হামের দাপটে কক্সবাজার: এক মাসে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি

কক্সবাজার জেলায় হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে শতাধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অভিভাবকদের মধ্যে।
জেলা সদর হাসপাতালের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১০৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ৩৩ জন শিশু এবং সোমবার নতুন করে আরও ১২ জন ভর্তি হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল মাত্র ৯ জন শিশু। মার্চ মাসে এসে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, সাধারণত বসন্ত ও বর্ষা মৌসুমে হামের সংক্রমণ বাড়ে। তবে এবার সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো নমুনার মধ্যে ২৮টি পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রামুর মিঠাছড়ি এবং সদর উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকায় সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, টিকাদান কর্মসূচির ফাঁকফোকর ও শিশুদের অপুষ্টি হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ঝরেপড়া শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।
তিনি জানান, সাধারণত পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে নয় মাস বয়সের আগেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এহেচান উল্লাহ সিকদার জানান, গত এক মাসে সাত থেকে আটজন রোহিঙ্গা শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে দুজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
হামের উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহও হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে জটিল রোগীদের জন্য আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হাতিরপুলে দোকানে আগুন, ৪ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

হামের দাপটে কক্সবাজার: এক মাসে শতাধিক শিশু হাসপাতালে ভর্তি

আপডেট সময় ১২:১১:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
কক্সবাজার জেলায় হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে শতাধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ ও অভিভাবকদের মধ্যে।
জেলা সদর হাসপাতালের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১০৮ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। রোববার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল ৩৩ জন শিশু এবং সোমবার নতুন করে আরও ১২ জন ভর্তি হয়েছে।
এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল মাত্র ৯ জন শিশু। মার্চ মাসে এসে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর জানান, সাধারণত বসন্ত ও বর্ষা মৌসুমে হামের সংক্রমণ বাড়ে। তবে এবার সংক্রমণের হার তুলনামূলক বেশি হওয়ায় বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জেলায় এখন পর্যন্ত ৫৩ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো নমুনার মধ্যে ২৮টি পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে রামুর মিঠাছড়ি এবং সদর উপজেলার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়তলী এলাকায় সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, টিকাদান কর্মসূচির ফাঁকফোকর ও শিশুদের অপুষ্টি হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বিশেষ করে ছিন্নমূল ও ঝরেপড়া শিশুদের মধ্যে ঝুঁকি বেশি।
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান নাজির বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে একটি এলাকায় প্রায় ৯০ শতাংশ শিশু সংক্রমিত হতে পারে।
তিনি জানান, সাধারণত পাঁচ বছরের নিচের শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে নয় মাস বয়সের আগেই শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।
উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এহেচান উল্লাহ সিকদার জানান, গত এক মাসে সাত থেকে আটজন রোহিঙ্গা শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে দুজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
হামের উপসর্গ হিসেবে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা যায়। জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানে সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহও হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে জটিল রোগীদের জন্য আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ এবং মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।