সংবাদ শিরোনাম ::
সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী

মহম্মদপুর ইউএনও অফিসের সহকারী জাহাঙ্গীরের দুর্নীতির পাহাড়: বদলি ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম নাজির জনাব মো: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ঘুস, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গত ৯ বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ বাণিজ্য ও কমিশনের মহোৎসব অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের নামে জাহাঙ্গীর আলম একাই ২৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া এলজিইডি অফিসের ঠিকাদারি ফাইল ছাড়াতে ইউএনও’র নাম ভাঙিয়ে ফাইল প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মোট কাজের ওপর ৩% হারে কমিশন আদায় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলমের দাবি করা টাকা না দিলে কোনো ফাইলই সই হয় না।

হাট-বাজার ও জলমহাল ইজারা নিয়ে হরিলুট উপজেলার ৩২টি হাট-বাজার ও জলমহাল ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রেও জাহাঙ্গীর আলম চরম অনিয়ম করেছেন। ১৪৩১ বঙ্গাব্দে নিজ বন্ধু সুজন শিকদারকে ১৮টি বড় হাট ইজারা দিলেও সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা জমা না দিয়ে বকেয়া রেখেছেন। এই সুজন শিকদার ৪ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলার অন্যতম আসামি হওয়া সত্ত্বেও জাহাঙ্গীরের আশীর্বাদে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া হাট-বাজারের ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে কয়েক কোটি সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার ও সাবেক ইউএনও শাহিনুর আক্তারের বিরুদ্ধে।

বিগত সরকারের দোসর ও তথ্য পাচারের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও জাহাঙ্গীর আলম প্রশাসনের ভেতরে বসে অন্তর্ঘাতী মূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে সরকারি তথ্য ফাঁস করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং বর্তমানে পলাতক সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত।

প্রকল্প ও উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেলাই মেশিন, ফুটবল ও স্প্রে মেশিন ক্রয়ের নাম করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া উপজেলা পরিষদের প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ লক্ষ টাকা এবং অপ্রত্যাশিত খাত থেকে আরও ৫০ লক্ষ টাকা কোনো কাজ না করেই উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরিষদের তিনটি পুকুর এবং ঐতিহাসিক রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ীর পুকুরের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেননি তিনি।

অঢেল সম্পদের মালিক ‘গরুর দালালের’ ছেলে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ বছর আগে জাহাঙ্গীরের বাবার কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে ছেলের অবৈধ টাকায় মাগুরা সদরের সোনপুর ও শাওলাডাঙ্গায় ৩০ একরের বেশি জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া মাগুরা শহরের তাঁতীপাড়া ও পাল্লা পূর্বপাড়ায় তার দুটি ৬ তলা বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। অথচ তার বাবার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই।

জনগণের দাবি জাহাঙ্গীর আলমের এই লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে ইতিপূর্বে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের ভেতরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার কারণে তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে মহম্মদপুরের সচেতন জনতা ও এলাকাবাসী এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর দ্রুত অপসারণ, বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য অফিস সহকারী কাম নাজির জনাব মো: জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেনি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সানভিউ টাওয়ার্সের দখলবাজি: শতকোটি টাকার সরকারি জমি বেহাত

মহম্মদপুর ইউএনও অফিসের সহকারী জাহাঙ্গীরের দুর্নীতির পাহাড়: বদলি ও শাস্তির দাবিতে ফুঁসছে এলাকাবাসী

আপডেট সময় ১০:২৪:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম নাজির জনাব মো: জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ঘুস, নিয়োগ বাণিজ্য, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। গত ৯ বছর ধরে একই উপজেলায় কর্মরত থেকে তিনি গড়ে তুলেছেন দুর্নীতির এক বিশাল সিন্ডিকেট। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়োগ বাণিজ্য ও কমিশনের মহোৎসব অভিযোগ রয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বমুহূর্তে গ্রাম পুলিশ নিয়োগের নামে জাহাঙ্গীর আলম একাই ২৬ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া এলজিইডি অফিসের ঠিকাদারি ফাইল ছাড়াতে ইউএনও’র নাম ভাঙিয়ে ফাইল প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মোট কাজের ওপর ৩% হারে কমিশন আদায় করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের দাবি, জাহাঙ্গীর আলমের দাবি করা টাকা না দিলে কোনো ফাইলই সই হয় না।

হাট-বাজার ও জলমহাল ইজারা নিয়ে হরিলুট উপজেলার ৩২টি হাট-বাজার ও জলমহাল ইজারা প্রদানের ক্ষেত্রেও জাহাঙ্গীর আলম চরম অনিয়ম করেছেন। ১৪৩১ বঙ্গাব্দে নিজ বন্ধু সুজন শিকদারকে ১৮টি বড় হাট ইজারা দিলেও সরকারি কোষাগারে কোনো টাকা জমা না দিয়ে বকেয়া রেখেছেন। এই সুজন শিকদার ৪ আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা মামলার অন্যতম আসামি হওয়া সত্ত্বেও জাহাঙ্গীরের আশীর্বাদে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এছাড়া হাট-বাজারের ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্প দেখিয়ে কয়েক কোটি সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে তার ও সাবেক ইউএনও শাহিনুর আক্তারের বিরুদ্ধে।

বিগত সরকারের দোসর ও তথ্য পাচারের অভিযোগ স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়েও জাহাঙ্গীর আলম প্রশাসনের ভেতরে বসে অন্তর্ঘাতী মূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। তিনি গোপনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কাছে সরকারি তথ্য ফাঁস করছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এমনকি তার পরিবারের সদস্যরা আওয়ামী লীগের সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত এবং বর্তমানে পলাতক সাবেক এমপির ঘনিষ্ঠ লোক হিসেবে পরিচিত।

প্রকল্প ও উন্নয়ন খাতের অর্থ আত্মসাৎ ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সেলাই মেশিন, ফুটবল ও স্প্রে মেশিন ক্রয়ের নাম করে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। এছাড়া উপজেলা পরিষদের প্রাচীর নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ লক্ষ টাকা এবং অপ্রত্যাশিত খাত থেকে আরও ৫০ লক্ষ টাকা কোনো কাজ না করেই উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি পরিষদের তিনটি পুকুর এবং ঐতিহাসিক রাজা সীতারাম রায়ের রাজবাড়ীর পুকুরের প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে জমা দেননি তিনি।

অঢেল সম্পদের মালিক ‘গরুর দালালের’ ছেলে অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০ বছর আগে জাহাঙ্গীরের বাবার কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পদ না থাকলেও বর্তমানে ছেলের অবৈধ টাকায় মাগুরা সদরের সোনপুর ও শাওলাডাঙ্গায় ৩০ একরের বেশি জমি ক্রয় করেছেন। এছাড়া মাগুরা শহরের তাঁতীপাড়া ও পাল্লা পূর্বপাড়ায় তার দুটি ৬ তলা বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। অথচ তার বাবার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই।

জনগণের দাবি জাহাঙ্গীর আলমের এই লাগামহীন দুর্নীতির বিষয়ে ইতিপূর্বে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের ভেতরের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার কারণে তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন। বর্তমানে মহম্মদপুরের সচেতন জনতা ও এলাকাবাসী এই দুর্নীতিবাজ কর্মচারীর দ্রুত অপসারণ, বিভাগীয় তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য অফিস সহকারী কাম নাজির জনাব মো: জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেনি।