ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ শেষ হচ্ছে অপেক্ষা, বৃহস্পতিবার প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ চিকিৎসা শিক্ষার বিকাশে আট দশক ধরে অবদান রেখে চলেছে ঢামেক : প্রধানমন্ত্রী ১০ নম্বর জার্সি কোনোদিনই পেতেন না মেসি, কী ঘটেছিল তখন? ভূমি দখল ও আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত আলী আফজাল রোনালদোর বিদায়ের মধ্যেই মেসির স্ত্রীকে জর্জিনার উপহার সরকারি চাকরিতে ৫ লাখ পদে নিয়োগ নিয়ে সুখবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে যা বললেন ভোক্তা অধিকারের জব্বার মণ্ডল সংবাদ প্রকাশের পর কালুখালীর অসহায় রাসেল মণ্ডলের পাশে উপজেলা প্রশাসন গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের
সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

জ্বালানি নিয়ে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাব কাজ করছি

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানির প্রকৃত চাহিদা বাড়েনি। জনগণের মধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাব কাজ করছি। 

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সংসদে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। এই অভিঘাত বাংলাদেশের ওপরও এসে পৌঁছেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সঠিক সময়ে কার্যকর প্রস্তুতি নিয়েছি।

মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জ্বালানি সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন। ৩০ মার্চ পর্যন্ত সেই মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার টন। গত ৪১ দিনে দেশে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিপুল বিক্রির পরেও মজুত বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে, সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও আমদানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুদৃঢ়।

পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক। মাত্র ৬.৭৭ শতাংশ ব্যবহৃত অকটেনের জন্য ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘ লাইন পুরো জ্বালানি ব্যবস্থার সঠিক চিত্র নয়।

অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যাবে আরও ৩ হাজার টন। অকটেনের মাসিক চাহিদা ৩৫ হাজার টন হলেও বর্তমানে যে মজুত ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে আগামী দুই মাসের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বিশ্বের অনেক দেশ জ্বালানি সংকটে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও বাংলাদেশে পরিবহন, শিক্ষা ও শিল্প-কারখানা সচল রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। অনেক প্রতিবেশী দেশে ২৫ শতাংশের বেশি দাম বাড়লেও আমরা জনগণের স্বার্থে দাম স্থিতিশীল রেখেছি। কারণ দাম বাড়লে কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করুন এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় থেকে বিরত থাকুন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেড় বিলিয়ন ডলার আকুর বিল পরিশোধ, কমলো রিজার্ভ

সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

জ্বালানি নিয়ে জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে নিরলসভাব কাজ করছি

আপডেট সময় ০৮:২৭:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানির প্রকৃত চাহিদা বাড়েনি। জনগণের মধ্যে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা বিদ্যমান রয়েছে। জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাব কাজ করছি। 

সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে সংসদে ৩০০ বিধিতে বক্তব্য দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

বিশ্বের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়েছে। এই অভিঘাত বাংলাদেশের ওপরও এসে পৌঁছেছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সঠিক সময়ে কার্যকর প্রস্তুতি নিয়েছি।

মন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর জ্বালানি সরবরাহ আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বর্তমান সরকার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করে, তখন ডিজেলের মজুত ছিল ২ লাখ ৬ হাজার টন। ৩০ মার্চ পর্যন্ত সেই মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার টন। গত ৪১ দিনে দেশে ৪ লাখ ৮২ হাজার টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিপুল বিক্রির পরেও মজুত বৃদ্ধি পাওয়া প্রমাণ করে যে, সরকারের আগাম প্রস্তুতি ও আমদানি ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত সুদৃঢ়।

পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ব্যবহৃত জ্বালানির ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যার সরবরাহ স্বাভাবিক। মাত্র ৬.৭৭ শতাংশ ব্যবহৃত অকটেনের জন্য ফিলিং স্টেশনের দীর্ঘ লাইন পুরো জ্বালানি ব্যবস্থার সঠিক চিত্র নয়।

অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে ৫০ হাজার টন অকটেন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যাবে আরও ৩ হাজার টন। অকটেনের মাসিক চাহিদা ৩৫ হাজার টন হলেও বর্তমানে যে মজুত ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে আগামী দুই মাসের চাহিদা পূরণ সম্ভব।

বিশ্বের অনেক দেশ জ্বালানি সংকটে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও বাংলাদেশে পরিবহন, শিক্ষা ও শিল্প-কারখানা সচল রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। অনেক প্রতিবেশী দেশে ২৫ শতাংশের বেশি দাম বাড়লেও আমরা জনগণের স্বার্থে দাম স্থিতিশীল রেখেছি। কারণ দাম বাড়লে কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যায়।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় রোধ করুন এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় থেকে বিরত থাকুন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এই পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারব।