চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের লোভনীয় ধূমঘাট বনজদ্রব্য চেক স্টেশনে বদলীকে কেন্দ্র করে বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম এবং ডেপুটি রেঞ্জার মো. শামীম রেজার মধ্যে ২০ লক্ষ টাকার বিশাল অংকের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, দীর্ঘ সময় ধরে বন বিভাগে কর্মরত থেকে শামীম রেজা বিভিন্ন রেঞ্জে উন্নয়নমূলক কাজের টাকা আত্মসাৎ করে এক বিতর্কিত নজির সৃষ্টি করেছেন। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের হাছনাবাদ রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এফসিভি সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও ঋণের টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তৎকালীন ডিএফও এস এম কায়চার নিজের পকেট থেকে মেটাতে বাধ্য হন। এরপর উপকূলীয় বন বিভাগের কুতুবদিয়া রেঞ্জে থাকাকালীন ২০২১-২২ অর্থবছরে মাচাং টাইপ ব্যারাক মেরামতের নামে বরাদ্দকৃত ১৪ লক্ষ টাকা এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে মাটি ভরাট ও অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের ১০ লক্ষ টাকা কোনো কাজ না করেই ভুয়া বিলের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন তিনি।
শামীম রেজাকে পরবর্তীতে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগে বদলি করা হলে তার উত্তরসূরি মো. আব্দুর রাজ্জাক একাধিক অনিয়ম চিহ্নিত করে ডিএফওর কাছে প্রতিবেদন দাখিল করলেও রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ উঠেছে যে, বন সংরক্ষক মোল্যা রেজাউল করিম এবং ডিএফও এম এ হাসানের প্রত্যক্ষ মদতে শামীম রেজা পার পেয়ে যাচ্ছেন এবং উচ্চমূল্যে পদায়ন বাগিয়ে নিচ্ছেন।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের সাথে আলাপকালে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে জানান যে, মূলত বন সংরক্ষকের বিশেষ সুপারিশেই শামীম রেজাকে এই গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে পদায়ন করা হয়েছে, যা বন বিভাগে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ারই নামান্তর।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























