ঢাকা ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি? নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা পোষা পাখি মরে যাওয়ায় কান্না, শাসন করায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত বড় ভাই মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁ’জা গাছ ও ই’য়া’বা উদ্ধার চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’র ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সিলেটে বারবার অভিযান সত্ত্বেও খাস জমি ও চা বাগানের পাহাড় কেটে অবৈধ প্লট তৈরি বসতি নির্মান—প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে ক্ষোভ

সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায় সরকারি খাস জমি ও চা বাগানের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একাধিক অভিযানের পরও প্রভাবশালী একটি চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত শাহপরান থানাধীন দেবপুর মৌজা (জে এল নং-৯৬৮১), বহর মৌজা (জে এল নং-৭০) এবং খাদিমনগর মৌজা (জে এল নং-৭১)-এর অন্তর্গত বিস্তীর্ণ সরকারি খাস জমি ও খাদিম চা বাগানের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল চলছে। এসব এলাকায় পাহাড়, টিলা, বনভূমি, ছড়া, নালা ও পতিত জমি কেটে প্লট তৈরি করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র ভুয়া দলিল তৈরি ও মামলার আড়ালে এসব জমি দখল করে নিজেদের নামে বিক্রি করছে। দখলকৃত জমিতে দ্রুত গতিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্লট বিক্রিও চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দখলদাররা নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে জমি দখল নিশ্চিত করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে বহর কলোনির কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক দখল এবং পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগও উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে বসতি নির্মাণ শুধু পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি করছে।

এদিকে, স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি একাধিকবার জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, ইউএনও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

সিলেটে বারবার অভিযান সত্ত্বেও খাস জমি ও চা বাগানের পাহাড় কেটে অবৈধ প্লট তৈরি বসতি নির্মান—প্রশাসনের নীরবতায় বাড়ছে ক্ষোভ

আপডেট সময় ১০:৫০:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর এলাকায় সরকারি খাস জমি ও চা বাগানের জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। একাধিক অভিযানের পরও প্রভাবশালী একটি চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

জানা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩৩, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত শাহপরান থানাধীন দেবপুর মৌজা (জে এল নং-৯৬৮১), বহর মৌজা (জে এল নং-৭০) এবং খাদিমনগর মৌজা (জে এল নং-৭১)-এর অন্তর্গত বিস্তীর্ণ সরকারি খাস জমি ও খাদিম চা বাগানের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল চলছে। এসব এলাকায় পাহাড়, টিলা, বনভূমি, ছড়া, নালা ও পতিত জমি কেটে প্লট তৈরি করে বসতি গড়ে তোলা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ প্রভাবশালী চক্র ভুয়া দলিল তৈরি ও মামলার আড়ালে এসব জমি দখল করে নিজেদের নামে বিক্রি করছে। দখলকৃত জমিতে দ্রুত গতিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্লট বিক্রিও চলছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দখলদাররা নিজেদের লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার করে জমি দখল নিশ্চিত করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই চক্রের সঙ্গে বহর কলোনির কিছু অসাধু ব্যক্তি জড়িত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, জোরপূর্বক দখল এবং পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগও উঠেছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে পাহাড় ও টিলা কেটে বসতি নির্মাণ শুধু পরিবেশের জন্য হুমকি নয়, বরং ভবিষ্যতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি করছে।

এদিকে, স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি একাধিকবার জেলা প্রশাসক, এসিল্যান্ড, ইউএনও এবং পরিবেশ অধিদপ্তরে জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।