ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁই ছুঁই। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে থাই, টার্কিশ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তিন থেকে চারগুণ। টিকিটের এই অগ্নিমূল্যের কারণে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের, বেড়েছে ভোগান্তিও।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ, সৌদি, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার এরাবিয়া, ফ্লাই দুবাই, গালফ এয়ার, জর্ডান এভিয়েশন, ওমান এয়ার এবং মিডল ইস্ট এয়ারলাইন্স বেশ পরিচিত। এই বিমান সংস্থাগুলো আধুনিক বহর ও উচ্চমানের পরিষেবার জন্য পরিচিত, যা আমেরিকা, কানাডা, লন্ডন, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় সংযোগ স্থাপন করে।

আমেরিকা-ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তারপর থেকেই ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর।

তথ্য অনুসারে, যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত মোট বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা ৫৫৭। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চারটি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও। এমন সিদ্ধান্তে ভোগান্তি আরও বড় আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য।

আকাশপথে ভ্রমণকারীরা যখন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে চিন্তিত-বিপর্যস্ত, তখনই তাদের ঘাড়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া চাপিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট করে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি ‘গ্রুপ বুকিং’-এর নামে টিকিট ব্লক করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, যা দাম বাড়ার প্রধান কারণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে বিমানের টিকিটের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সেখানে থাই এয়ারওয়েজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা চেরডচোম থেতসাথিরাসাক জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ভ্রমণ পরিকল্পনা সরিয়ে নেওয়া যাত্রীদের কারণে ‘অতিরিক্ত’ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

চলতি মাসে ইউরোপগামী অধিকাংশ ফ্লাইটে আসনের প্রায় ৯০ শতাংশই পূর্ণ ছিল। এর অর্থ, প্রায় সব ফ্লাইটই ভরা অবস্থায় উড়ছে। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে সংস্থাটির জ্বালানি সারচার্জও আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে রাখা উচিত। কারণ, সামনে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

শুধু থাই এয়ারওয়েজ নয়, একইভাবে টার্কিশ এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়েছে এবং অনেকে বাড়াবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দুই সপ্তাহে ইউরোপের রুটসহ অন্যান্য গন্তব্যের টিকিট অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাবে এবং দাম বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিমান সংস্থা এরই মধ্যে টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা যাচাই করছে, যাত্রীরা কতটা বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে প্রস্তুত।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট কিরবি বার্তা সংস্থা সিএনবিসিকে জানান, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব খুব দ্রুতই বিমানের ভাড়ায় পড়তে পারে এবং এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সাবেক নির্বাহী রব ব্রিটন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত বিমান ভাড়াও বাড়ে। তার মতে, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ে, টিকিটের দামও প্রায় একই অনুপাতে বাড়তে পারে।

তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লেই সবসময় বিমান সংস্থাগুলো পুরো বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে যারা জুন বা জুলাই মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের আগে থেকেই টিকিট বুক করে রাখা ভালো।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

আপডেট সময় ১২:৩৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রুটে শত শত ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁই ছুঁই। অভিযোগ উঠেছে, এই সুযোগে থাই, টার্কিশ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তিন থেকে চারগুণ। টিকিটের এই অগ্নিমূল্যের কারণে বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের, বেড়েছে ভোগান্তিও।

মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, ইতিহাদ, সৌদি, কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার এরাবিয়া, ফ্লাই দুবাই, গালফ এয়ার, জর্ডান এভিয়েশন, ওমান এয়ার এবং মিডল ইস্ট এয়ারলাইন্স বেশ পরিচিত। এই বিমান সংস্থাগুলো আধুনিক বহর ও উচ্চমানের পরিষেবার জন্য পরিচিত, যা আমেরিকা, কানাডা, লন্ডন, ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকায় সংযোগ স্থাপন করে।

আমেরিকা-ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তারপর থেকেই ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর।

তথ্য অনুসারে, যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত মোট বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা ৫৫৭। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চারটি রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট স্থগিত করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও। এমন সিদ্ধান্তে ভোগান্তি আরও বড় আকার ধারণ করেছে বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য।

আকাশপথে ভ্রমণকারীরা যখন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে চিন্তিত-বিপর্যস্ত, তখনই তাদের ঘাড়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়া চাপিয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি। অভিযোগ রয়েছে, কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট করে অনেক ট্রাভেল এজেন্সি ‘গ্রুপ বুকিং’-এর নামে টিকিট ব্লক করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, যা দাম বাড়ার প্রধান কারণ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, থাই এয়ারওয়েজ ইন্টারন্যাশনাল বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে বিমানের টিকিটের দাম ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াবে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। সেখানে থাই এয়ারওয়েজের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা চেরডচোম থেতসাথিরাসাক জানান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপে ভ্রমণ পরিকল্পনা সরিয়ে নেওয়া যাত্রীদের কারণে ‘অতিরিক্ত’ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

চলতি মাসে ইউরোপগামী অধিকাংশ ফ্লাইটে আসনের প্রায় ৯০ শতাংশই পূর্ণ ছিল। এর অর্থ, প্রায় সব ফ্লাইটই ভরা অবস্থায় উড়ছে। তিনি আরও বলেন, তেলের দাম যদি আরও বাড়তে থাকে, তাহলে সংস্থাটির জ্বালানি সারচার্জও আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

যাত্রীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের যত দ্রুত সম্ভব টিকিট কেটে রাখা উচিত। কারণ, সামনে ভাড়া আরও বাড়তে পারে।

শুধু থাই এয়ারওয়েজ নয়, একইভাবে টার্কিশ এয়ারওয়েজ, মালয়েশিয়ান এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান তাদের টিকিটের দাম বাড়িয়েছে এবং অনেকে বাড়াবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দুই সপ্তাহে ইউরোপের রুটসহ অন্যান্য গন্তব্যের টিকিট অত্যন্ত সীমিত হয়ে যাবে এবং দাম বাড়বে। এই পরিস্থিতিতে অনেক বিমান সংস্থা এরই মধ্যে টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা যাচাই করছে, যাত্রীরা কতটা বাড়তি ভাড়া মেনে নিতে প্রস্তুত।

সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্কট কিরবি বার্তা সংস্থা সিএনবিসিকে জানান, তেলের দাম বাড়ার প্রভাব খুব দ্রুতই বিমানের ভাড়ায় পড়তে পারে এবং এয়ারলাইন্সগুলো তাদের ব্যবসায়িক কৌশলেও পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আমেরিকান এয়ারলাইন্সের সাবেক নির্বাহী রব ব্রিটন বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণত বিমান ভাড়াও বাড়ে। তার মতে, জ্বালানির দাম যে হারে বাড়ে, টিকিটের দামও প্রায় একই অনুপাতে বাড়তে পারে।

তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লেই সবসময় বিমান সংস্থাগুলো পুরো বাড়তি খরচ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে যারা জুন বা জুলাই মাসে ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের আগে থেকেই টিকিট বুক করে রাখা ভালো।