ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

আত্রাইয়ে এবারে ঈদ বাজারে বাজেটের চেয়ে দাম বেশি পছন্দের পোশাকের

নওগাঁর আত্রাই ঈদ মার্কেট গুলোতে বাজেটের তুলনায় পছন্দের পোষাকের দাম অনেক বেশি। তাই বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উপজেলা সদরে নাহার প্লাজার ‘ বস্ত্র বিতান থেকে দুই মেয়ের জন্য ১৫০০ টাকা দামের জর্জেট পার্টি ড্রেস, ছেলের বউয়ের জন্য ৮৫০ টাকা দিয়ে থ্রিপিচ কেনেন এমরান সরদার। বাজেট ঘাটতির কারণে নিজের ও স্ত্রীর জন্য কেনাকাটা করা হয়নি তার। এমরান জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়ে বাড়তি কেনাকাটা করা অনেকটাই কষ্টের। তার মতো নিম্ন আয়ের মানুষ রায়হান আলী। লেডিস কর্নার এন্ড ফ্যাশন গ্যালারী থেকে ৫০০শ ও ২৫০শ টাকা দিয়ে ৫ বছর ও আড়াই বছর বয়সের ছেলেমেয়ের জন্য পোষাক কিনে বাড়ি ফিরেন।

কথা হলে তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি দামে পোষাক কিনেছেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সব ধরনের পোষাকের দাম এবার বাড়েনি। বিগত বছরগুলোয় রমজানের শুরু থেকে ঈদের কেনাকাটা চললেও এবার রমজান শুরুর পর থেকে বেচা বিক্রি হচ্ছিল না। উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতার সংখ্যা অনেকটায় বেশি।

ভবানীপুর বাজারের ভাই ভাই শপিং কমপ্লেক্সের এর স্বত্বাধিকারী বাবর আলী শেখ ও মেসার্স জননী বস্তবিতান স্বত্বাধিকারী চঞ্চল হোসেন সহ বিভিন্ন বস্ত্র বিতানের মালিকরা জানান, ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে শিশু থেকে সব বয়সী মানুষের বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক তুলেছেন তারা। খদ্দের সামাল দিতে বাড়িয়েছেন কর্মচারির সংখ্যাও।

গত ১৫ রমজানের পর থেকে বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে বাচ্চাদের, যুবক যুবতীদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। শেষের দিকে আরো বাড়তে পারে বলে আশা তাদের। শনিবার সরকারি ছুটির দিনে উপজেলার সদরের পোশাক বাজার ও ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ইন্ডিয়ান, চায়না পোষাকের পাশাপাশি পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশি। তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দামের তানাপানা শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা বেশি দামে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের ডিজিটাল প্রিন্ট শাড়ি, পাকিস্তানি থ্রিপিচ-কর্টন, কোর পিন,ওড়না, হিজাব,কোয়ালিটি ভেদে বাচ্চাদের পায়জামা, জামা ওড়না, গাবারা, সাবারা, পার্টি ড্রেস (জরজেট) সুতির ফ্লগ, গাউন, ছেলেদের টি শার্ট, কারকো প্যান্ট, জামাই প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট, ইন্ডিয়ান মেগনেট ফুল হাতা শার্ট।

মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা দামের গাউন, সুতির ফ্রগ, ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের পার্টি ড্রেস, দেড় হাজার থেকে ৩০০০ টাকা দামের জামা,পায়জামা, ওড়না বেশি কিনছেন। দেড় হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দামের শীল কাতান, দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের কান্তি বরন, ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা দামের পাখী শাড়ির ক্রেতা কম।

উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজারের কিছু ব্যবসায়ী জানান, শিশু থেকে সব বয়সের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দেশী কাপড়ের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান, পাকিস্তান, চায়নাসহ শতাধিক ব্র্যান্ডের বিভিন্ন দামের বাহারি নামের পোষাক তুলেছেন। বড়দের ১৫০০ থেকে ৪৫০০

দামের চায়না গেঞ্জি-টিশার্ট, ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের ফুলহাতা রিচ কালেকশন শার্ট, ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার ফুলহাতা শার্ট, ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা দামের সুলতানি পাঞ্জাবি, ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা দামের কাবলি সেট, শেখশাদি পাঞ্জাবি ছাড়াও ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দামের গাবারা, সাবারা, ২৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা দামের কাতান শাড়ি, ৩৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকার লেহাংগা থ্রিপিচ, ৩০০০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা দামের টিসু কাতান, ৩৫০০ টাকার চন্দ্রি গাউন, ছোটদের ১০০০ হাজার থেকে ১৬০০ টাকা দামের রানি ফ্রক, ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দামের সুতি ফ্রক, ৭০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের লেহেঙ্গা রয়েছে।

গার্মেন্টস দোকানী আসলাম হোসেন জানান, প্রতিযোগিতার যুগে কোনো খদ্দের ফেরত না যায়, সেজন্য সব ধরনের পোষাকসহ কর্মচারির সংখ্যাও বাড়িয়েছেন। খরচের হিসাবে বেচাকেনা ভালো না হলে টিকে থাকা মুশকিল হবে। ভবানীপুর বাজার বর্ণিক সমিতির সভাপতি আরিফুজ্জামান লেবু বলেন, কর্মহীন মানুষগুলোকে আগে ডাল-ভাতের জন্য যুদ্ধ করতে হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব মানুষ কিভাবে কেনাকাটা করবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকে। তার পরেও এবার কৃষকের আলু-পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।

ভবানীপুর বাজারের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী শামিম হোসেন জানান, পোষাকের সঙ্গে মানানসই জুতা-সেন্ডেল ও কসমেটিক্স কেনার বিষয়টি মাথায় রেখে ক্রেতাদের ভিড় থাকে। দাম না বাড়লেও এবার বেচা কেনা ভালো হচ্ছে।#

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

আত্রাইয়ে এবারে ঈদ বাজারে বাজেটের চেয়ে দাম বেশি পছন্দের পোশাকের

আপডেট সময় ০৪:০৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই ঈদ মার্কেট গুলোতে বাজেটের তুলনায় পছন্দের পোষাকের দাম অনেক বেশি। তাই বাজেটের সঙ্গে সমন্বয় রেখে উপজেলা সদরে নাহার প্লাজার ‘ বস্ত্র বিতান থেকে দুই মেয়ের জন্য ১৫০০ টাকা দামের জর্জেট পার্টি ড্রেস, ছেলের বউয়ের জন্য ৮৫০ টাকা দিয়ে থ্রিপিচ কেনেন এমরান সরদার। বাজেট ঘাটতির কারণে নিজের ও স্ত্রীর জন্য কেনাকাটা করা হয়নি তার। এমরান জানান, দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালিয়ে বাড়তি কেনাকাটা করা অনেকটাই কষ্টের। তার মতো নিম্ন আয়ের মানুষ রায়হান আলী। লেডিস কর্নার এন্ড ফ্যাশন গ্যালারী থেকে ৫০০শ ও ২৫০শ টাকা দিয়ে ৫ বছর ও আড়াই বছর বয়সের ছেলেমেয়ের জন্য পোষাক কিনে বাড়ি ফিরেন।

কথা হলে তারা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি দামে পোষাক কিনেছেন।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সব ধরনের পোষাকের দাম এবার বাড়েনি। বিগত বছরগুলোয় রমজানের শুরু থেকে ঈদের কেনাকাটা চললেও এবার রমজান শুরুর পর থেকে বেচা বিক্রি হচ্ছিল না। উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষের তুলনায় নারী ক্রেতার সংখ্যা অনেকটায় বেশি।

ভবানীপুর বাজারের ভাই ভাই শপিং কমপ্লেক্সের এর স্বত্বাধিকারী বাবর আলী শেখ ও মেসার্স জননী বস্তবিতান স্বত্বাধিকারী চঞ্চল হোসেন সহ বিভিন্ন বস্ত্র বিতানের মালিকরা জানান, ঈদে ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে শিশু থেকে সব বয়সী মানুষের বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক তুলেছেন তারা। খদ্দের সামাল দিতে বাড়িয়েছেন কর্মচারির সংখ্যাও।

গত ১৫ রমজানের পর থেকে বেচাকেনা কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে বাচ্চাদের, যুবক যুবতীদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে। শেষের দিকে আরো বাড়তে পারে বলে আশা তাদের। শনিবার সরকারি ছুটির দিনে উপজেলার সদরের পোশাক বাজার ও ফ্যাশন হাউসগুলো ঘুরে দেখা গেছে, ইন্ডিয়ান, চায়না পোষাকের পাশাপাশি পাকিস্তানি পোশাকের চাহিদা বেশি। তিন হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা দামের তানাপানা শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা বেশি দামে। বেশি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের ডিজিটাল প্রিন্ট শাড়ি, পাকিস্তানি থ্রিপিচ-কর্টন, কোর পিন,ওড়না, হিজাব,কোয়ালিটি ভেদে বাচ্চাদের পায়জামা, জামা ওড়না, গাবারা, সাবারা, পার্টি ড্রেস (জরজেট) সুতির ফ্লগ, গাউন, ছেলেদের টি শার্ট, কারকো প্যান্ট, জামাই প্যান্ট, জিন্স প্যান্ট, ইন্ডিয়ান মেগনেট ফুল হাতা শার্ট।

মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা দামের গাউন, সুতির ফ্রগ, ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের পার্টি ড্রেস, দেড় হাজার থেকে ৩০০০ টাকা দামের জামা,পায়জামা, ওড়না বেশি কিনছেন। দেড় হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দামের শীল কাতান, দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা দামের কান্তি বরন, ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা দামের পাখী শাড়ির ক্রেতা কম।

উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজারের কিছু ব্যবসায়ী জানান, শিশু থেকে সব বয়সের ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দেশী কাপড়ের পাশাপাশি ইন্ডিয়ান, পাকিস্তান, চায়নাসহ শতাধিক ব্র্যান্ডের বিভিন্ন দামের বাহারি নামের পোষাক তুলেছেন। বড়দের ১৫০০ থেকে ৪৫০০

দামের চায়না গেঞ্জি-টিশার্ট, ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের ফুলহাতা রিচ কালেকশন শার্ট, ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকার ফুলহাতা শার্ট, ১৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা দামের সুলতানি পাঞ্জাবি, ৯০০ থেকে ১২০০ টাকা দামের কাবলি সেট, শেখশাদি পাঞ্জাবি ছাড়াও ৫০০ টাকা থেকে ৬ হাজার টাকা দামের গাবারা, সাবারা, ২৫০০ থেকে ১০ হাজার টাকা দামের কাতান শাড়ি, ৩৫০০ থেকে ১২ হাজার টাকার লেহাংগা থ্রিপিচ, ৩০০০ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা দামের টিসু কাতান, ৩৫০০ টাকার চন্দ্রি গাউন, ছোটদের ১০০০ হাজার থেকে ১৬০০ টাকা দামের রানি ফ্রক, ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা দামের সুতি ফ্রক, ৭০০ থেকে ২০০০ টাকা দামের লেহেঙ্গা রয়েছে।

গার্মেন্টস দোকানী আসলাম হোসেন জানান, প্রতিযোগিতার যুগে কোনো খদ্দের ফেরত না যায়, সেজন্য সব ধরনের পোষাকসহ কর্মচারির সংখ্যাও বাড়িয়েছেন। খরচের হিসাবে বেচাকেনা ভালো না হলে টিকে থাকা মুশকিল হবে। ভবানীপুর বাজার বর্ণিক সমিতির সভাপতি আরিফুজ্জামান লেবু বলেন, কর্মহীন মানুষগুলোকে আগে ডাল-ভাতের জন্য যুদ্ধ করতে হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব মানুষ কিভাবে কেনাকাটা করবে, তা নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকে। তার পরেও এবার কৃষকের আলু-পেঁয়াজের দাম পড়ে গেছে।

ভবানীপুর বাজারের কসমেটিক্স ব্যবসায়ী শামিম হোসেন জানান, পোষাকের সঙ্গে মানানসই জুতা-সেন্ডেল ও কসমেটিক্স কেনার বিষয়টি মাথায় রেখে ক্রেতাদের ভিড় থাকে। দাম না বাড়লেও এবার বেচা কেনা ভালো হচ্ছে।#