ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন্যার পানিতে যান চলাচল বন্ধ, সাজেকে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাকিস্তানের জোরালো সমর্থন চায় বাংলাদেশ চাকরি হারানো ১৬২ সৈনিক পাচ্ছেন ভূতাপেক্ষ সুযোগ-সুবিধা বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক হাফিজ ইব্রাহিম কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মনোনীত ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মারুফ ইব্রাহিম আর্জেন্টিনার জয়ের আনন্দে অতিরিক্ত জর্দা খেয়ে ভ্যানচালকের মৃত্যু গণভোটের রায় ও সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে দেশে কোনো পরিবর্তন হবে না চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত ইরানের তেল রপ্তানিতে আবারও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রেফারির বিরুদ্ধে ফিফার কাছে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ দিল মিশর জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি চলছে : ইসি সানাউল্লাহ

সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। বিশেষ করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ও রোববার সকালের দিকে জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ধানখেতের গাছ নুয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। আর মাসখানেক পরই কষ্টের ফলানো এই ধান গোলায় তোলার কথা কৃষকদের। এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

হাওরপারের অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে গিয়ে ধানের অবস্থা দেখছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শিলাবৃষ্টি বাড়লে ধানের শিষ ভেঙে যেতে পারে এবং গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে।

দিরাই উপজেলার মাইট্টাপুর গ্রামের কৃষক মুতালিব উল্লা জানান, সারা বছর আমরা এই বোরো ধানের অপেক্ষায় থাকি। অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। এখন যদি শিলাবৃষ্টি বেশি হয় তাহলে বড় অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের কৃষক শফিক আহমেদ বলেন, ধানের শিষ আসতে শুরু করেছে মাত্র এই সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ধান মাটিতে পড়ে যায়। তখন ফলন অনেক কমে যাবে। তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জামালগঞ্জ উপজেলার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, নিজের কোনো জমি নাই, অন্যের জমিতে আবাদ করেছি। গত রাত ও আজকে সকালে এই দুই দিনে যে পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবার ধান কতটুকু হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন্যার পানিতে যান চলাচল বন্ধ, সাজেকে ৫ শতাধিক পর্যটক আটকা

সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট সময় ০৪:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। বিশেষ করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ও রোববার সকালের দিকে জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ধানখেতের গাছ নুয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। আর মাসখানেক পরই কষ্টের ফলানো এই ধান গোলায় তোলার কথা কৃষকদের। এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

হাওরপারের অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে গিয়ে ধানের অবস্থা দেখছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শিলাবৃষ্টি বাড়লে ধানের শিষ ভেঙে যেতে পারে এবং গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে।

দিরাই উপজেলার মাইট্টাপুর গ্রামের কৃষক মুতালিব উল্লা জানান, সারা বছর আমরা এই বোরো ধানের অপেক্ষায় থাকি। অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। এখন যদি শিলাবৃষ্টি বেশি হয় তাহলে বড় অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের কৃষক শফিক আহমেদ বলেন, ধানের শিষ আসতে শুরু করেছে মাত্র এই সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ধান মাটিতে পড়ে যায়। তখন ফলন অনেক কমে যাবে। তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জামালগঞ্জ উপজেলার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, নিজের কোনো জমি নাই, অন্যের জমিতে আবাদ করেছি। গত রাত ও আজকে সকালে এই দুই দিনে যে পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবার ধান কতটুকু হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।