ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। বিশেষ করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ও রোববার সকালের দিকে জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ধানখেতের গাছ নুয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। আর মাসখানেক পরই কষ্টের ফলানো এই ধান গোলায় তোলার কথা কৃষকদের। এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

হাওরপারের অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে গিয়ে ধানের অবস্থা দেখছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শিলাবৃষ্টি বাড়লে ধানের শিষ ভেঙে যেতে পারে এবং গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে।

দিরাই উপজেলার মাইট্টাপুর গ্রামের কৃষক মুতালিব উল্লা জানান, সারা বছর আমরা এই বোরো ধানের অপেক্ষায় থাকি। অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। এখন যদি শিলাবৃষ্টি বেশি হয় তাহলে বড় অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের কৃষক শফিক আহমেদ বলেন, ধানের শিষ আসতে শুরু করেছে মাত্র এই সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ধান মাটিতে পড়ে যায়। তখন ফলন অনেক কমে যাবে। তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জামালগঞ্জ উপজেলার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, নিজের কোনো জমি নাই, অন্যের জমিতে আবাদ করেছি। গত রাত ও আজকে সকালে এই দুই দিনে যে পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবার ধান কতটুকু হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

সুনামগঞ্জে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি, ফসল নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

আপডেট সময় ০৪:০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জে দুই দিন ধরে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ ও শঙ্কা। বিশেষ করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ও রোববার সকালের দিকে জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় হঠাৎ করেই ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় শিলাবৃষ্টি। কয়েক মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অনেক জায়গায় ধানখেতের গাছ নুয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭ হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক ২ লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছেন। আর মাসখানেক পরই কষ্টের ফলানো এই ধান গোলায় তোলার কথা কৃষকদের। এর মধ্যেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত ও বিভিন্ন উপজেলায় শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

হাওরপারের অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে গিয়ে ধানের অবস্থা দেখছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শিলাবৃষ্টি বাড়লে ধানের শিষ ভেঙে যেতে পারে এবং গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে।

দিরাই উপজেলার মাইট্টাপুর গ্রামের কৃষক মুতালিব উল্লা জানান, সারা বছর আমরা এই বোরো ধানের অপেক্ষায় থাকি। অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। এখন যদি শিলাবৃষ্টি বেশি হয় তাহলে বড় অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের কৃষক শফিক আহমেদ বলেন, ধানের শিষ আসতে শুরু করেছে মাত্র এই সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ধান মাটিতে পড়ে যায়। তখন ফলন অনেক কমে যাবে। তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।

জামালগঞ্জ উপজেলার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, নিজের কোনো জমি নাই, অন্যের জমিতে আবাদ করেছি। গত রাত ও আজকে সকালে এই দুই দিনে যে পরিমাণ শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবার ধান কতটুকু হবে তা নিয়ে চিন্তায় আছি।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ধানের ক্ষতি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।