ঢাকা ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী অনেককেই এখন চেনেন না ইলিয়াস কাঞ্চন, মনেও রাখতে পারেন না কেউ যদি আমাকে গালি দেয় তাহলে আমার গুনাহ মাফ হবে: জামায়াত আমির  তরুণরা নেতৃত্ব দিলে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন টেকসই হবে : তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মানবিক অঙ্গীকার ধারণ করে ড্যাব ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে দাঁড়াবে: ডা. জুবাইদা রহমান পে-স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বড় সুখবর ‘সাংবাদিকের লেখায় কিছু যায় আসে না!’ বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেতন-টিএ-ডিএ নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি শরীয়তপুরে কু’প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তরুণীকে চুরির অপবাদে নি’র্যা’তন, গ্রে’প্তার ২ কুমিল্লায় মোহনা টেলিভিশন অফিসে লুট: দুই আসামি গ্রেপ্তার সোনামসজিদ বন্দরে অবকাঠামো সংকট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি, সরকারের দৃষ্টি কামনা” আব্দুল ওয়াহেদর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির ১৯ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম তদন্তে ৩ মাসেও রিপোর্ট নেই

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভাগের প্রায় ১৯ কোটি টাকার তিনটি উন্নয়ন কাজের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ের অনেক পরেও জমা না দেওয়ায় তদন্তে কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানের দায়িত্বকালীন সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দুইটি উপজেলার তিনটি প্যাকেজের উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৯ কোটি টাকার এসব প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) কাজী গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এলজিইডি) নোয়াখালী এ এস এম মহসীন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম।

তবে তদন্তের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও তিন মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তে ধীরগতি ও কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত রিপোর্টের অগ্রগতি জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় এলজিইডি কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিক উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে সেখান থেকে গেস্ট হাউসে চলে যান বলে জানা যায়।

তার কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আবারও তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ সময় তার কার্যালয়ের এক সহকারী জানান, কয়েকদিন আগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং বর্তমানে তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিস্তারিত বিষয় তিনি নিজেই বলতে পারবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে এলজিইডির বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলেও আলোচনা রয়েছে।

কিছু সূত্রের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির আলোচিত এই প্রকল্পের তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোববার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির ১৯ কোটি টাকার কাজে অনিয়ম তদন্তে ৩ মাসেও রিপোর্ট নেই

আপডেট সময় ০২:১৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বিভাগের প্রায় ১৯ কোটি টাকার তিনটি উন্নয়ন কাজের অনিয়ম তদন্তে গঠিত কমিটির রিপোর্ট নির্ধারিত সময়ের অনেক পরেও জমা না দেওয়ায় তদন্তে কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মান্নানের দায়িত্বকালীন সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দুইটি উপজেলার তিনটি প্যাকেজের উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১৯ কোটি টাকার এসব প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) কাজী গোলাম মোস্তফা স্বাক্ষরিত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে ঘটনাটি সরেজমিন তদন্ত করে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন—তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (এলজিইডি) নোয়াখালী এ এস এম মহসীন এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম।

তবে তদন্তের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও তিন মাস পার হয়ে গেলেও তদন্ত রিপোর্ট জমা না দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তে ধীরগতি ও কালক্ষেপণের অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত রিপোর্টের অগ্রগতি জানতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

পরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় এলজিইডি কার্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে তার সাথে দেখা করার চেষ্টা করা হয়। তবে সাংবাদিক উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি অফিস চলাকালীন সময়ে সেখান থেকে গেস্ট হাউসে চলে যান বলে জানা যায়।

তার কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে আবারও তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এ সময় তার কার্যালয়ের এক সহকারী জানান, কয়েকদিন আগে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং বর্তমানে তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ চলছে। বিস্তারিত বিষয় তিনি নিজেই বলতে পারবেন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

এদিকে এলজিইডির বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন নির্বাহী প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অতীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলেও আলোচনা রয়েছে।

কিছু সূত্রের দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডির আলোচিত এই প্রকল্পের তদন্ত রিপোর্ট দাখিলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।