সংবাদ শিরোনাম ::
বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ বড়লেখা-জুড়ীর নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান চাইলেন এমপি নাসির উদ্দিন আহমেদ শরীয়তপুরের জাজিরায় ককটেল বিস্ফোরণ: কবরস্থান থেকে  বালতি ভর্তি ককটেল উদ্ধার ঢাকা ওয়াসার মিটার রিডার থেকে কোটিপতি: ওয়াসা কর্মকর্তা হারুনের অ’বৈধ সম্পদের পাহাড় ফ্যাসিস্ট সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জামিল, প্রভাব খাটিয়ে আবারও চট্টগ্রাম ডিপোতে! খামারবাড়িতে কোটি টাকার বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ, কেন্দ্রে ‘ডিজি’ মাসুম বিল্লাহ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ৪ বিঘা জমি কিনে ৬৫ বিঘার প্রকল্প বিক্রি করছে ছুটি রিসোর্ট বাংলাদেশের স্কুলে বিতরণের জন্য ১ হাজার ফুটবল উপহার দিল পাকিস্তান আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশৃঙ্খলা করলে কঠোর ব্যবস্থা: র‌্যাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি শ্যামল কুমার মজুমদার ভোটার তালিকায় নাকি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রায়ই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনা হয়। এছাড়াও সরকারি আমলা ও ব্যবসায়ীদের ভিনদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার খবরও হরহামেশাই পাওয়া যায়। এবার এমনই এক ঘটনার তথ্য হাতে পেয়েছে এনপিবি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিজের নামে করিয়েছেন ভারতীয় আইডি কার্ড!

শ্যামল কুমার মজুমদার নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। ছড়িয়ে পড়া আইডি কার্ডটিতে দেখা যায়, কার্ডটি শ্যামল মজুমদার নামের এক ব্যক্তির, যার বাবার নাম তেজেন্দ্র মজুমদার। সচিত্র ভোটার পত্রে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুর। কার্ডটির এপিক নম্বর— XYV১০৮৬৬৫১।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত শ্যামল কুমার মজুমদারের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বলছে, তার বাবার নাম তেজেন্দ্র কুমার মজুমদার। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মগধরা এলাকায় স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করেছেন তিনি।

ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড ও বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিতে একই ব্যক্তিকে দেখা যায়, অর্থাৎ শ্যামল কুমার মজুমদার। পাশাপাশি পিতার নামের মূল অংশও মিল রয়েছে। শুধু ‘কুমার’ শব্দটি ভারতীয় কার্ডে নেই, যা বাংলাদেশের এনআইডিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংকপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শ্যামল কুমার মজুমদারের নামে ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ভোটার কার্ডটি।

বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫১-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী কোনো বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব হারাতে পারেন, যদি না সরকারিভাবে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি থাকে।

এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান এনপিবিকে বলেন, সরকারি চাকরি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও দায়বদ্ধতার প্রতীক। কোনো সরকারি কর্মচারী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে তা গোপন করলে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী তা চরম অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত শ্যামল কুমার মজুমদার বলেন, ‘ভারতীয় যে ভোটার কার্ডটির কথা বলছেন, সেটির কথা আমিও শুনেছি। অনেক দিন ধরে বিভিন্ন গ্রুপে এ নিয়ে ঝামেলা চলছে। আসলে এমন কিছুই নেই। এটি একটি ভুয়া জিনিস।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেইন খান বলেন, এমন কোনো বিষয় এখনো আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় ভোটার কার্ডটির সত্যতা নিশ্চিত করতে দেশটির নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বড়লেখায় কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার কৃষি উপকরণ বিতরণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের এডি শ্যামল কুমার মজুমদার ভোটার তালিকায় নাকি পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক

আপডেট সময় ০৯:৫২:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে প্রায়ই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনা হয়। এছাড়াও সরকারি আমলা ও ব্যবসায়ীদের ভিনদেশি নাগরিকত্ব নেওয়ার খবরও হরহামেশাই পাওয়া যায়। এবার এমনই এক ঘটনার তথ্য হাতে পেয়েছে এনপিবি। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিজের নামে করিয়েছেন ভারতীয় আইডি কার্ড!

শ্যামল কুমার মজুমদার নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে বইছে সমালোচনার ঝড়। ছড়িয়ে পড়া আইডি কার্ডটিতে দেখা যায়, কার্ডটি শ্যামল মজুমদার নামের এক ব্যক্তির, যার বাবার নাম তেজেন্দ্র মজুমদার। সচিত্র ভোটার পত্রে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার ব্যারাকপুর। কার্ডটির এপিক নম্বর— XYV১০৮৬৬৫১।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগে কর্মরত শ্যামল কুমার মজুমদারের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বলছে, তার বাবার নাম তেজেন্দ্র কুমার মজুমদার। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মগধরা এলাকায় স্থায়ী ঠিকানা উল্লেখ করেছেন তিনি।

ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ভোটার আইডি কার্ড ও বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিতে একই ব্যক্তিকে দেখা যায়, অর্থাৎ শ্যামল কুমার মজুমদার। পাশাপাশি পিতার নামের মূল অংশও মিল রয়েছে। শুধু ‘কুমার’ শব্দটি ভারতীয় কার্ডে নেই, যা বাংলাদেশের এনআইডিতে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংকপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে শ্যামল কুমার মজুমদারের নামে ছড়িয়ে পড়া ভারতীয় ভোটার কার্ডটি।

বাংলাদেশ সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫১-এর ধারা ১৪ অনুযায়ী কোনো বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় অন্য রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তিনি তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব হারাতে পারেন, যদি না সরকারিভাবে দ্বৈত নাগরিকত্বের অনুমতি থাকে।

এ বিষয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান এনপিবিকে বলেন, সরকারি চাকরি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও দায়বদ্ধতার প্রতীক। কোনো সরকারি কর্মচারী বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে তা গোপন করলে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী তা চরম অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং বিভাগীয় বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মরত শ্যামল কুমার মজুমদার বলেন, ‘ভারতীয় যে ভোটার কার্ডটির কথা বলছেন, সেটির কথা আমিও শুনেছি। অনেক দিন ধরে বিভিন্ন গ্রুপে এ নিয়ে ঝামেলা চলছে। আসলে এমন কিছুই নেই। এটি একটি ভুয়া জিনিস।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেইন খান বলেন, এমন কোনো বিষয় এখনো আমাদের নজরে আসেনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

ভারতীয় ভোটার কার্ডটির সত্যতা নিশ্চিত করতে দেশটির নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে দেখা যায়, নিরাপত্তাজনিত জটিলতার কারণে ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।