সংবাদ শিরোনাম ::
অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয় কালিহাতীতে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নারী ফুটবলারদের ‘অপহরণের’ অভিযোগ ইরানের

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নারীদের ‘দলত্যাগ’। এসব ঘটনার কারণে এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় আরও তীব্র হয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের। তার দাবি, এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ‘অপহৃত’ হয়েছেন নারী ফুটবলাররা।

ইরানিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে মেহদি তাজ বললেন, ‘বিশ্বকাপ যদি একইরকম হয়, তাহলে এমন জায়গায় জাতীয় দলকে পাঠানোর মানসিকতা কার থাকতে পারে?’ এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকো ও কানাডাতেও হবে। ইরান তাদের সব ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে, লস অ্যাঞ্জেলসে দুটি ও একটি সিয়াটলে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এদিকে দেশে ফিরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় এশিয়ান কাপের শেষ দিকে ইরানের কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের দাবি জানান। অধিনায়ক জাহরা গানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড়কে অন্ধকারের আঁধারে টিম হোটেল থেকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে এবং তাদেরকে দলত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

তাজের দাবি, ‘খেলার পর দুর্ভাগ্যবশত অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করে এবং হোটেল থেকে এক-দুজন খেলোয়াড়কে সরিয়ে নেয়, আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি।’ স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, পরে আরও দুজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে সরকার। ইরানের নারী ফুটবল দলের মোট সাত সদস্য দেশটিতে ঠাঁই পেয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের সময় ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীতের সময় চুপ থাকার কারণে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদেরকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করে। বাকি দুটি ম্যাচে প্রত্যেক খেলোয়াড় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে ঠোঁট মেলানোর পাশাপাশি স্যালুট দেন। তাজ বলেন, ইরান জাতীয় সংগীতের সময় তাদের কাজ ঠিকভাবে করেছে। তার কথা, ‘আমাদের জাতীয় দল জাতীয় সংগীত গেয়েছে। মিলিটারি স্যালুটও দিয়েছে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই নারী দলকে নিয়ে দুটি টুইট করে বলেছেন, ‘আমরা তাদের স্বাগত জানাই এবং তাদের উচিত অভিবাসী হওয়া। অস্ট্রেলিয়াকে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি তোমরা তাকে আশ্রয় না দাও আমি তাদেরকে দেবো। বিশ্বকাপ নিয়ে কীভাবে কেউ আশাবাদী হবে, যখন এটি আমেরিকায় হচ্ছে?’

দলের অন্য খেলোয়াড়রা যখন দেশে ফেরার বিমানে উঠবেন, তখন বিক্ষুব্ধ জনতা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের বাধা দেন। তাজ বললেন, ‘তারা গেটের সামনে তাদেরকে আটকে দেয় এবং প্রত্যেককে থেকে যেতে বলে।’

এদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে তার সঙ্গে ট্রাম্পের কথা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেছেন, ইরান বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নারী ফুটবলারদের ‘অপহরণের’ অভিযোগ ইরানের

আপডেট সময় ০৩:১২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে নারীদের ‘দলত্যাগ’। এসব ঘটনার কারণে এই গ্রীষ্মের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় আরও তীব্র হয়েছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্টের। তার দাবি, এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ‘অপহৃত’ হয়েছেন নারী ফুটবলাররা।

ইরানিয়ান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে মেহদি তাজ বললেন, ‘বিশ্বকাপ যদি একইরকম হয়, তাহলে এমন জায়গায় জাতীয় দলকে পাঠানোর মানসিকতা কার থাকতে পারে?’ এবারের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মেক্সিকো ও কানাডাতেও হবে। ইরান তাদের সব ম্যাচ খেলবে যুক্তরাষ্ট্রে, লস অ্যাঞ্জেলসে দুটি ও একটি সিয়াটলে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে দেশটির বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এদিকে দেশে ফিরে প্রাণনাশের আশঙ্কায় এশিয়ান কাপের শেষ দিকে ইরানের কয়েকজন খেলোয়াড় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়ের দাবি জানান। অধিনায়ক জাহরা গানবারিসহ পাঁচ খেলোয়াড়কে অন্ধকারের আঁধারে টিম হোটেল থেকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে এবং তাদেরকে দলত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়।

তাজের দাবি, ‘খেলার পর দুর্ভাগ্যবশত অস্ট্রেলিয়ান পুলিশ এসে হস্তক্ষেপ করে এবং হোটেল থেকে এক-দুজন খেলোয়াড়কে সরিয়ে নেয়, আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি।’ স্থানীয় গণমাধ্যমের খবর, পরে আরও দুজন সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার আবেদন করলে তা মঞ্জুর করে সরকার। ইরানের নারী ফুটবল দলের মোট সাত সদস্য দেশটিতে ঠাঁই পেয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের সময় ইরানের খেলোয়াড়রা জাতীয় সংগীতের সময় চুপ থাকার কারণে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তাদেরকে ‘যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক’ বলে অভিহিত করে। বাকি দুটি ম্যাচে প্রত্যেক খেলোয়াড় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে ঠোঁট মেলানোর পাশাপাশি স্যালুট দেন। তাজ বলেন, ইরান জাতীয় সংগীতের সময় তাদের কাজ ঠিকভাবে করেছে। তার কথা, ‘আমাদের জাতীয় দল জাতীয় সংগীত গেয়েছে। মিলিটারি স্যালুটও দিয়েছে।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দোষ দিয়ে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নিজেই নারী দলকে নিয়ে দুটি টুইট করে বলেছেন, ‘আমরা তাদের স্বাগত জানাই এবং তাদের উচিত অভিবাসী হওয়া। অস্ট্রেলিয়াকে তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি তোমরা তাকে আশ্রয় না দাও আমি তাদেরকে দেবো। বিশ্বকাপ নিয়ে কীভাবে কেউ আশাবাদী হবে, যখন এটি আমেরিকায় হচ্ছে?’

দলের অন্য খেলোয়াড়রা যখন দেশে ফেরার বিমানে উঠবেন, তখন বিক্ষুব্ধ জনতা গেটের সামনে দাঁড়িয়ে তাদের বাধা দেন। তাজ বললেন, ‘তারা গেটের সামনে তাদেরকে আটকে দেয় এবং প্রত্যেককে থেকে যেতে বলে।’

এদিকে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে তার সঙ্গে ট্রাম্পের কথা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আশ্বস্ত করেছেন, ইরান বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে গেলে তাদেরকে স্বাগত জানানো হবে।