ঢাকা ০২:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রমজানের শেষ দশকে পরিবারকে নিয়ে যেসব আমল করবেন কবর থেকে উত্তোলন করে অনলাইনে বিক্রি, তেজগাঁওয়ে মিলল ৪৭ মানব কঙ্কাল ‘আপনারা সাংবিধানিকভাবে দেশে ফিরে আসেন নাই।’ শিবগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস–২০২৬ উদযাপন নারী বিপিএলে চিটাগং দলের কোচিং স্টাফও চূড়ান্ত বিএনপি দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে : ড. মঈন খান ঘুস ছাড়া কাজ করেন না রাজাপুর এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা বিটিভির প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে মনিরুল: গোয়েন্দা প্রতিবেদন উপেক্ষা করে পদোন্নতির পাঁয়তারা ফরিদপুর জেলা রেজিস্ট্রার শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি করে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ার অভিযোগ

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানী বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, অর্থনীতির সুফল সব মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মাথায় রেখে এমন সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া সহজ নয়, তবে আমরা তা বাস্তবায়ন করছি।’ তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ করা হয়নি; সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার (পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত তথ্যগুলো ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে অধিকতর যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি বা পেনশনের মতো বিষয়গুলো যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানানো হয়।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার একটি করে আধুনিক কার্ড পাবে। স্পর্শবিহীন চিপসংবলিত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে; তবে সদস্যসংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে সেই সুবিধা বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সুবিধাভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন এবং পরবর্তী সময়ে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। এতে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা বিলম্বের সুযোগ থাকবে না। পাইলটিং পর্যায়ে আগামী জুনের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি টাকা অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতির কাজে ব্যয় হবে। কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রমজানের শেষ দশকে পরিবারকে নিয়ে যেসব আমল করবেন

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, পাচ্ছেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ জন

আপডেট সময় ১১:২২:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানী বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি-সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলছি, অর্থনীতির সুফল সব মানুষের ঘরে পৌঁছাতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা মাথায় রেখে এমন সামাজিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া সহজ নয়, তবে আমরা তা বাস্তবায়ন করছি।’ তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সুবিধাভোগী নির্বাচনে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা দলীয়করণ করা হয়নি; সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও স্বাধীন প্রক্রিয়ায় তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি খানার (পরিবার) তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়। ওয়ার্ড কমিটি সরেজমিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন এবং ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত তথ্যগুলো ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটির মাধ্যমে অধিকতর যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচক মান নির্ণয় করে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়। এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত ৫১ হাজার ৮০৫টি খানার তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ (ডাবল ডিপিং), সরকারি চাকরি বা পেনশনের মতো বিষয়গুলো যাচাই শেষে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই ভাতার জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলে জানানো হয়।

ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার একটি করে আধুনিক কার্ড পাবে। স্পর্শবিহীন চিপসংবলিত এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি (নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কার্ডটিকে নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী করবে। সাধারণত পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারের জন্য একটি কার্ড দেওয়া হবে; তবে সদস্যসংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ডের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। নির্বাচিত নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে সেই সুবিধা বাতিল হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের অন্যান্য ভাতা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে সুবিধাভোগীরা মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ ভাতা পাবেন এবং পরবর্তী সময়ে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

জি-টু-পি পদ্ধতিতে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতার টাকা জমা হবে। এতে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা বিলম্বের সুযোগ থাকবে না। পাইলটিং পর্যায়ে আগামী জুনের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে এবং বাকি টাকা অনলাইন সিস্টেম ও কার্ড প্রস্তুতির কাজে ব্যয় হবে। কর্মসূচিটি পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।