পবিত্র রমজান মাসে চুনারুঘাটের ‘বান্নী পার্কে’ অবাধে তরুণ-তরুণীদের প্রবেশ এবং অসামাজিক কার্যকলাপের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আজ দুপুরে চুনারুঘাট সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ এমদাদুল হক ইমন এই ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং পার্ক কর্তৃপক্ষের অনৈতিক ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জানা যায়, আজ দুপুরে ব্যক্তিগত কাজে শায়েস্তাগঞ্জ যাওয়ার পথে ছাত্রদল নেতা এমদাদুল হক ইমন কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে পার্কের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখেন। পরবর্তীতে তিনি তার সহযোগীদের নিয়ে পার্কের ভেতরে গিয়ে ম্যানেজারকে রমজান মাসে রেস্টুরেন্ট খোলা রাখা এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অবাধে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কারণ জানতে চান।
ইমন অভিযোগ করেন, পার্কের ম্যানেজার নিজের অপরাধ ঢাকতে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম ভাঙানোর চেষ্টা করেন। এমনকি তিনি মীর সিরাজ আলীর মতো সম্মানিত ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন।
তবে ইমন জানান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা তার রাজনৈতিক আদর্শ এবং কোনো প্রভাবশালীর নাম ব্যবহার করে এই অসামাজিক কাজকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,নামে ২০ টাকা টিকিটের মূল্য থাকলেও ৫-৬শত টাকার বিনিময়ে কাপলদের একান্ত সময় কাটানোর সুযোগ করে দেওয়াই এই পার্কের মূল ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
পার্কের পশ্চিম প্রান্তে পুকুর সংলগ্ন একটি ঘরে অসামাজিক কার্যকলাপ চলে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। আজকের ঘটনায় রুদ্র তাঁতি নামক এক হিন্দি যুবকের সাথে বোরকা পরিহিত এক মুসলিম তরুণীকে দেখা গেলে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনাকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে উস্কানিমূলক বলে দাবি করছেন। উপস্থিত জনতা প্রতিবাদী হয়ে উঠলে অভিযুক্তরা দ্রুত পার্ক থেকে পালিয়ে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, বান্নী পার্কের মালিক সাথী মুক্তাদির কৃষাণ চৌধুরী (জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক) শুরু থেকেই এসব অবৈধ কর্মকাণ্ডের সুযোগ করে দিচ্ছেন। স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস ফাঁকি দিয়ে এখানে আড্ডা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
মোঃ এমদাদুল হক ইমন বলেন, “পবিত্র রমজান মাসে যেখানে সব রেস্টুরেন্ট বন্ধ, সেখানে বান্নী পার্কের ভেতরে পর্দার আড়ালে যা চলছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। পার্কের ম্যানেজার আমাকে রাজনৈতিক বড় ভাইদের পরিচয় দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আমি আমার আদর্শ অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি এবং ভবিষ্যতেও এসব অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকব। চুনারুঘাটের সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই তথাকথিত পার্ক নামক ‘আড্ডাখানা’ বন্ধ এবং পবিত্র রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
চুনারুঘাট,(হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি: 


















