ঢাকা ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর মিসরের বিপক্ষে জয়ের পর কেন কেঁদেছিলেন মেসি? নিজ দলের কর্মীদের পেটালেন মমতা পোষা পাখি মরে যাওয়ায় কান্না, শাসন করায় ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে নিহত বড় ভাই মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁ’জা গাছ ও ই’য়া’বা উদ্ধার চীফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকের সৌজন্য সাক্ষাৎ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় টাঙ্গাইলে ‘সবুজ পৃথিবী’র ঔষধি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অপু বিশ্বাস কি আবার বিয়ে করেছেন? প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য বিনামূল্যে থাকবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সংস্কারের অভাবে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন,চরম দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এ রেলওয়ে স্টেশনটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। ছাউনির বিভিন্ন স্থানের ছিদ্র দিয়ে অবিরাম পানি ঝরে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় হাজারো যাত্রীদের।

স্থানীয়রা জানান, বহু বছর আগে নির্মিত স্টেশনের ছাউনির টিনে মরিচা পড়ে ক্ষয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ট্রেনে ওঠানামার সময় দুঘটনায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুর রহমান বলেন, যে কেউ যেকোনো সময় প্ল‍্যাটফর্মের ভাঙা অংশে পা হড়কে পড়ে যেতে পারে।
স্টেশনে পর্যান্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। তমিজ উদ্দিন বলেন, বসার জায়গা না থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে বা ভেজা মেঝেতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি কটে পড়েন।

এ রেলওয়ে স্টেশনের নিয়মিত যাত্রী রতন মোল্লা বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করছি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে স্টেশনে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। ব্যবসায়ী আতিক রহমানের ভাষ্য, এমন অবহেলিত অবস্থা খুব কম স্টেশনেই আছে।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সুব্রত কুমার দাস বলেন, স্টেশনের বিভিন্ন সমস্যা একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, আত্রাই ছাড়াও নন্দীগ্রাম, কালিগঞ্জ, বাগমারা ও ভবানীগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করেন।

স্থানীয়দের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য,শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্ল্যাটফর্ম সংস্কার,আধুনিক টেকসই নতুন ছাউনি নির্মাণ,পর্যান্ত বসার ব্যবস্থা এবং সব ইন্টারসিটি ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্তিত্বহীন অফিসে গণপূর্তের ৩১১ কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে উঠেছে অভিযোগ

সংস্কারের অভাবে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন,চরম দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

আপডেট সময় ০১:২৮:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে এ রেলওয়ে স্টেশনটি। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পানিতে কর্দমাক্ত হয়ে যায়। ছাউনির বিভিন্ন স্থানের ছিদ্র দিয়ে অবিরাম পানি ঝরে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় হাজারো যাত্রীদের।

স্থানীয়রা জানান, বহু বছর আগে নির্মিত স্টেশনের ছাউনির টিনে মরিচা পড়ে ক্ষয়ে গেছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় কাঠামোর বিভিন্ন অংশ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মের সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে ট্রেনে ওঠানামার সময় দুঘটনায় পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুর রহমান বলেন, যে কেউ যেকোনো সময় প্ল‍্যাটফর্মের ভাঙা অংশে পা হড়কে পড়ে যেতে পারে।
স্টেশনে পর্যান্ত বসার ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। তমিজ উদ্দিন বলেন, বসার জায়গা না থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে বা ভেজা মেঝেতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরাই সবচেয়ে বেশি কটে পড়েন।

এ রেলওয়ে স্টেশনের নিয়মিত যাত্রী রতন মোল্লা বলেন, ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করছি। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে স্টেশনে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি। ব্যবসায়ী আতিক রহমানের ভাষ্য, এমন অবহেলিত অবস্থা খুব কম স্টেশনেই আছে।

আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সুব্রত কুমার দাস বলেন, স্টেশনের বিভিন্ন সমস্যা একাধিকবার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। তিনি আরও জানান, আত্রাই ছাড়াও নন্দীগ্রাম, কালিগঞ্জ, বাগমারা ও ভবানীগঞ্জসহ আশপাশের প্রায় ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করেন।

স্থানীয়দের মতে, ব্যবসা-বাণিজ্য,শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন না হওয়ায় পুরো অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্ল্যাটফর্ম সংস্কার,আধুনিক টেকসই নতুন ছাউনি নির্মাণ,পর্যান্ত বসার ব্যবস্থা এবং সব ইন্টারসিটি ট্রেনের স্টপেজ চালুর দাবি জানিয়েছেন।