ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান
আলু এখন কৃষকের গলার কাঁটা

পীরগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন, দামে ধস-হতাশায় কৃষক

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম মাত্র ৬ থেকে ৮ টাকা হওয়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অনেক চাষি। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে তিন ফসলি উর্বর জমি, যা আলু চাষের জন্য উপযোগী। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শুরু হয় আলু চাষ। উপজেলার রামনাথপুর এলাকা আলু চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে বেলে-দোআঁশ মাটিতে পাকড়ি, বার্মা, স্টিক, গ্র্যানুলা, জাম ও শীল বিলাতীসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করা হয়।
কৃষকরা জানান, এ বছর বীজ আলু তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ খরচ ছিল বেশি। তবুও আশায় বুক বেঁধে তারা ব্যাপকভাবে আলু আবাদ করেন। বর্তমানে উপজেলাজুড়ে চলছে আলু তোলার মৌসুম। মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের ব্যস্ততা।
রামনাথপুর এলাকার কৃষক দুলা মিয়া বলেন, “এ বছর নিজের ও কন্ট্রাক্টসহ চার একর জমিতে আলু চাষ করেছি। তিন একর জমির আলু তোলা হয়েছে। প্রায় ৭ থেকে ৮শ বস্তা আলু পেয়েছি। কিন্তু বাজারে দাম নেই। অনেক কষ্ট ও ধারদেনা করে চাষ করেছি, এখন সেই ঋণ শোধ করতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “বাধ্য হয়ে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করছি। কিন্তু এবার প্রতি বস্তা রাখতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা, যেখানে আগে ছিল ২০০ টাকা।”
আরেক কৃষক ও উদ্যোক্তা বাবলু মণ্ডল বলেন, হিমাগারগুলোতে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে। কৃষকদের জন্য কোনো ছাড় নেই। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন।
কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যথাযথ পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান,কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং , বাজার ব্যবস্থাপনা ও হিমাগারে সংরক্ষণ খরচ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

আলু এখন কৃষকের গলার কাঁটা

পীরগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন, দামে ধস-হতাশায় কৃষক

আপডেট সময় ১১:৪৬:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলুর দাম মাত্র ৬ থেকে ৮ টাকা হওয়ায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারছেন না অনেক চাষি। ফলে লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই রয়েছে তিন ফসলি উর্বর জমি, যা আলু চাষের জন্য উপযোগী। আমন ধান কাটার পর অগ্রহায়ণ মাস থেকেই শুরু হয় আলু চাষ। উপজেলার রামনাথপুর এলাকা আলু চাষের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে বেলে-দোআঁশ মাটিতে পাকড়ি, বার্মা, স্টিক, গ্র্যানুলা, জাম ও শীল বিলাতীসহ বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করা হয়।
কৃষকরা জানান, এ বছর বীজ আলু তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও সার, কীটনাশক, শ্রমিক ও সেচ খরচ ছিল বেশি। তবুও আশায় বুক বেঁধে তারা ব্যাপকভাবে আলু আবাদ করেন। বর্তমানে উপজেলাজুড়ে চলছে আলু তোলার মৌসুম। মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের ব্যস্ততা।
রামনাথপুর এলাকার কৃষক দুলা মিয়া বলেন, “এ বছর নিজের ও কন্ট্রাক্টসহ চার একর জমিতে আলু চাষ করেছি। তিন একর জমির আলু তোলা হয়েছে। প্রায় ৭ থেকে ৮শ বস্তা আলু পেয়েছি। কিন্তু বাজারে দাম নেই। অনেক কষ্ট ও ধারদেনা করে চাষ করেছি, এখন সেই ঋণ শোধ করতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “বাধ্য হয়ে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করছি। কিন্তু এবার প্রতি বস্তা রাখতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকা, যেখানে আগে ছিল ২০০ টাকা।”
আরেক কৃষক ও উদ্যোক্তা বাবলু মণ্ডল বলেন, হিমাগারগুলোতে সিন্ডিকেটের প্রভাব রয়েছে। কৃষকদের জন্য কোনো ছাড় নেই। এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি প্রয়োজন।
কৃষকদের ভাষ্য, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যথাযথ পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান,কৃষি উপকরণের দাম নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিং , বাজার ব্যবস্থাপনা ও হিমাগারে সংরক্ষণ খরচ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।