ঢাকা ০৮:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা

নারী নির্যাতনকারী বহাল তবিয়তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাজউদ্দীন

  • মো. মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ৫৪৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম তাজউদ্দীন। নারী নির্যাতন, একাধিক বিয়ে এবং প্রতারণার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আইনের তোয়াক্কা না করে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বহাল তবিয়তে থাকা নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের অন্দরেই এখন বইছে সমালোচনার ঝড়। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে তাজউদ্দীন প্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান থাকলেও বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনের যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শুরু হয় শিকার হয়ে প্রথম স্ত্রী যৌতুক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন। প্রথম স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে গত বছরের ৩ জুলাই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের আছমা বেগমকে বিয়ে করেন তাজউদ্দীন। তবে এই বিয়ের কাবিননামায় নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। এই প্রতারণার দায়ে বর্তমানে গোপালগঞ্জ আদালতে আরও একটি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় তাজউদ্দীন আটক হয়ে জেলহাজতেও ছিলেন। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার বা কারাবরণ করলে তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম থাকলেও, তাজউদ্দীনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে তিনি শাস্তি এড়িয়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন, যা নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের অন্দরেই কানাঘুষা চলছে। ভূক্তভোগী প্রথম স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের লোভে আমাকে ফেলে রেখে তিনি প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমি ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, অথচ তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নিজেকে বাঁচাতে তিনি শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে তালাকের নোটিশ প্রদান না করেই ভুয়া তালাকের কাগজ তৈরি করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ও সরকারি চাকুরি বিধির ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে জেলহাজতে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাজউদ্দীনের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রতা প্রশাসনিক শিথিলতা নাকি নেপথ্যের কোনো শক্তির প্রভাব, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের এই বিতর্কিত কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখে কি না, নাকি আইনের ফাঁক দিয়ে নারী নির্যাতনকারী এভাবেই পার পেয়ে যাবে। এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এস.এম তাজউদ্দীন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, এই মামলাগুলো সব ভুয়া। আমি প্রথম স্ত্রীকে অনেক আগেই তালাক দিয়েছি এবং এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তিনি অভিযোগকারী নারীকে ‘খারাপ’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। উনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। বর্তমানে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলাগুলো শেষের দিকে। এখন সময়ের অপেক্ষা। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস রওশন আরা জানান, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, যে বিভাগীয় প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তা কি আদৌ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে নাকি অপরাধীকে রক্ষাকবচ দেবে?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিকিটের অগ্নিমূল্যে যাত্রীদের নাভিশ্বাস

নারী নির্যাতনকারী বহাল তবিয়তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাজউদ্দীন

আপডেট সময় ১১:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

দেশের প্রচলিত আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বহাল তবিয়তে কর্মস্থলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম তাজউদ্দীন। নারী নির্যাতন, একাধিক বিয়ে এবং প্রতারণার মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রহস্যজনক নীরবতা পালন করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। আইনের তোয়াক্কা না করে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বহাল তবিয়তে থাকা নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের অন্দরেই এখন বইছে সমালোচনার ঝড়। মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে তাজউদ্দীন প্রথম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান থাকলেও বিয়ের কিছুকাল পর থেকেই অমানুষিক নির্যাতন। নির্যাতনের যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শুরু হয় শিকার হয়ে প্রথম স্ত্রী যৌতুক ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক মামলা দায়ের করেন। প্রথম স্ত্রীকে বাবার বাড়িতে ফেলে রেখে গত বছরের ৩ জুলাই গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের আছমা বেগমকে বিয়ে করেন তাজউদ্দীন। তবে এই বিয়ের কাবিননামায় নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। এই প্রতারণার দায়ে বর্তমানে গোপালগঞ্জ আদালতে আরও একটি মামলা চলমান রয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় তাজউদ্দীন আটক হয়ে জেলহাজতেও ছিলেন। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেফতার বা কারাবরণ করলে তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম থাকলেও, তাজউদ্দীনের ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। অদৃশ্য কোনো শক্তির প্রভাবে তিনি শাস্তি এড়িয়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকছেন, যা নিয়ে খোদ মন্ত্রণালয়ের অন্দরেই কানাঘুষা চলছে। ভূক্তভোগী প্রথম স্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, যৌতুকের লোভে আমাকে ফেলে রেখে তিনি প্রতারণা করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। আমি ন্যায়বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছি, অথচ তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রভাব খাটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি নিজেকে বাঁচাতে তিনি শাস্তি থেকে রক্ষা পেতে তালাকের নোটিশ প্রদান না করেই ভুয়া তালাকের কাগজ তৈরি করেছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ও সরকারি চাকুরি বিধির ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে জেলহাজতে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু তাজউদ্দীনের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রতা প্রশাসনিক শিথিলতা নাকি নেপথ্যের কোনো শক্তির প্রভাব, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের এই বিতর্কিত কর্মীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বচ্ছতা বজায় রাখে কি না, নাকি আইনের ফাঁক দিয়ে নারী নির্যাতনকারী এভাবেই পার পেয়ে যাবে। এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে এস.এম তাজউদ্দীন পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, এই মামলাগুলো সব ভুয়া। আমি প্রথম স্ত্রীকে অনেক আগেই তালাক দিয়েছি এবং এরপর দ্বিতীয় বিয়ে করেছি। তিনি আরও দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তিনি অভিযোগকারী নারীকে ‘খারাপ’ হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন। উনার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। বর্তমানে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলাগুলো শেষের দিকে। এখন সময়ের অপেক্ষা। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফেরদৌস রওশন আরা জানান, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, যে বিভাগীয় প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকে, তা কি আদৌ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে নাকি অপরাধীকে রক্ষাকবচ দেবে?