ঢাকা ০৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

রাজশাহীতে গণপিটুনিতে নিহত ১ জন

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত বাকি সাতজনকে পুলিশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ সময় সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নিহত মো. শাহীন (৫৫) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আকরাম আলী। পুলিশ জানিয়েছে, আটক অন্য সাতজন দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে আটজন ব্যক্তি ঘরের তালা কাটার সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ পলাশি বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং একজনকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন-পুঠিয়ার চকপলাশী গ্রামের লালুর ছেলে মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুরের ইমাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাইয়ের নানজেগুড়ি এলাকার মাহির ছেলে খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের বামালের চর গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের একানদানি সরকারের ছেলে মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, “ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। আমরা খবর পেয়ে আটজনকে উদ্ধার করি। একজন নিহত হয়েছেন, বাকিরা পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

রাজশাহীতে গণপিটুনিতে নিহত ১ জন

আপডেট সময় ১১:৪১:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পলাশি গ্রামে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। আহত বাকি সাতজনকে পুলিশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ সময় সন্দেহভাজনদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নিহত মো. শাহীন (৫৫) রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম আকরাম আলী। পুলিশ জানিয়েছে, আটক অন্য সাতজন দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে আটজন ব্যক্তি ঘরের তালা কাটার সরঞ্জাম ও দেশীয় অস্ত্রসহ পলাশি বাজার এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা আটক করে। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং অন্যরা গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং একজনকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন-পুঠিয়ার চকপলাশী গ্রামের লালুর ছেলে মো. শামীম (৩৫), ঢাকার আশুলিয়ার জিরানী বাজার এলাকার মৃত সোনা মিয়ার ছেলে শফিকুল (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুরের ইমাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০), ঢাকার ধামরাইয়ের নানজেগুড়ি এলাকার মাহির ছেলে খারজাহান (৩৫), টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের বামালের চর গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০), একই উপজেলার কুটিবয়রা গ্রামের একানদানি সরকারের ছেলে মামুন (৪২) এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, “ডাকাতির প্রস্তুতিকালে স্থানীয়রা তাদের আটক করে গণপিটুনি দেয়। আমরা খবর পেয়ে আটজনকে উদ্ধার করি। একজন নিহত হয়েছেন, বাকিরা পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানায়, পুরো বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।