মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাসনাবাদ বাজার এলাকায় প্রায় ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৯৮ মিটার আরসিসি সড়ক নির্মাণকাজে গুরুতর অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুরু থেকেই নির্মাণকাজে চরম অবহেলা ও কারিগরি মান লঙ্ঘন করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ইটের সিসি ঢালাইয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে রাবিশ জাতীয় খোয়া, নিম্নমানের ওয়েস্টেজ পাথর এবং ৬৫-৭৯ শতাংশ ক্লিঙ্কারযুক্ত নিম্নগ্রেডের সিমেন্ট। শুধু তাই নয়, সিমেন্টের পরিমাণও নির্ধারিত মানের চেয়ে কম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী। ফলে সামান্য চাপ বা ধাক্কাতেই ঢালাই ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে, যা নির্মাণমান নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাহফুজ খান। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি দাবি করেন,কাজ যথাযথভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে।তবে নিম্নমানের পাথর, ইটের খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সুস্পষ্ট কোনো জবাব না দিয়ে এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর–এর চাঁদপুর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাহিনুল ইসলাম বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। প্রমাণ পাওয়া গেলে ভেঙে পুনরায় কাজ করতে বাধ্য করা হবে ঠিকাদারকে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে এলাকাবাসী শুরুতে প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে সড়ক ও জনপথের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চলে যাওয়ার পর একই সামগ্রী দিয়েই পুনরায় ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কাজের শুরুতে প্রতিবাদ থাকলেও রহস্যজনক কারণে এখন অনেকে নীরব রয়েছেন। এই সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি তাদের। বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোতে এমন অনিয়ম শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নয়, জননিরাপত্তার জন্যও হুমকিস্বরূপ—এমন মত সংশ্লিষ্ট সচেতন মহলের।
মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 





















