ঢাকা ০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

মহেশখালীতে প্রাচীন রাখাইন শ্মশানের দেয়াল ভাঙচুরে ছড়িয়ে পড়ল উত্তেজনার ছায়া

মহেশখালী পৌরসভার দক্ষিণ রাখাইন পাড়ায় প্রায় তিনশ বছরের প্রাচীন রাখাইন জনগোষ্ঠীর একমাত্র বৌদ্ধ শ্মশানের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শ্মশানের চলমান উন্নয়নকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাখাইন পাড়ার নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণরা প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একদল ব্যক্তি নির্মাণাধীন দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত নেতা সৈয়দুল হক সিকদারের ভাতিজা আরমান সিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনার আগে কয়েকজন ব্যক্তি নির্মাণস্থলে এসে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এর ফলে শ্রমিকরা কাজ স্থগিত করেন। পরে রাতের আঁধারে দেয়াল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শ্মশানটি সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় উদ্যোগে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সরকারি অনুদান, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী দানশীল ব্যক্তি ফয়সাল আমিনের আর্থিক সহায়তা এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত অনুদান রয়েছে।

সম্প্রদায়ের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের ভূমি অফিস ও পৌরসভার সহযোগিতায় শ্মশানের জমির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত জমি দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, শ্মশানের জমি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্দোবস্তের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক চেয়ারম্যান সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাখাইন সমাজ কমিটির সভাপতি বাইন বলেন, সরকারি অনুদান ও এলাকাবাসীর সহায়তায় শ্মশানের উন্নয়নকাজ চলছিল। নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল। হামলার ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ।

সাবেক পৌর কাউন্সিল মংলায়ান বলেন, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে। একই সঙ্গে তারা স্থগিত উন্নয়নকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু ও শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

মহেশখালীতে প্রাচীন রাখাইন শ্মশানের দেয়াল ভাঙচুরে ছড়িয়ে পড়ল উত্তেজনার ছায়া

আপডেট সময় ০৮:৫১:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহেশখালী পৌরসভার দক্ষিণ রাখাইন পাড়ায় প্রায় তিনশ বছরের প্রাচীন রাখাইন জনগোষ্ঠীর একমাত্র বৌদ্ধ শ্মশানের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে শ্মশানের চলমান উন্নয়নকাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে রাখাইন পাড়ার নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণরা প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে একদল ব্যক্তি নির্মাণাধীন দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত নেতা সৈয়দুল হক সিকদারের ভাতিজা আরমান সিকদারের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনার আগে কয়েকজন ব্যক্তি নির্মাণস্থলে এসে শ্রমিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। এর ফলে শ্রমিকরা কাজ স্থগিত করেন। পরে রাতের আঁধারে দেয়াল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শ্মশানটি সংস্কার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় উদ্যোগে সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সরকারি অনুদান, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী দানশীল ব্যক্তি ফয়সাল আমিনের আর্থিক সহায়তা এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত অনুদান রয়েছে।

সম্প্রদায়ের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের ভূমি অফিস ও পৌরসভার সহযোগিতায় শ্মশানের জমির সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছিল এবং অতিরিক্ত জমি দখলের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, শ্মশানের জমি দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্দোবস্তের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিক চেয়ারম্যান সরেজমিন পরিদর্শন শেষে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাখাইন সমাজ কমিটির সভাপতি বাইন বলেন, সরকারি অনুদান ও এলাকাবাসীর সহায়তায় শ্মশানের উন্নয়নকাজ চলছিল। নির্ধারিত সীমানার মধ্যেই দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছিল। হামলার ঘটনায় আমরা আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ।

সাবেক পৌর কাউন্সিল মংলায়ান বলেন, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর আঘাত। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হলে উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকবে। একই সঙ্গে তারা স্থগিত উন্নয়নকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু ও শ্মশানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।