ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান
চিকিৎসা ও সহায়তায় সমাজের প্রতি আকুতি

পীরগঞ্জে একই পরিবারের চারজন শারীরিক প্রতিবন্ধী

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘি ফতেপুর গ্রামের এক অসহায় পরিবারের চার সদস্য আজ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সংগ্রাম করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের কর্তা মরহুম মকবুল হোসেনের মৃত্যুর পর বিধবা মা মোছাঃ রাবেয়া বেগমকে নিয়ে বড় বোন তাসলিমা (৪০), মেঝো ভাই বিপুল (৩৫) ও ছোট ভাই শিমুল (৩০) কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—প্রায় ৭/৮ বছর আগে পর্যন্ত সুস্থ-সবল থাকলেও হঠাৎ অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাসলিমা, বিপুল ও শিমুল শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। বর্তমানে তারা কেউই হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ স্থির রাখতে পারেন না; অনবরত হাত, পা ও মুখমণ্ডল কাঁপতে থাকে। ফলে স্বাভাবিক চলাফেরা তো দূরের কথা, নিজের কাজও ঠিকমতো করতে পারেন না।
ছোট ভাই শিমুলের ৭ বছর বয়সী কন্যা স্নেহাও একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। পরিবারটির উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অর্থকষ্টে পড়ে তাদের সংসার। অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারালে একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের স্ত্রীও তাদের ছেড়ে চলে যান। এখন বিধবা মা-ই একমাত্র ভরসা।
বর্তমানে রাবেয়া বেগম বিধবা ভাতা আর পরের বাড়িতে কাজ করার কষ্টার্জিত উপার্জনে এবং বিপুল গত এক বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেই সামান্য অর্থেই চারজনের খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ, যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা দুঃসাধ্য। অনেকে পার্শ্ববর্তী ভারতে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও দারিদ্র্যের কষাঘাতে তা কেবল স্বপ্নই রয়ে গেছে।
যে পরিবারটি কয়েক বছর আগেও পরিশ্রম করে জীবনযাপন করত, আজ তারা দু’মুঠো খাবারের জন্যও সংগ্রাম করছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অতীতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা বঞ্চিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
চরম অসহায় এই পরিবারটি এখন সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল সংগঠন ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে—এমন আশাই করছেন এলাকাবাসী।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

চিকিৎসা ও সহায়তায় সমাজের প্রতি আকুতি

পীরগঞ্জে একই পরিবারের চারজন শারীরিক প্রতিবন্ধী

আপডেট সময় ০৪:১২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘি ফতেপুর গ্রামের এক অসহায় পরিবারের চার সদস্য আজ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে সংগ্রাম করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। পরিবারের কর্তা মরহুম মকবুল হোসেনের মৃত্যুর পর বিধবা মা মোছাঃ রাবেয়া বেগমকে নিয়ে বড় বোন তাসলিমা (৪০), মেঝো ভাই বিপুল (৩৫) ও ছোট ভাই শিমুল (৩০) কোনোরকমে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—প্রায় ৭/৮ বছর আগে পর্যন্ত সুস্থ-সবল থাকলেও হঠাৎ অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে তাসলিমা, বিপুল ও শিমুল শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। বর্তমানে তারা কেউই হাত-পা কিংবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ স্থির রাখতে পারেন না; অনবরত হাত, পা ও মুখমণ্ডল কাঁপতে থাকে। ফলে স্বাভাবিক চলাফেরা তো দূরের কথা, নিজের কাজও ঠিকমতো করতে পারেন না।
ছোট ভাই শিমুলের ৭ বছর বয়সী কন্যা স্নেহাও একই ধরনের শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। পরিবারটির উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অর্থকষ্টে পড়ে তাদের সংসার। অসুস্থতার কারণে কর্মক্ষমতা হারালে একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের স্ত্রীও তাদের ছেড়ে চলে যান। এখন বিধবা মা-ই একমাত্র ভরসা।
বর্তমানে রাবেয়া বেগম বিধবা ভাতা আর পরের বাড়িতে কাজ করার কষ্টার্জিত উপার্জনে এবং বিপুল গত এক বছর ধরে প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেই সামান্য অর্থেই চারজনের খাবার, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজন মেটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাবে নিয়মিত চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বড় অঙ্কের অর্থ, যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা দুঃসাধ্য। অনেকে পার্শ্ববর্তী ভারতে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও দারিদ্র্যের কষাঘাতে তা কেবল স্বপ্নই রয়ে গেছে।
যে পরিবারটি কয়েক বছর আগেও পরিশ্রম করে জীবনযাপন করত, আজ তারা দু’মুঠো খাবারের জন্যও সংগ্রাম করছে। সরকারি বিভিন্ন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও অতীতে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে তারা বঞ্চিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
চরম অসহায় এই পরিবারটি এখন সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল সংগঠন ও রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে। দ্রুত চিকিৎসা ও আর্থিক সহযোগিতা পেলে হয়তো তাদের জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসতে পারে—এমন আশাই করছেন এলাকাবাসী।