সংবাদ শিরোনাম ::
আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী কুলির চরিত্রে পর্দায় ফিরছেন ওমর সানী প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে উসকানির আভাস পাচ্ছি : রিজভী গ্যালারিতে বসে দেশসেরা খুদে ফুটবলারদের খেলা দেখছেন প্রধানমন্ত্রী নওগাঁ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন কমিশন গঠন সভা অনুষ্ঠিত মুকসুদপুরে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধে জন সচেতনতা বৃদ্ধিমুলক ওয়ার্কসপ কিশোর নিবিরের প্রেমের বিয়ে, ৮ মাস পর রহস্যজনক মৃত্যু  কোটালীপাড়ায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ দৈনিক আমাদের মাতৃভূমির চট্টগ্রাম ব্যুরো চিফ মুরাদকে অব্যাহতি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গঙ্গাচড়ায় হাজারো মানুষের মানববন্ধন

ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা প্রকল্পে দুর্নীতি ইউএনও আশার

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ০২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫০ বার পড়া হয়েছে

ওসমানীনগর উপজেলা ভোটকেন্দ্র, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের লক্ষ্য স্থল হিসেবে ধরা হয়েছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে। প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের স্বচ্ছতা, কাজের বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে উপজেলার ৫৪টি ভোটকেন্দ্র, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ১৮ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মৌখিক নির্দেশনা দেন, যাতে ইউনিয়নের করের ১ শতাংশ তহবিল থেকে মোট ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৭ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করা হয়।
তবে অভিযোগ আছে, ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বরাদ্দ করা ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা কোন কাজে ব্যবহার হয়নি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল হিসেবে অর্থ উত্তোলন করা হয়। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনিমেশ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। ৫৪টি কেন্দ্রের জন্য মোট ব্যয় হওয়ার কথা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ তহবিল থেকে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৭ টাকার, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দের সুস্পষ্ট হিসাবও পাওয়া যায়নি। আগের সিসিটিভি থাকা কেন্দ্রেও নতুন বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, এবং বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
উপজেলার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ইউএনওর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের কাছে বিল দাখিল করার কথা থাকলেও ইউএনও জেলা প্রশাসকের অজুহাত দেখিয়ে চেয়ারম্যানদের কাছে বিল দাখিল করতে বাধ্য করেছেন।
তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগে চেয়ারম্যানদের কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না। বিল স্বাক্ষর না করলে পদ হারানোর হুমকিও দেওয়া হয়।”
মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হয়েছে এবং বাজারে পরে বসানো হবে। তিনি ইউএনওর আত্মীয় হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউএনও মুনমুন নাহার আশা বলেছেন, “নির্বাচনকালীন প্রকল্প জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোন দুর্নীতি হয়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়া ইউএনওর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ বরাদ্দ সব ইউনিয়ন থেকে নেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগস্টে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চালু হচ্ছে: রেলমন্ত্রী

ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা প্রকল্পে দুর্নীতি ইউএনও আশার

আপডেট সময় ০২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ওসমানীনগর উপজেলা ভোটকেন্দ্র, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের লক্ষ্য স্থল হিসেবে ধরা হয়েছে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনমুন নাহার আশা এবং তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কে। প্রকল্পের বরাদ্দ অর্থের স্বচ্ছতা, কাজের বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়মের ঘটনা সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে উপজেলার ৫৪টি ভোটকেন্দ্র, বাজার ও জনবহুল এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ইউএনও মুনমুন নাহার আশা ১৮ ডিসেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মৌখিক নির্দেশনা দেন, যাতে ইউনিয়নের করের ১ শতাংশ তহবিল থেকে মোট ৩৮ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৭ টাকার প্রকল্প প্রস্তাব দাখিল করা হয়।
তবে অভিযোগ আছে, ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বরাদ্দ করা ছয় লাখ ৫৬ হাজার টাকা কোন কাজে ব্যবহার হয়নি। গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে অগ্রিম বিল হিসেবে অর্থ উত্তোলন করা হয়। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা অনিমেশ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ছয়টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা। ৫৪টি কেন্দ্রের জন্য মোট ব্যয় হওয়ার কথা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ২০০ টাকা। অথচ ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ তহবিল থেকে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে ৪৪ লাখ ৭০ হাজার ৯৯৭ টাকার, যা প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দের সুস্পষ্ট হিসাবও পাওয়া যায়নি। আগের সিসিটিভি থাকা কেন্দ্রেও নতুন বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, এবং বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্যামেরা স্থাপন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি।
উপজেলার স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ইউএনওর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কেই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চেয়ারম্যান বা প্রশাসকের কাছে বিল দাখিল করার কথা থাকলেও ইউএনও জেলা প্রশাসকের অজুহাত দেখিয়ে চেয়ারম্যানদের কাছে বিল দাখিল করতে বাধ্য করেছেন।
তাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. কবির আহমদ বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ঠিকাদার নিয়োগে চেয়ারম্যানদের কোনো কার্যকর ভূমিকা ছিল না। বিল স্বাক্ষর না করলে পদ হারানোর হুমকিও দেওয়া হয়।”
মেসার্স সাইফুল এন্টারপ্রাইজের প্রোপ্রাইটর ফখরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি বসানো হয়েছে এবং বাজারে পরে বসানো হবে। তিনি ইউএনওর আত্মীয় হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ইউএনও মুনমুন নাহার আশা বলেছেন, “নির্বাচনকালীন প্রকল্প জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। কোন দুর্নীতি হয়নি।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম জানিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়া ইউএনওর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদের ১ শতাংশ বরাদ্দ সব ইউনিয়ন থেকে নেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।