ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন ফায়ারের গাড়ি চালক সাখাওয়াতের কোটি কোটি টাকা বন্যা মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে : জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী দেশে বিপুল কর্মক্ষম জনসংখ্যা রয়েছে, যা বিশ্বের কোথাও নেই : শিক্ষামন্ত্রী বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. পাভেলকে দেখতে হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সেরা খেলোয়াড়কে হারাল সুইজারল্যান্ড ফরিদপুরে বাসচাপায় নিহত ৪ ‘জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’ : ব্রাহ্মণপাড়ায় এমপি জসিম উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফর অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের দামে ধস

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন শশুরকে কুপিয়ে জখম স্বামী সোহেল গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধুকে মারধর এবং তার পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী শাহাদত হোসেন সোহাগ (৩২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নং–১৩/২৬ দায়েরের পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার মোঃ আজাহার আলীর মেয়ে মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা সোমার সঙ্গে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক সোহাগের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমহর ধার্য করা হয় এবং কনের পরিবার ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদান করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পাঁচ-ছয় মাস পর স্বামীর চাকরির কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও ১০ লাখ টাকা ও কনের পিতার বাড়ির জমি দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা ও জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে স্বামী সোহাগ বাঁশের লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এ ছাড়া গলা চেপে ধরে নাক-মুখ ও মাথায় কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার পিতা আজাহার আলীকে জানান। তিনি ছোট মেয়ে ছামিহা খাতুন (৮)-কে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত সোহাগ ধারালো দা দিয়ে আজাহার আলীর মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। এ সময় ছোট বোন ছামিহা খাতুন বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শাহাদত হোসেন সোহাগ, তার মা মোছাঃ ছাহেরা বেগম এবং পিতা মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বন মামলার নথি বদলে ফেলেছে বন সংরক্ষক এ.এস.এম. জহির উদ্দিন

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতন শশুরকে কুপিয়ে জখম স্বামী সোহেল গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:৫৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধুকে মারধর এবং তার পিতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী শাহাদত হোসেন সোহাগ (৩২)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নং–১৩/২৬ দায়েরের পর মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের ছেলে। গ্রেফতারের পর তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে একই এলাকার মোঃ আজাহার আলীর মেয়ে মোছাঃ আয়শা সিদ্দিকা সোমার সঙ্গে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক সোহাগের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেনমহর ধার্য করা হয় এবং কনের পরিবার ৫ ভরি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র প্রদান করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের পাঁচ-ছয় মাস পর স্বামীর চাকরির কথা বলে ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে আরও ১০ লাখ টাকা ও কনের পিতার বাড়ির জমি দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা ও জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে স্বামী সোহাগ বাঁশের লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং তলপেটে লাথি মারেন। এ ছাড়া গলা চেপে ধরে নাক-মুখ ও মাথায় কিল-ঘুষি মারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।

পরে ভুক্তভোগী মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার পিতা আজাহার আলীকে জানান। তিনি ছোট মেয়ে ছামিহা খাতুন (৮)-কে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে গেলে অভিযুক্ত সোহাগ ধারালো দা দিয়ে আজাহার আলীর মাথায় কোপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত হন। এ সময় ছোট বোন ছামিহা খাতুন বাবাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় শাহাদত হোসেন সোহাগ, তার মা মোছাঃ ছাহেরা বেগম এবং পিতা মোঃ আব্দুল বারিক তহশিলদারের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আজিম উদ্দিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্তদের বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।