ঢাকা ০১:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রিমিয়ার ব্যাংকের ডিএমডি অমলেন্দুর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ এলজিইডির ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম সাভার ফায়ার সার্ভিসে রেজায়ে-রাব্বিকে ঘিরে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ অনিয়মের অভিযোগের পরও জবাবদিহির বাইরে ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল ওয়ানিয়া মাহবিন গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশনে শিক্ষার্থীদের টাকায় অনিয়মের অভিযোগে জেবুন্নেছা বেবিচকে পরামর্শক নিয়োগে আওয়ামী দোসরকে বসাতে যোগ্যতার শর্ত বাদ সিআইডির অভিযানে বিএসবির খায়রুল বাশারের ৩৩ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোক ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪৯০ স্পেনের রাষ্ট্রদূত মাসুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ-ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা

রমজান শুরু, মহেশখালীতে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি—চাপে দ্বীপের সাধারণ মানুষ

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ৫ থেকে ১০ টাকায় একটি লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই লেবুই জোড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার গোরকঘাটা বাজার, বড় মহেশখালী নতুন বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—রমজান শুরুর আগের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লেবু, শসা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ ইফতার সামগ্রীতে দামে যেন আগুন লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, “রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। গত সপ্তাহেও যে লেবু ১০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি জোড়া ৪৫ টাকা। এভাবে চললে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।

আরেকজন বলেন, “প্রতিদিনের বাজার খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এভাবে দাম বাড়তেই থাকবে।

মুদির দোকানগুলোতেও বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ডাল, ছোলা, চিনি, তেল, খেজুর ও শুকনো মশলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, তারা নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবেই খুচরা বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি তাদের।

এক মুদি দোকানি বলেন, “আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছি না। যেভাবে পাইকারি বাজার থেকে কিনছি, সেই অনুযায়ী সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করছি। সরবরাহ কম হলে দাম বাড়ে, এটা স্বাভাবিক।”

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা দরে এবং প্রতি হালি ২৮ টাকায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়ছে।

সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে বাজার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাসে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রিমিয়ার ব্যাংকের ডিএমডি অমলেন্দুর বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ

রমজান শুরু, মহেশখালীতে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি—চাপে দ্বীপের সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ৫ থেকে ১০ টাকায় একটি লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই লেবুই জোড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার গোরকঘাটা বাজার, বড় মহেশখালী নতুন বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—রমজান শুরুর আগের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লেবু, শসা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ ইফতার সামগ্রীতে দামে যেন আগুন লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, “রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। গত সপ্তাহেও যে লেবু ১০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি জোড়া ৪৫ টাকা। এভাবে চললে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।

আরেকজন বলেন, “প্রতিদিনের বাজার খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এভাবে দাম বাড়তেই থাকবে।

মুদির দোকানগুলোতেও বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ডাল, ছোলা, চিনি, তেল, খেজুর ও শুকনো মশলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, তারা নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবেই খুচরা বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি তাদের।

এক মুদি দোকানি বলেন, “আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছি না। যেভাবে পাইকারি বাজার থেকে কিনছি, সেই অনুযায়ী সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করছি। সরবরাহ কম হলে দাম বাড়ে, এটা স্বাভাবিক।”

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা দরে এবং প্রতি হালি ২৮ টাকায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়ছে।

সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে বাজার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাসে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।