ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

রমজান শুরু, মহেশখালীতে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি—চাপে দ্বীপের সাধারণ মানুষ

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ৫ থেকে ১০ টাকায় একটি লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই লেবুই জোড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার গোরকঘাটা বাজার, বড় মহেশখালী নতুন বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—রমজান শুরুর আগের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লেবু, শসা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ ইফতার সামগ্রীতে দামে যেন আগুন লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, “রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। গত সপ্তাহেও যে লেবু ১০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি জোড়া ৪৫ টাকা। এভাবে চললে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।

আরেকজন বলেন, “প্রতিদিনের বাজার খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এভাবে দাম বাড়তেই থাকবে।

মুদির দোকানগুলোতেও বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ডাল, ছোলা, চিনি, তেল, খেজুর ও শুকনো মশলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, তারা নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবেই খুচরা বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি তাদের।

এক মুদি দোকানি বলেন, “আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছি না। যেভাবে পাইকারি বাজার থেকে কিনছি, সেই অনুযায়ী সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করছি। সরবরাহ কম হলে দাম বাড়ে, এটা স্বাভাবিক।”

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা দরে এবং প্রতি হালি ২৮ টাকায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়ছে।

সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে বাজার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাসে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

রমজান শুরু, মহেশখালীতে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি—চাপে দ্বীপের সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় ০৭:৩৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ৫ থেকে ১০ টাকায় একটি লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই লেবুই জোড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা।

উপজেলার গোরকঘাটা বাজার, বড় মহেশখালী নতুন বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—রমজান শুরুর আগের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লেবু, শসা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ ইফতার সামগ্রীতে দামে যেন আগুন লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, “রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। গত সপ্তাহেও যে লেবু ১০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি জোড়া ৪৫ টাকা। এভাবে চললে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।

আরেকজন বলেন, “প্রতিদিনের বাজার খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এভাবে দাম বাড়তেই থাকবে।

মুদির দোকানগুলোতেও বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ডাল, ছোলা, চিনি, তেল, খেজুর ও শুকনো মশলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, তারা নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবেই খুচরা বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি তাদের।

এক মুদি দোকানি বলেন, “আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছি না। যেভাবে পাইকারি বাজার থেকে কিনছি, সেই অনুযায়ী সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করছি। সরবরাহ কম হলে দাম বাড়ে, এটা স্বাভাবিক।”

ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা দরে এবং প্রতি হালি ২৮ টাকায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়ছে।

সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে বাজার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাসে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।