পবিত্র মাহে রমজান শুরু হতেই কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। এক সপ্তাহ আগেও যেখানে ৫ থেকে ১০ টাকায় একটি লেবু পাওয়া যেত, এখন সেই লেবুই জোড়া বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। হঠাৎ এমন মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা সাধারণ ক্রেতারা।
উপজেলার গোরকঘাটা বাজার, বড় মহেশখালী নতুন বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে—রমজান শুরুর আগের তুলনায় অধিকাংশ পণ্যের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লেবু, শসা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ ইফতার সামগ্রীতে দামে যেন আগুন লেগেছে। অনেক ক্ষেত্রে একই পণ্যের দাম কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।
স্থানীয় এক ক্রেতা জানান, “রমজান এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেয়। গত সপ্তাহেও যে লেবু ১০ টাকায় কিনেছি, আজ সেটি জোড়া ৪৫ টাকা। এভাবে চললে আমাদের মতো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে বাজার করা কঠিন হয়ে যাবে।
আরেকজন বলেন, “প্রতিদিনের বাজার খরচ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। আয় বাড়েনি, কিন্তু ব্যয় বেড়ে গেছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এভাবে দাম বাড়তেই থাকবে।
মুদির দোকানগুলোতেও বেড়েছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। ডাল, ছোলা, চিনি, তেল, খেজুর ও শুকনো মশলার দাম কয়েকদিনের ব্যবধানে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, তারা নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী পণ্য বিক্রি করছেন। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবেই খুচরা বাজারে এই পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি তাদের।
এক মুদি দোকানি বলেন, “আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছি না। যেভাবে পাইকারি বাজার থেকে কিনছি, সেই অনুযায়ী সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করছি। সরবরাহ কম হলে দাম বাড়ে, এটা স্বাভাবিক।”
ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় প্রতি পিস ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকা দরে এবং প্রতি হালি ২৮ টাকায়। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। বিক্রেতারা জানান, চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মুরগির দাম বাড়ছে।
সব মিলিয়ে রমজানকে সামনে রেখে বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে বাজার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের নিয়মিত বাজার মনিটরিং, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।
রমজানের পবিত্রতা ও সংযমের মাসে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
কক্সবাজার প্রতিনিধি 





















