কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় এখনো এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) সিলিন্ডারের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। বাজারে চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। পবিত্র রমজান মাসকে ঘিরে এ সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, অনেক দোকানেই এলপিজি সিলিন্ডার নেই। কোথাও বা সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার এলেও তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতাদের এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। অনেকেই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, দুই দিন ধরে গ্যাসের জন্য দোকানে দোকানে ঘুরছি। রমজান আসছে এখন রান্না-বান্নার চাপ বাড়বে। এখনই যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে রমযানের মধ্যে আমরা কি করবো?
মনোহরগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী শামীম জানান,
আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা নিজেরাও বিপাকে আছি। ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী এলপিজি সিলিন্ডার পাচ্ছি না। ক্রেতারা আমাদের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, কিন্তু সরবরাহ না থাকলে আমাদের কিছু করার থাকে না। রমজান সামনে, তাই দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
বাজারের অনন্য ব্যবসায়ীরা জানান,
ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না তারা। পরিবহন সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কারণে নিয়মিত গ্যাস আসছে না। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলেও কেউ কেউ মনে করছেন।
এদিকে রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের সময় রান্নার চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এ সময় গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছাতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোক্তারা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার মনিটরিং জোরদার এবং নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে রমজানে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হবেন না—এমনটাই প্রত্যাশা।
এস এম আনোয়ার মনোহরগঞ্জ (কুমিল্লা) প্রতিনিধি 





















