ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ত্বকের চুলকানি দূর করবে যেসব ঘরোয়া উপায় থাইল্যান্ডের বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান মির্জা ফখরুলের সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৩ দাবি ঘোষণা শিক্ষার্থীদের জুয়ার নেশা মেটাতে একসঙ্গে ১৪ জনকে বিয়ে করলেন চীনা নারী বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চের তারকা সঞ্জয় এবার মাতাবেন ঢাকা উদ্যোক্তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর বরটিয়ায় হাড়িয়া কামারপাড়া যাওয়ার রাস্তা বেহাল, দুর্ভোগে জনসাধারণ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় আল-হিকমা রেসিডেন্সিয়াল মাদরাসার ৫ শিক্ষার্থী ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি মহারণের আগে স্পেনের ফাঁদে পড়তে চায় না ফ্রান্স

সম্পত্তি ভাগাভাগি শেষে ৩০ ঘণ্টা পর বাবার লাশ দাফন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা ও উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

জানা যায়, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকার আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে আব্দুল হা‌কিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। ফলে বেলা ১১টার নির্ধারিত জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির উঠা‌নে রাখা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে। দিনভর স্থানীয়রা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বা‌সিন্দা র‌ফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, জয়নাল আলী, আব্দুল মা‌লেক ব‌লেন, রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়- বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই আট শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে।

পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করার পর রাত ১১টায় তাকে দাফন করা হয়েছে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্বকের চুলকানি দূর করবে যেসব ঘরোয়া উপায়

সম্পত্তি ভাগাভাগি শেষে ৩০ ঘণ্টা পর বাবার লাশ দাফন

আপডেট সময় ১২:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার প্রায় ৩০ ঘণ্টা পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতা ও উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

জানা যায়, নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকার আজিজার রহমান (৭৫) গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। কিন্তু সম্পত্তির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে আব্দুল হা‌কিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। ফলে বেলা ১১টার নির্ধারিত জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির উঠা‌নে রাখা ছিল, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে। দিনভর স্থানীয়রা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বা‌সিন্দা র‌ফিকুল ইসলাম, হাফিজুর রহমান, জয়নাল আলী, আব্দুল মা‌লেক ব‌লেন, রাত ১০টার দিকে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়- বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই আট শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসেবে থাকবে।

পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করার পর রাত ১১টায় তাকে দাফন করা হয়েছে।