ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আইসিটি আইনে সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পবিপ্রবির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারার অভিবাসন ব্যয় কমা‌তে কাজ কর‌ছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে: রেলমন্ত্রী জুলাই শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে প্রতিটি নাগরিককে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ‘১০০ হর্ন’ লাগানো বাইকারের মোটরসাইকেল জব্দ করল পুলিশ এ বছর নাও হতে পারে বিপিএল : তামিম থামেনি স্বপ্ন, ৪৫ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন কাঠমিস্ত্রি নাসিমুল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৭ কর্মকর্তাকে বদলি কুমিল্লা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১২৪ কেজি গাঁ’জা ও ১০০ পিস ইয়াবা জব্দ, আটক ১

এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ০১:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৬৪ বার পড়া হয়েছে

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজী আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে চাকরিকালীন সময়জুড়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, দুদকের নথি এবং এলজিইডির বিভাগীয় কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণে এসব অভিযোগের বিষয় সামনে এসেছে।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ফাসিস্ট হাসিনার পিএসসির সুপারিশে এলজিইডিতে যোগদানকারী কাজী আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন সিলেট অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করেন বলে সহকর্মীদের একাংশের অভিযোগ।

দুদকের একাধিক মামলা
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মরত থাকার সময় দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চারটি মামলা দায়ের করে বলে জানা গেছে।ক) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মকালীন সময়ে শুবলং জপজেলায় পানীয় জলের জন্য নির্মাণাধীন ডিপ টিউব ওয়েল না করে আত্মসাত করায় দুদক মামলা করে মামলা নং ০৩/২৩ তারিখ ০৯/০৩/২০২৪ সংশ্লিষ্ট সূত্রের খ) শুভলং এ কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাকা সিড়ি নির্মান কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করায় দুদকের মামলা নং ০৪/২৩ তারিখ ০৯/০৩/২৪ গ) পূর্ব এরাবনিট হারুল টিলা থেকে আহাদের বাড়ী নির্মান কাজ না করে টাকা আত্মসাত করায় দুদক মামলা নং ০৫/২৪ তারিখ ০৯/০৩/২৪ রাঙ্গামাটি স্পেশাল জজকোর্ট মামলা দেন দাবি এসব মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

বিভাগীয় শাস্তির নজির
এলজিইডির অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার ও জ্বালানি তেল আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।মামলা নং ১২/২০২৩ স্মারক নং ৫১৫ তারিখ ১২/০৬/২০২৩, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উচ্চতর বেতন স্কেল থেকে নামিয়ে নিম্ন স্কেলে শাস্তি দেওয়া হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সিলেট সিটি এলাকায় পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অবসর-পরবর্তী নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, অবসর গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এলজিইডির CIBRR প্রকল্পে ‘পিসি গার্ডার এক্সপার্ট কনসাল্ট্যান্ট’ পদে নিয়োগ পান কাজী আব্দুস সামাদ। নিয়ম অনুযায়ী এই পদে ন্যূনতম সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদমর্যাদা প্রয়োজন ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে আরও অনিয়মের তথ্য উদঘাটিত হতে পারে।
এ বিষয়ে কাজী আব্দুস সামাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আইসিটি আইনে সাজা দেওয়ার হুমকির অভিযোগ ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী কাজী আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৩৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজী আব্দুস সামাদের বিরুদ্ধে চাকরিকালীন সময়জুড়ে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র, দুদকের নথি এবং এলজিইডির বিভাগীয় কার্যক্রমের তথ্য বিশ্লেষণে এসব অভিযোগের বিষয় সামনে এসেছে।

সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে ফাসিস্ট হাসিনার পিএসসির সুপারিশে এলজিইডিতে যোগদানকারী কাজী আব্দুস সামাদ দীর্ঘদিন সিলেট অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। ওই সময় তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব বিস্তার করেন বলে সহকর্মীদের একাংশের অভিযোগ।

দুদকের একাধিক মামলা
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মরত থাকার সময় দুর্নীতির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চারটি মামলা দায়ের করে বলে জানা গেছে।ক) রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে কর্মকালীন সময়ে শুবলং জপজেলায় পানীয় জলের জন্য নির্মাণাধীন ডিপ টিউব ওয়েল না করে আত্মসাত করায় দুদক মামলা করে মামলা নং ০৩/২৩ তারিখ ০৯/০৩/২০২৪ সংশ্লিষ্ট সূত্রের খ) শুভলং এ কমিউনিটি ক্লিনিক ও পাকা সিড়ি নির্মান কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করায় দুদকের মামলা নং ০৪/২৩ তারিখ ০৯/০৩/২৪ গ) পূর্ব এরাবনিট হারুল টিলা থেকে আহাদের বাড়ী নির্মান কাজ না করে টাকা আত্মসাত করায় দুদক মামলা নং ০৫/২৪ তারিখ ০৯/০৩/২৪ রাঙ্গামাটি স্পেশাল জজকোর্ট মামলা দেন দাবি এসব মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

বিভাগীয় শাস্তির নজির
এলজিইডির অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি গাড়ির অপব্যবহার ও জ্বালানি তেল আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।মামলা নং ১২/২০২৩ স্মারক নং ৫১৫ তারিখ ১২/০৬/২০২৩, তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে উচ্চতর বেতন স্কেল থেকে নামিয়ে নিম্ন স্কেলে শাস্তি দেওয়া হয়।

উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
সিলেট সিটি এলাকায় পৌর বাস টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অবসর-পরবর্তী নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ রয়েছে, অবসর গ্রহণের পর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এলজিইডির CIBRR প্রকল্পে ‘পিসি গার্ডার এক্সপার্ট কনসাল্ট্যান্ট’ পদে নিয়োগ পান কাজী আব্দুস সামাদ। নিয়ম অনুযায়ী এই পদে ন্যূনতম সিনিয়র এক্সিকিউটিভ বা অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদমর্যাদা প্রয়োজন ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে আরও অনিয়মের তথ্য উদঘাটিত হতে পারে।
এ বিষয়ে কাজী আব্দুস সামাদের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদে সংযোজন করা হবে।