ঢাকা ১২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পেয়ে যে দাবি জানালেন নওগাঁর এমপি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর সন্ধ্যার মধ্যে যেসব জেলায় ঝড়-বৃষ্টির শঙ্কা চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪ নীলফামারীতে বিয়ে শেষে ফেরার পথে দুর্ঘটনা, মাইক্রোবাস খাদে পড়ে শিশুসহ নি’হ’ত ২ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে বন্যার্তদের মাঝে তারেক রহমানের উপহারের ত্রাণ ও ওষুধ বিতরন বাড়ি ভাড়ায় সচিবকে ছাড়িয়ে গেলেন কলেজের অধ্যক্ষ পাটের ভালো দামে খুশি রাজশাহীর কৃষক ঝালকাঠি শহরে গৃহবধূর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, হত্যার আশঙ্কা মেসির প্রশংসায় পঞ্চমুখ শাকিরা, সাফল্যের কৃতিত্ব দিলেন রোকুজ্জোকেও

দেশে নতুন প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৪৮ বার পড়া হয়েছে

দেশে রহস্যজনক পিআরভি রোগ ছড়ানোর কারণ হিসেবে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল নিপাহ ভাইরাসকে। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এটি আসলে নিপাহ নয়। রোগটির উৎস বাদুড়বাহিত নতুন আরেকটি ভাইরাস, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচজন রোগী জ্বর, বমি, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়বিক জটিলতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন, যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে। আর খেজুরের কাঁচা রস নিপাহ সংক্রমণের পরিচিত মাধ্যম।

তবে পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্তদের কারো শরীরেই নিপাহ ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাস নিতে সমস্যা এবং হাঁটাচলাসহ জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা যায়নি।

সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, আক্রান্তরা আসলে প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন। এটি একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস, যা মানুষের শরীরে গুরুতর স্নায়বিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে আরো বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকা, নজরদারি জোরদার করা এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পেয়ে যে দাবি জানালেন নওগাঁর এমপি

দেশে নতুন প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত, বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০৮:১২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে রহস্যজনক পিআরভি রোগ ছড়ানোর কারণ হিসেবে প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল নিপাহ ভাইরাসকে। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এটি আসলে নিপাহ নয়। রোগটির উৎস বাদুড়বাহিত নতুন আরেকটি ভাইরাস, যা মানুষের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গবেষণায় জানানো হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচজন রোগী জ্বর, বমি, মাথা ব্যথা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, মুখে অতিরিক্ত লালা নিঃসরণ এবং স্নায়বিক জটিলতাসহ নানা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পাঁচজনই খেজুরের কাঁচা রস পান করেছিলেন, যা বাদুড়ও খেয়ে থাকে। আর খেজুরের কাঁচা রস নিপাহ সংক্রমণের পরিচিত মাধ্যম।

তবে পরীক্ষায় দেখা যায়, আক্রান্তদের কারো শরীরেই নিপাহ ভাইরাস পাওয়া যায়নি।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও তিনজন দীর্ঘদিন ধরে তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, শ্বাস নিতে সমস্যা এবং হাঁটাচলাসহ জটিলতায় ভুগছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের ২০২৪ সালে মৃত্যু হয়, যার সুনির্দিষ্ট স্নায়বিক কারণ নির্ধারণ করা যায়নি।

সর্বশেষ গবেষণায় বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন, আক্রান্তরা আসলে প্টেরোপাইন অরথোরিওভাইরাস (পিআরভি)-এ সংক্রমিত হয়েছিলেন। এটি একটি বাদুড়বাহিত ভাইরাস, যা মানুষের শরীরে গুরুতর স্নায়বিক ও শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

গবেষকদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, এই ভাইরাসটি জিনগত পুনর্গঠনের মাধ্যমে আরো বেশি সংক্রামক ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। ফলে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা খেজুর গাছ থেকে নামানো কাঁচা রস পান থেকে বিরত থাকা, নজরদারি জোরদার করা এবং দ্রুত গবেষণা ও প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।