ঢাকা ০৭:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেনটিনায় যোগ দিলেন দুই ব্রাজিল সমর্থক ৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো ভারতে আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ৮ সংবাদপত্রের কালো আইন সংস্কারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৬১৬ কোটি, বাকিরা কে কত? এটা সেই দেশ, যে দেশ বারবার প্রতিরোধ করেছে, প্রতিরোধ করতে জানে: রিজভী কাজ শেষের আগেই বিল পরিশোধ, ৯২ কোটি টাকার প্রকল্প ১০৯ কোটিতে উন্নীত ফরিদপুরে জমি মাপকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকসহ পরিবারারের সদস্যদের উপর হামলা, আহত-৫  মৌলভীবাজারে একই পরিবারের ১১ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর পাশে জেলা প্রশাসন

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা-লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পর্যটন রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা লাবনী ইয়াছমিন। একইসঙ্গে ঘটনার প্রতিকার না পেয়ে এবং থানা পুলিশের ‘রহস্যজনক’ অসহযোগিতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার মহাখালী নিবাসী লাবনী ইয়াছমিন জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকায় স্থানীয় ইউসুফ খাঁর কাছ থেকে ৮৬ শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লিজ নেন তিনি ও তাঁর স্বামী। সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলেন ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লিজের কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হলেও, সামান্য বিলম্বের অজুহাতে ভূমি মালিক ইউসুফ খাঁ রিসোর্টটি দখল করার চেষ্টা শুরু করেন।
লাবনী অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকালে ইউসুফ খাঁর নেতৃত্বে ২৮-৩০ জন দেশীয় অস্ত্রসহ রিসোর্টে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রিসোর্টের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
“তারা আমাকে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি ও কিল-ঘুষি মারে এবং আমার শ্লীলতাহানি করে। এছাড়া রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।” – লাবনী ইয়াছমিন
হামলাকারীরা ক্যাশবক্স থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর ৯৯৯-এ কল দিয়েও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণে ‘তালবাহানা’ শুরু করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিপক্ষের করা মামলায় তাঁর স্বামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হলেও, রিসোর্টে হামলার ঘটনায় পুলিশ কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে। গত তিন দিন ধরে তারা ‘এক কাপড়ে’ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিন্তু এসপি বা ইউএনও অফিস থেকেও কার্যকর কোনো আশ্বাস পাননি বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই নারী উদ্যোক্তা।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি মালিক ইউসুফ খাঁ বলেন, “আমার কাছে সব বৈধ কাগজপত্র আছে। আমি আদালত ও থানায় মামলা দিয়েছি, যা ফয়সালা হবে আদালত করবে।” তবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রিসোর্টের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি আদালত ফয়সালা করবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেনটিনায় যোগ দিলেন দুই ব্রাজিল সমর্থক

শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা-লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৮:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি পর্যটন রিসোর্টে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং নারী উদ্যোক্তাকে শ্লীলতাহানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আজ দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা লাবনী ইয়াছমিন। একইসঙ্গে ঘটনার প্রতিকার না পেয়ে এবং থানা পুলিশের ‘রহস্যজনক’ অসহযোগিতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার মহাখালী নিবাসী লাবনী ইয়াছমিন জানান, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকায় স্থানীয় ইউসুফ খাঁর কাছ থেকে ৮৬ শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লিজ নেন তিনি ও তাঁর স্বামী। সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে গড়ে তোলেন ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লিজের কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হলেও, সামান্য বিলম্বের অজুহাতে ভূমি মালিক ইউসুফ খাঁ রিসোর্টটি দখল করার চেষ্টা শুরু করেন।
লাবনী অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি সকালে ইউসুফ খাঁর নেতৃত্বে ২৮-৩০ জন দেশীয় অস্ত্রসহ রিসোর্টে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রিসোর্টের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
“তারা আমাকে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি ও কিল-ঘুষি মারে এবং আমার শ্লীলতাহানি করে। এছাড়া রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধড়ক মারপিট করা হয়।” – লাবনী ইয়াছমিন
হামলাকারীরা ক্যাশবক্স থেকে নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয় বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ঘটনার পর ৯৯৯-এ কল দিয়েও তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলেও পুলিশ তা গ্রহণে ‘তালবাহানা’ শুরু করে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রতিপক্ষের করা মামলায় তাঁর স্বামীকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হলেও, রিসোর্টে হামলার ঘটনায় পুলিশ কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে। গত তিন দিন ধরে তারা ‘এক কাপড়ে’ দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন কিন্তু এসপি বা ইউএনও অফিস থেকেও কার্যকর কোনো আশ্বাস পাননি বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই নারী উদ্যোক্তা।
অভিযোগের বিষয়ে ভূমি মালিক ইউসুফ খাঁ বলেন, “আমার কাছে সব বৈধ কাগজপত্র আছে। আমি আদালত ও থানায় মামলা দিয়েছি, যা ফয়সালা হবে আদালত করবে।” তবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে রিসোর্টের মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়টি আদালত ফয়সালা করবে।