বাগেরহাটের শরণখোলা রেঞ্জে পূর্ব সুন্দরবনের টিয়ারচর থেকে দুই জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। গতকাল শনিবার (১০ জানুয়ারি) গভীর রাতে টিয়ারচরের কালামিয়ার ভারণী এলাকায় অপহরণের শিকার হন তারা। এ ঘটনায় সুন্দরবনের জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অপহৃত জেলেরা হলেন আবু হানিফ (৩২) ও খায়রুল ইসলাম (৩০)। তাদের বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার খাজুরা এলাকায়। তারা দুইজনই সুন্দরবনের শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী মিজান বহদ্দারের নৌকার জেলে। অপহৃত জেলেদের মহাজন মো. মিজান বহদ্দার আজ রবিবার বিকেলে মোবাইল ফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবার রাত ১২টার দিকে তাঁর জেলেরা টিয়ারচরের কালামিয়া ভারাণী নদীতে মাছ ধরছিলেন। এ সময় জেলেদের নৌকায় হানা দেয় বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা।
তারা দুটি নৌকা থেকে দুই জেলেকে তুলে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দস্যুদের সঙ্গে মহাজনের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সঙ্গী জেলেদের কাছে মোবাইল নম্বর দিয়ে যায় তারা। এদিকে, সুন্দরবনে একাধিক দস্যু বাহিনীর হাতে জেলে অপহরণ, নির্যাতন, মুক্তিপণ ও চাঁদা আদায়ের ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। দস্যুদের কারণে নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন সুন্দরবনের জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা।
শেলার চরের মৎস্য ব্যবসায়ী খুলনার আরিফ হোসেন মিঠু জানান, গত মাসে তার চার জেলেকে অপহরণ করেছিল জাহাঙ্গীর বাহিনী। পরে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাদেরকে মুক্ত করে এনেছেন।
ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন মিঠু আরো জানান, গোটা সুন্দরবন এখন বনদস্যুদের দখলে। তাদের তাণ্ডবে জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা দিশাহারা। দস্যুদের চাঁদা না দিয়ে বনে মাছ ধরার কোনো উপায় নেই।
মহাজনদের আগে বিকাশের মাধ্যমে দস্যুদের চাঁদার টাকা পরিশোধ করে তবে জেলেদের বনে পাঠাতে হচ্ছে। চাঁদা না পেলে জেলেদের নির্যাতন ও অপহরণ করছে দস্যুরা। দস্যু দমনে র্যাব ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার আব্দুস সবুর টিয়ারচরে দুই জেলেকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, টিয়ারচরে জেলে অপহরণের বিষয়টি শুনেছি। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























