ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তরুণ উদ্ভাবকরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ : প্রধানমন্ত্রী কালিয়াকৈরে ৫০ ভিক্ষুক পরিবারের পুনর্বাসনে ২৪ লাখ টাকার বকনা গরু বিতরণ জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার ফেনী পাসপোর্ট অফিসের এডি জাহাঙ্গীরকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ সিলেটে দল বদলেছে, দখল বদলায়নি; চাঁদাবাজি চলছে আগের মতোই ডিএনসিসি প্রশাসক ও ঢাকা-১৮ এর এমপির ওপর হামলার চেষ্টার অভিযোগ রায়পুরায় মোমেন মিয়া কে গুলি করে হত্যা, আহত ৩ বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৩ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার চট্টগ্রাম গণপূর্তে প্রকৌশলী মেহেদী ও এনডিইকে ঘিরে ৫০ লাখ টাকার ঘুষের অভিযোগ

ঘুম ভাঙার পর যে ভুলে বাড়তে পারে মৃত্যুর আশঙ্কা

  • লাইফস্টাইল
  • আপডেট সময় ০২:২২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫২ বার পড়া হয়েছে

সারা দিন ভালো থাকার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার কেউ অফিসের কাজ নিয়ে টেনশন করেন। এ ধরনের অভ্যাসগুলো শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে।

আর একজন সাধারণ মানুষের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে সকালবেলা। যাদের হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা রয়েছে, তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সকালবেলা। কারণ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা হার্টের রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে কোনো ভুল করা চলবে না।

জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন না হলে যে কোনো বয়সেই থাবা বসাতে পারে হৃদরোগ। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সময়ের অভাবে অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অত্যধিক ব্যস্ততা অথবা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি।

এর সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, বাইরের তেল-মসলাদার খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসেও লাগাম টেনে ধরতে হবে। এসবের পাশাপাশি হৃদরোগ ঠেকাতে আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে সকালে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, মানসিক চাপ ছাড়াও সকালের কিছু অভ্যাসের কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, প্লেটলেটের আঠালো ভাব বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে রক্তচাপের মাত্রাও বেড়ে যায়। এসব কারণে সকালবেলা হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বেশি থাকে। সকালের কিছু ভালো অভ্যাস হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।

এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন হৃদরোগ চিকিৎসক সঞ্জয় ভোজরাজ। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে— সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং হৃদরোগের কারণে মৃত্যুও এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়। বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা গেছে গবেষণায়। সকালে উঠেই কফিতে চুমুক, পানি না খাওয়া, ওষুধ না খাওয়া এবং কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া— এসব অভ্যাস হার্টের পক্ষে মোটেও ভালো নয়। হৃদরোগ এড়াতে চাইলে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে খালি পেটে পানি খান বেশি করে, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিন। প্রোটিনে ভরপুর প্রাতরাশ করুন, তারপর চা-কফি খান। সকালে উঠে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। এভাবে সকালটা শুরু করলে হার্ট ভালো থাকবে।

অন্যদিকে হৃদরোগ চিকিৎসক দিলীপ কুমার বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে স্বাভাবিক কারণেই রক্তচাপ ও হার্ট রেট বেড়ে যায়। সকালের দিকে প্লেটলেটের ঘনত্ব বেড়ে যায় বলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বাড়ে। এর প্রভাবে করোনারি আর্টারি ব্লক হওয়ার ঝুঁকিও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই হৃদরোগীদের সকালবেলা বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সকালের রুটিনে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি বাদ দেওয়া চলবে না।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসকসহ দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ঘুম ভাঙার পর যে ভুলে বাড়তে পারে মৃত্যুর আশঙ্কা

আপডেট সময় ০২:২২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

সারা দিন ভালো থাকার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। আবার কেউ অফিসের কাজ নিয়ে টেনশন করেন। এ ধরনের অভ্যাসগুলো শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক হতে পারে।

আর একজন সাধারণ মানুষের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে সকালবেলা। যাদের হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা রয়েছে, তাদের সচেতন হওয়া জরুরি। বিশেষ করে সকালবেলা। কারণ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বেশ কয়েক ঘণ্টা হার্টের রোগীদের বিশেষ সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে কোনো ভুল করা চলবে না।

জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন না হলে যে কোনো বয়সেই থাবা বসাতে পারে হৃদরোগ। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে এ বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। কিন্তু অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সময়ের অভাবে অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া, অত্যধিক ব্যস্ততা অথবা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি।

এর সঙ্গে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি, বাইরের তেল-মসলাদার খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসেও লাগাম টেনে ধরতে হবে। এসবের পাশাপাশি হৃদরোগ ঠেকাতে আরও একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কারণ হার্ট অ্যাটাক হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে সকালে।

এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, মানসিক চাপ ছাড়াও সকালের কিছু অভ্যাসের কারণে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়, প্লেটলেটের আঠালো ভাব বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে রক্তচাপের মাত্রাও বেড়ে যায়। এসব কারণে সকালবেলা হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা বেশি থাকে। সকালের কিছু ভালো অভ্যাস হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।

এ বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন হৃদরোগ চিকিৎসক সঞ্জয় ভোজরাজ। তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে— সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং হৃদরোগের কারণে মৃত্যুও এই সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয়। বিকাল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যেও এই প্রবণতা দেখা গেছে গবেষণায়। সকালে উঠেই কফিতে চুমুক, পানি না খাওয়া, ওষুধ না খাওয়া এবং কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া— এসব অভ্যাস হার্টের পক্ষে মোটেও ভালো নয়। হৃদরোগ এড়াতে চাইলে ঘুম থেকে উঠে সবার আগে খালি পেটে পানি খান বেশি করে, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র নিন। প্রোটিনে ভরপুর প্রাতরাশ করুন, তারপর চা-কফি খান। সকালে উঠে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন। এভাবে সকালটা শুরু করলে হার্ট ভালো থাকবে।

অন্যদিকে হৃদরোগ চিকিৎসক দিলীপ কুমার বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে স্বাভাবিক কারণেই রক্তচাপ ও হার্ট রেট বেড়ে যায়। সকালের দিকে প্লেটলেটের ঘনত্ব বেড়ে যায় বলে রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও বাড়ে। এর প্রভাবে করোনারি আর্টারি ব্লক হওয়ার ঝুঁকিও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই হৃদরোগীদের সকালবেলা বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। সকালের রুটিনে শরীরচর্চা, হাঁটাহাঁটি বাদ দেওয়া চলবে না।