সংবাদ শিরোনাম ::
মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তিস্তার স্রোতে ধসে গেল ১৪ লাখ টাকার বাঁশের পাইলিং, ঝুঁকিতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু “চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্সের অভিযান: ওয়ারড্রব থেকে হেরোইন-ইয়াবা-গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি আটক অনিয়মের বেড়াজালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়: মন্ত্রী-সচিবের নির্দেশেও ঘুষ ছাড়া নড়ে না ফাইল স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা, পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ অর্থনৈতিক সংকট সমাধানে দুই বছর লাগবে: অর্থমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করায় ইসরায়েলের তোপের মুখে ট্রাম্প বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে সুইডেন রাষ্ট্রদূতের বৈঠক দুদকের মামলায় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী চার দিনের রিমান্ড বিকেলে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী

মাদুরোকে গ্রেফতার এর পর কলম্বিয়াকে হুমকি ট্রাম্পের

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, কিউবার সরকারও খুব শিগগিরই পতনের মুখে পড়তে পারে।

রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা—দুটি দেশই ‘ভীষণভাবে অসুস্থ’। তিনি কলম্বিয়ার সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বোগোতার সরকার পরিচালনা করছেন।

তিনি একজন অসুস্থ মানুষ, তিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।’ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বেশি দিন এটা করতে পারবেন না, আমি আপনাদের বলছি।’
সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, তিনি কি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযানের কথা বলছেন—জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে তো ভালোই শোনাচ্ছে।’

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, তাকে যেনো অপবাদ দেওয়া বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পেত্রোর ভাষায়, ঐক্য না হলে অঞ্চলটির দেশগুলোকে দাস ও চাকরের মতো আচরণ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক দীর্ঘ পোস্টে পেত্রো বলেন, ‘মানব ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ, যারা দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়েছে।

’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিশোধ কোনো সমাধান নয়।
পেত্রোর মতে, লাতিন আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হতে হবে, যা বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বোঝাপড়া, বাণিজ্য এবং সহযোগিতার সক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু উত্তরের দিকে তাকাই না, সব দিকেই তাকাই।’

এদিকে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। ওয়াশিংটন জানায়, এটি ছিল একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান এবং মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার করার জন্যই তাকে আটক করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচকরা বলছেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মূল লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। যদিও দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

ট্রাম্প আরো হুমকি দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা যদি ভাল আচরণ না করে, তাহলে সেখানে আবারও মার্কিন সেনা পাঠানো হতে পারে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অনেক কিউবান নিহত হয়েছেন। তবে কিউবার বিরুদ্ধে আলাদা সামরিক অভিযান প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, কিউবা এমনিতেই পতনের পথে।

ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবা ভেঙে পড়ার জন্য প্রস্তুত। কিউবার এখন কোনো আয় নেই। তারা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পেত এবং সেখান থেকেই আয় করত। এখন আর কিছুই পাচ্ছে না। কিউবা কার্যত পতনের মুখে।’ একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোকেও সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, দেশটিকে নিজেদের পরিস্থিতি সামলাতে হবে, কারণ মাদক মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কিছু একটা করতে হবে’। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমকে ‘দারুণ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি একাধিকবার তাকে মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, মেক্সিকোর সরকার সক্ষম হলেও দেশটিতে মাদকচক্রগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।

রবিবারের এসব মন্তব্যের আগেও ট্রাম্প কলম্বিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের পর তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে উদ্দেশ করে বলেন, তাকে ‘নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে হবে’। কিউবাকে তিনি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেও মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প উনিশ শতকের ‘মনরো মতবাদ’ নতুনভাবে কার্যকর করতে চাইছেন। তিনি নিজেই একে একবিংশ শতাব্দীর সংস্করণ হিসেবে ‘ডন-রো মতবাদ’ নাম দিয়েছেন।

এদিকে ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন এক যৌথ বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশগুলো বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প আদৌ এসব হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্র অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ বলেন, ট্রাম্প সাধারণত বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে চাপ দিতে চান, যাতে প্রকৃত সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেয়।

তিনি আরো বলেন, লাতিন আমেরিকায় সরকার পরিবর্তনের চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ট্রাম্প আগেও সক্রিয় ছিলেন। এর মধ্যে কলম্বিয়ার সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুতে দ্বন্দ্ব, ব্রাজিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিচার সংশ্লিষ্ট বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আর্জেন্টিনার ডানপন্থি সরকারকে সমর্থন এবং সাবেক হন্ডুরাস প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা করার ঘটনা রয়েছে।

সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ম্যাথিউ উইলসনের মতে, ভবিষ্যতে যদি আরো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে কিউবাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। তার মতে, কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং কিউবান-আমেরিকানদের শক্ত অবস্থান এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে।

সূত্র : আলজাজিরা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

মাদুরোকে গ্রেফতার এর পর কলম্বিয়াকে হুমকি ট্রাম্পের

আপডেট সময় ০১:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, কিউবার সরকারও খুব শিগগিরই পতনের মুখে পড়তে পারে।

রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলা—দুটি দেশই ‘ভীষণভাবে অসুস্থ’। তিনি কলম্বিয়ার সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বোগোতার সরকার পরিচালনা করছেন।

তিনি একজন অসুস্থ মানুষ, তিনি কোকেন তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন।’ কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি বেশি দিন এটা করতে পারবেন না, আমি আপনাদের বলছি।’
সাংবাদিকরা যখন জানতে চান, তিনি কি কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অভিযানের কথা বলছেন—জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার কাছে তো ভালোই শোনাচ্ছে।’

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো।

তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বলেন, তাকে যেনো অপবাদ দেওয়া বন্ধ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পেত্রোর ভাষায়, ঐক্য না হলে অঞ্চলটির দেশগুলোকে দাস ও চাকরের মতো আচরণ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একাধিক দীর্ঘ পোস্টে পেত্রো বলেন, ‘মানব ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম দেশ, যারা দক্ষিণ আমেরিকার একটি রাজধানীতে বোমা হামলা চালিয়েছে।

’ তবে তিনি স্পষ্ট করেন, প্রতিশোধ কোনো সমাধান নয়।
পেত্রোর মতে, লাতিন আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হতে হবে, যা বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বোঝাপড়া, বাণিজ্য এবং সহযোগিতার সক্ষমতা রাখে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু উত্তরের দিকে তাকাই না, সব দিকেই তাকাই।’

এদিকে ট্রাম্পের এসব মন্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন মাদুরোকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে নিন্দা জানিয়েছে।

এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কারাকাসে অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। ওয়াশিংটন জানায়, এটি ছিল একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান এবং মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার করার জন্যই তাকে আটক করা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচকরা বলছেন, মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মূল লক্ষ্য ছিল ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল মজুদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই রয়েছে। যদিও দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

ট্রাম্প আরো হুমকি দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলা যদি ভাল আচরণ না করে, তাহলে সেখানে আবারও মার্কিন সেনা পাঠানো হতে পারে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে অনেক কিউবান নিহত হয়েছেন। তবে কিউবার বিরুদ্ধে আলাদা সামরিক অভিযান প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, কিউবা এমনিতেই পতনের পথে।

ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবা ভেঙে পড়ার জন্য প্রস্তুত। কিউবার এখন কোনো আয় নেই। তারা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পেত এবং সেখান থেকেই আয় করত। এখন আর কিছুই পাচ্ছে না। কিউবা কার্যত পতনের মুখে।’ একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোকেও সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, দেশটিকে নিজেদের পরিস্থিতি সামলাতে হবে, কারণ মাদক মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে।

তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কিছু একটা করতে হবে’। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমকে ‘দারুণ মানুষ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, তিনি একাধিকবার তাকে মেক্সিকোতে মার্কিন সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, মেক্সিকোর সরকার সক্ষম হলেও দেশটিতে মাদকচক্রগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী।

রবিবারের এসব মন্তব্যের আগেও ট্রাম্প কলম্বিয়া ও কিউবার বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিযানের পর তিনি কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে উদ্দেশ করে বলেন, তাকে ‘নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে হবে’। কিউবাকে তিনি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলেও মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যে ট্রাম্প উনিশ শতকের ‘মনরো মতবাদ’ নতুনভাবে কার্যকর করতে চাইছেন। তিনি নিজেই একে একবিংশ শতাব্দীর সংস্করণ হিসেবে ‘ডন-রো মতবাদ’ নাম দিয়েছেন।

এদিকে ব্রাজিল, চিলি, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, উরুগুয়ে ও স্পেন এক যৌথ বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশগুলো বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক নজির।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প আদৌ এসব হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্তরাষ্ট্র অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক ডেভিড স্মিথ বলেন, ট্রাম্প সাধারণত বড় ধরনের শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকে চাপ দিতে চান, যাতে প্রকৃত সামরিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেয়।

তিনি আরো বলেন, লাতিন আমেরিকায় সরকার পরিবর্তনের চাপ তৈরির ক্ষেত্রে ট্রাম্প আগেও সক্রিয় ছিলেন। এর মধ্যে কলম্বিয়ার সঙ্গে অভিবাসন ইস্যুতে দ্বন্দ্ব, ব্রাজিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর বিচার সংশ্লিষ্ট বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা, আর্জেন্টিনার ডানপন্থি সরকারকে সমর্থন এবং সাবেক হন্ডুরাস প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা করার ঘটনা রয়েছে।

সাউদার্ন মেথডিস্ট ইউনিভার্সিটির রাজনৈতিক বিজ্ঞানী ম্যাথিউ উইলসনের মতে, ভবিষ্যতে যদি আরো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে কিউবাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে। তার মতে, কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বিরোধ এবং কিউবান-আমেরিকানদের শক্ত অবস্থান এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রো যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চলছে।

সূত্র : আলজাজিরা।