অর্থনৈতিক ধসের জেরে ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতার মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) দেশটির কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, চলমান বিক্ষোভে নতুন করে আরও দুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলা এই অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ তো নেই-ই, বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যে উত্তেজনা আরও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শনিবার ভোররাত পর্যন্ত চলা সহিংসতায় পবিত্র কুম শহরে গ্রেনেড বিস্ফোরণে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, ওই ব্যক্তি হামলা চালানোর উদ্দেশ্যেই গ্রেনেডটি বহন করছিলেন। অন্যদিকে কেরমানশাহ প্রদেশের হারসিন শহরে বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনীর এক সদস্যকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ইরান সরকারকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘‘তেহরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।’’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার নেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করার পাল্টা হুমকি দিয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২২টিতেই এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির মুদ্রাস্ফীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে; বর্তমানে খোলা বাজারে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান ১৪ লাখে গিয়ে ঠেকেছে। এই নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটই মানুষকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।
ইরানের সংস্কারপন্থী প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেছেন। ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভ। গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকেই দেশটির অর্থনীতি ধুঁকছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























