ঢাকা ১০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের পরদিন ডোবায় মিলল সাবেক মেম্বারের ছেলের লাশ, হত্যার অভিযোগ হোসেনপুরে ৩৬ জুলাই উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত  কোটালীপাড়ায় কৃষক কার্ড হালনাগাদ কাযক্রম পরিদর্শনে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক রামগতিতে মাটির নিচে মিলল ৩টি মর্টারশেল, পুলিশি হেফাজতে পাঁচবিবির ইউএনও মহিলা এমপি আন্নাকে উপহার দিলেন গাছের চারা বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় সাবেক বনমন্ত্রী ও তাঁর ছেলে সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা পেতে ভোগান্তি, ৯ টায় অফিস উপস্থিত ১২ টায় নিজস্ব কারখানা অচল, ঠিকাদার-নির্ভর আসবাব কেনে গণপূর্ত ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ পাওয়া সেই ১৪৩ কর্মী এবার তদন্তের মুখে
লক্ষ্মীপুর-৪ আসন

একক প্রার্থীতে উজ্জীবিত বিএনপি, বিভক্ত ইসলামপন্থী দলগুলো

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক হিসাব-নিকাশ। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে এবার মনোনয়নপত্র জমা দেন মোট আটজন প্রার্থী। গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

আসনটিতে প্রার্থীরা হলেন বিএনপি থেকে সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) মনোনীত কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এ আর হাফিজ উল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেত্রী বিথীকা বিনতে হোসাইন, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হুদা চৌধুরী, মঞ্জুর মোর্শেদ জুয়েল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত অ্যাড. মিলন মণ্ডল, খেলাফত মজলিস মনোনীত মাওলানা আব্দুল মতিন ও গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী রিদওয়ান উল্যা খাঁন।

এদিকে, আসনটিতে সমানতালে বইছে নির্বাচনের আমেজ। দিনভর চলছে প্রচার-প্রচারণা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে বিএনপিতে কিছুটা বিভক্তি দেখা যাচ্ছে।

এতে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালেও ইসলামপন্থী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় বিএনপির প্রার্থীর ভোটের অঙ্ক অনেকটা সহজ রূপ নিচ্ছে। আবার ইসলামী দলগুলোর একক প্রার্থী হলে ধানের শীষের প্রার্থী নিজানের জন্য যেমন জিতে আসা কঠিন হবে, তেমনি তারা আলাদাভাবে ভোটের মাঠে থাকলে আশরাফ উদ্দিন নিজানের জয় অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৪ জন। আসনটিতে ১২১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

বড় এই ভোটার সংখ্যার সামান্য বিভাজনই নির্বাচনের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে এমপি, মন্ত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। মন্ত্রী হয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, এমপি হয়েছে সিএসপি আব্দুর রব চৌধুরী ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

২০০১ থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হন নিজান। এরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। সে লক্ষ্যে ধানের শীষের প্রার্থী নিজান এক বছর ধরে রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃনমুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ব্যক্তি নিজান এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা। অন্যদিকে তিনি ধানের শীষেরও প্রার্থী। সবমিলিয়ে আসনটি এবার দখলে নিতে মরিয়া হয়ে দলটি।
এ ব্যাপারে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রামগতি-কমলনগর আমার জন্মভূমি। এ আসন থেকে জনগণের ভোটে আমি দুইবার সংসদ সদস্য হয়েছি। এবারও বিশ্বাস করি, মানুষ বিএনপিকে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নদীভাঙন রোদ ও ভূলুয়া নদী খনন করা। আমি ভোটারদের কাছে ওয়াদা করেছি, এ দুটি সমস্যা সমাধানে আমি উদ্যোগ নেব। আমি শতভাগ নিশ্চিত এবার ধানের শীষের বিজয় হবে।

ইসলামী আন্দোলন-জামায়াত দ্বন্দ্বে বিএনপির পালে হাওয়া
আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের দ্বন্দ্বের সুফল যাবে বিএনপির ঘরে- এমনটাই ধারণা সাধারণ ভোটারদের। এ আসনে জামায়াতের পাশাপাশি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা)। দলটির শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে বিগত ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে চমক দেখায় দলটি। উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর শেষ পর্যন্ত ঐক্য থাকলে আসনটি তাদের ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ঐক্য বিনষ্ট হলে সেই অবস্থান হারাতে হবে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতকে। ফলে জিতে যাবে ধানের শীষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য শেষ পর্যন্ত না টিকলে লক্ষ্মীপুর জেলার ৪ টি আসনের মধ্যে একটি আসনও ইসলামী জোট পাবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমাদের আমির চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম প্রথম থেকেই বলেছেন ইসলাম ও দেশপ্রেমিক দল মিলে একটি ব্যালট বাক্স পাঠানোর কথা। যেখানে যে দলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে তারা প্রার্থী দেবে, তার পরও আমরা বলছি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে। আমরা এখনও আশাবাদী, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি
এ আসনে বাড়ি জেএসডি নেতা আ স ম আব্দুর রবের। দলটির মূল ভোটব্যাংক এখানে। দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব তারা মার্কা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁদের সম্মানজনক ভোটব্যাংক হবে জয়-পরাজয়ের মূল চাবি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আ স ম আব্দুর রবের জেএসডির একক ভোট দিয়ে জয়লাভ করা সম্ভব না হলেও দলটির বিপুল পরিমাণ ভোট যে প্রার্থীর ঘরে যাবে, তাঁর বিজয় অনেকটা সহজ হবে।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের পরদিন ডোবায় মিলল সাবেক মেম্বারের ছেলের লাশ, হত্যার অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর-৪ আসন

একক প্রার্থীতে উজ্জীবিত বিএনপি, বিভক্ত ইসলামপন্থী দলগুলো

আপডেট সময় ০২:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসন নিয়ে চলছে বহুমাত্রিক হিসাব-নিকাশ। বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে এবার মনোনয়নপত্র জমা দেন মোট আটজন প্রার্থী। গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

আসনটিতে প্রার্থীরা হলেন বিএনপি থেকে সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) মনোনীত কমলনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও দলটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) মনোনীত দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এ আর হাফিজ উল্লাহ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপি নেত্রী বিথীকা বিনতে হোসাইন, কমলনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল হুদা চৌধুরী, মঞ্জুর মোর্শেদ জুয়েল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত অ্যাড. মিলন মণ্ডল, খেলাফত মজলিস মনোনীত মাওলানা আব্দুল মতিন ও গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী রিদওয়ান উল্যা খাঁন।

এদিকে, আসনটিতে সমানতালে বইছে নির্বাচনের আমেজ। দিনভর চলছে প্রচার-প্রচারণা। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন। তবে বিএনপিতে কিছুটা বিভক্তি দেখা যাচ্ছে।

এতে দলটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ালেও ইসলামপন্থী দলগুলোর একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকায় বিএনপির প্রার্থীর ভোটের অঙ্ক অনেকটা সহজ রূপ নিচ্ছে। আবার ইসলামী দলগুলোর একক প্রার্থী হলে ধানের শীষের প্রার্থী নিজানের জন্য যেমন জিতে আসা কঠিন হবে, তেমনি তারা আলাদাভাবে ভোটের মাঠে থাকলে আশরাফ উদ্দিন নিজানের জয় অনেকটা সহজ হবে বলে মনে করছেন ভোটাররা।
এই আসনে মোট ভোটার তিন লাখ ৭৯ হাজার ৬৩৪ জন। আসনটিতে ১২১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।

বড় এই ভোটার সংখ্যার সামান্য বিভাজনই নির্বাচনের ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি রামগতি-কমলনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৪ আসন। আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ আসন থেকে এমপি, মন্ত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর সভাপতি আ স ম আব্দুর রব। মন্ত্রী হয়েছেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, এমপি হয়েছে সিএসপি আব্দুর রব চৌধুরী ও এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।

২০০১ থেকে ১৩ সাল পর্যন্ত টানা দুইবার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি হন নিজান। এরপর তিনটি বিতর্কিত নির্বাচনে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে চায় বিএনপি। সে লক্ষ্যে ধানের শীষের প্রার্থী নিজান এক বছর ধরে রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তৃনমুল নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হন। ব্যক্তি নিজান এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা। অন্যদিকে তিনি ধানের শীষেরও প্রার্থী। সবমিলিয়ে আসনটি এবার দখলে নিতে মরিয়া হয়ে দলটি।
এ ব্যাপারে আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, রামগতি-কমলনগর আমার জন্মভূমি। এ আসন থেকে জনগণের ভোটে আমি দুইবার সংসদ সদস্য হয়েছি। এবারও বিশ্বাস করি, মানুষ বিএনপিকে বিজয়ী করবে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নদীভাঙন রোদ ও ভূলুয়া নদী খনন করা। আমি ভোটারদের কাছে ওয়াদা করেছি, এ দুটি সমস্যা সমাধানে আমি উদ্যোগ নেব। আমি শতভাগ নিশ্চিত এবার ধানের শীষের বিজয় হবে।

ইসলামী আন্দোলন-জামায়াত দ্বন্দ্বে বিএনপির পালে হাওয়া
আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতের দ্বন্দ্বের সুফল যাবে বিএনপির ঘরে- এমনটাই ধারণা সাধারণ ভোটারদের। এ আসনে জামায়াতের পাশাপাশি বড় ভোটব্যাংক রয়েছে ইসলামী আন্দোলনের (হাতপাখা)। দলটির শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছে বিগত ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে রামগতি-কমলনগরের বিভিন্ন ইউনিয়নে চমক দেখায় দলটি। উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের টানা দুইবারের ইউপি চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ। ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর শেষ পর্যন্ত ঐক্য থাকলে আসনটি তাদের ঘরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর ঐক্য বিনষ্ট হলে সেই অবস্থান হারাতে হবে ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতকে। ফলে জিতে যাবে ধানের শীষ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের ঐক্য শেষ পর্যন্ত না টিকলে লক্ষ্মীপুর জেলার ৪ টি আসনের মধ্যে একটি আসনও ইসলামী জোট পাবে কিনা, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, আমাদের আমির চরমোনাইর পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম প্রথম থেকেই বলেছেন ইসলাম ও দেশপ্রেমিক দল মিলে একটি ব্যালট বাক্স পাঠানোর কথা। যেখানে যে দলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সেখানে তারা প্রার্থী দেবে, তার পরও আমরা বলছি, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সবকিছুর নিষ্পত্তি হবে। আমরা এখনও আশাবাদী, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি
এ আসনে বাড়ি জেএসডি নেতা আ স ম আব্দুর রবের। দলটির মূল ভোটব্যাংক এখানে। দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া রব তারা মার্কা নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁদের সম্মানজনক ভোটব্যাংক হবে জয়-পরাজয়ের মূল চাবি। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আ স ম আব্দুর রবের জেএসডির একক ভোট দিয়ে জয়লাভ করা সম্ভব না হলেও দলটির বিপুল পরিমাণ ভোট যে প্রার্থীর ঘরে যাবে, তাঁর বিজয় অনেকটা সহজ হবে।