ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে হাসনাত-নাসীরুদ্দীনের ধাক্কাধাক্কি সংবাদেই মিলল বিমলার আশ্রয়ের আশা, সহায়তা নিয়ে হাজির প্রশাসন কালুখালীতে ট্রাক-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে পাংশা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সহ ৬ জন আহত ব্রাহ্মণপাড়ায় নিখোঁজের পরদিন ডোবায় মিলল সাবেক মেম্বারের ছেলের লাশ, হত্যার অভিযোগ হোসেনপুরে ৩৬ জুলাই উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত  কোটালীপাড়ায় কৃষক কার্ড হালনাগাদ কাযক্রম পরিদর্শনে কৃষি বিভাগের উপপরিচালক রামগতিতে মাটির নিচে মিলল ৩টি মর্টারশেল, পুলিশি হেফাজতে পাঁচবিবির ইউএনও মহিলা এমপি আন্নাকে উপহার দিলেন গাছের চারা বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচনায় সাবেক বনমন্ত্রী ও তাঁর ছেলে

নবী ঈসা (আ.)-এর জীবনীতে মুমিনের জন্য রয়েছে যেসব শিক্ষা

  • ধর্ম ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৪০ বার পড়া হয়েছে

ছবি- সংগৃহীত

হজরত ঈসা (আ.) ছিলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত এক বিশেষ এবং সম্মানিত রাসুল। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রায় ৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন তিনি। ইসলামি আকিদা অনুসারে, তিনি আল্লাহর কুদরতে সতী ও কুমারী মা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর গর্ভে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়ে যাওয়া এই নবীর জীবন ও কর্ম আজও মুসলমানদের জন্য এক অফুরন্ত শিক্ষার উৎস।

পবিত্র কোরআনে হজরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর বান্দা এবং একজন সম্মানিত রাসুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম তাকে কখনোই ঐশ্বরিক সত্তা বা আল্লাহর অংশীদার মনে করে না। বরং তিনি ছিলেন আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী একজন মানুষ, যিনি আল্লাহর হুকুমে অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান এবং মৃতকে জীবিত করার মতো অবিশ্বাস্য মুজিজা প্রদর্শন করেছিলেন।

নবী ঈসা (আ.)-এর দাওয়াতের মূল ভিত্তি ছিল তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। তিনি মানুষকে দুনিয়াবি ভোগবিলাসের মোহ ত্যাগ করে চিরস্থায়ী সত্যের পথে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার আহ্বান জানাতেন। হারাম ও অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি মানুষকে হালাল ও পবিত্র (তাইয়্যিব) জীবনযাপনের পথ দেখিয়েছেন।

নবী ঈসা (আ.)-এর শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেহ, আত্মা ও রিজিকের পবিত্রতা। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘‘হে মানুষ, পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’’

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের ভক্ষণ করা খাদ্যের প্রভাব সরাসরি তার আত্মার ওপর পড়ে। হালাল কেবল খাদ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সততা, শালীনতা এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতা—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। নবী ঈসা (আ.) এবং পরবর্তীতে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথে চলে মুসলমানরা আজও জীবনের সর্বক্ষেত্রে এই পবিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে, যেখানে ভেজাল খাদ্য ও অনৈতিকতার ছড়াছড়ি, সেখানে নবী ঈসা (আ.)-এর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহে গোপন হারাম উপাদানের সংমিশ্রণ মুসলমানদের মনে প্রায়ই সন্দেহের সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়াবি লোভ ত্যাগ করা এবং হালাল পণ্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে মুসলমানরা পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষার প্রতি সম্মান জানান। ঈমান যে কেবল সুবিধার ওপর নয়, বরং দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত—এই শিক্ষা নবী ঈসা (আ.)-এর জীবনী থেকেই পাওয়া যায়।

সব নবীরই অভিন্ন মিশন ছিল মানুষকে কল্যাণকর ও পবিত্র পথের সন্ধান দেওয়া। সুরা আল ইমরানের ৫১ নম্বর আয়াতে নবী ঈসা (আ.)-এর উক্তি উদ্ধৃত হয়েছে এভাবে—‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তারই ইবাদত করো, এটাই সরল পথ।’’ তার জীবন কেবল ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও সত্যনিষ্ঠার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে সম্মত ঢাকা-দিল্লি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নবী ঈসা (আ.)-এর জীবনীতে মুমিনের জন্য রয়েছে যেসব শিক্ষা

আপডেট সময় ১২:০২:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

হজরত ঈসা (আ.) ছিলেন মহান আল্লাহর প্রেরিত এক বিশেষ এবং সম্মানিত রাসুল। শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রায় ৫০০ বছর আগে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন তিনি। ইসলামি আকিদা অনুসারে, তিনি আল্লাহর কুদরতে সতী ও কুমারী মা মারইয়াম (আলাইহাস সালাম)-এর গর্ভে অলৌকিকভাবে জন্মগ্রহণ করেন। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের সুসংবাদ দিয়ে যাওয়া এই নবীর জীবন ও কর্ম আজও মুসলমানদের জন্য এক অফুরন্ত শিক্ষার উৎস।

পবিত্র কোরআনে হজরত ঈসা (আ.)-কে আল্লাহর বান্দা এবং একজন সম্মানিত রাসুল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম তাকে কখনোই ঐশ্বরিক সত্তা বা আল্লাহর অংশীদার মনে করে না। বরং তিনি ছিলেন আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী একজন মানুষ, যিনি আল্লাহর হুকুমে অন্ধকে দৃষ্টিশক্তি দান এবং মৃতকে জীবিত করার মতো অবিশ্বাস্য মুজিজা প্রদর্শন করেছিলেন।

নবী ঈসা (আ.)-এর দাওয়াতের মূল ভিত্তি ছিল তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদ। তিনি মানুষকে দুনিয়াবি ভোগবিলাসের মোহ ত্যাগ করে চিরস্থায়ী সত্যের পথে এবং আল্লাহর বিধান মেনে চলার আহ্বান জানাতেন। হারাম ও অনৈতিকতা থেকে দূরে থাকার সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি মানুষকে হালাল ও পবিত্র (তাইয়্যিব) জীবনযাপনের পথ দেখিয়েছেন।

নবী ঈসা (আ.)-এর শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল দেহ, আত্মা ও রিজিকের পবিত্রতা। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৬৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘‘হে মানুষ, পৃথিবীতে যা কিছু হালাল ও পবিত্র রয়েছে তা থেকে আহার করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।’’

ইসলামি শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের ভক্ষণ করা খাদ্যের প্রভাব সরাসরি তার আত্মার ওপর পড়ে। হালাল কেবল খাদ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সততা, শালীনতা এবং ব্যবসায়িক নৈতিকতা—সবই এর অন্তর্ভুক্ত। নবী ঈসা (আ.) এবং পরবর্তীতে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর দেখানো পথে চলে মুসলমানরা আজও জীবনের সর্বক্ষেত্রে এই পবিত্রতা বজায় রাখার চেষ্টা করেন।

বর্তমান আধুনিক বিশ্বে, যেখানে ভেজাল খাদ্য ও অনৈতিকতার ছড়াছড়ি, সেখানে নবী ঈসা (আ.)-এর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহে গোপন হারাম উপাদানের সংমিশ্রণ মুসলমানদের মনে প্রায়ই সন্দেহের সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়াবি লোভ ত্যাগ করা এবং হালাল পণ্য বেছে নেওয়ার মাধ্যমে মুসলমানরা পূর্ববর্তী নবীদের শিক্ষার প্রতি সম্মান জানান। ঈমান যে কেবল সুবিধার ওপর নয়, বরং দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত—এই শিক্ষা নবী ঈসা (আ.)-এর জীবনী থেকেই পাওয়া যায়।

সব নবীরই অভিন্ন মিশন ছিল মানুষকে কল্যাণকর ও পবিত্র পথের সন্ধান দেওয়া। সুরা আল ইমরানের ৫১ নম্বর আয়াতে নবী ঈসা (আ.)-এর উক্তি উদ্ধৃত হয়েছে এভাবে—‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। সুতরাং তারই ইবাদত করো, এটাই সরল পথ।’’ তার জীবন কেবল ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও সত্যনিষ্ঠার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত।