পশ্চিমা সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ উদযাপনের পরিবর্তে মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতার সিজদা আদায়ের মাধ্যমে নতুন বছর বরণের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা মাওলানা তারিক জামিল। তিনি বলেছেন, মুসলিম তরুণরা বিজাতীয় সংস্কৃতি গ্রহণ করে নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পরিচয় থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
নতুন বছরের শুরুতে মুসলমানদের করণীয় সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মাওলানা তারিক জামিল বলেন, ‘‘আল্লাহ তায়ালা আমাদের মৃত্যু না দিয়ে আরও একটি বছর বেঁচে থাকার সুযোগ দিয়েছেন—এই উপলব্ধিটুকুই হওয়া উচিত নববর্ষের মূল অনুভূতি। তাই পাপাচারে লিপ্ত হয়ে রাত কাটানোর বদলে নফল ইবাদত ও কৃতজ্ঞতার সিজদার মাধ্যমেই মুমিনের নতুন বছর শুরু হওয়া উচিত।’’
জনপ্রিয় এই আলোচক বলেন, নববর্ষের রাতে নবীজি (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়। নবীজি যেভাবে উম্মতের হেদায়াতের জন্য কাঁদতেন, ঠিক সেভাবেই যারা এই রাতে গুনাহে লিপ্ত হচ্ছে, তাদের হেদায়াতের জন্য আল্লাহর কাছে কান্না ও দোয়া করা একজন প্রকৃত মুসলিমের দায়িত্ব।
নববর্ষ উদযাপনের নামে মদ্যপান ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। মাওলানা তারিক জামিল বলেন, ‘‘নতুন বছর উদযাপন করতে গিয়ে অনেকে মদে আসক্ত হয়। মনে রাখবেন, ঈমান ও মদ এক দেহে কখনোই একসঙ্গে থাকতে পারে না। কেউ যখন মদ্যপান করে বা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার শরীর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়। এমতাবস্থায় যদি কারও মৃত্যু হয়, তবে সে ঈমানহীন অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে।’’
ঈমানকে এক পবিত্র ও সম্মানিত অতিথির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘‘ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ঘরে যেমন কোনো সম্মানিত অতিথি থাকতে পারেন না, আলো ও অন্ধকার যেমন এক হতে পারে না, ঠিক তেমনি পশ্চিমা সংস্কৃতির উচ্ছৃঙ্খলতায় গা ভাসিয়ে দিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব নয়।’’
যারা গুনাহের মাধ্যমে বছর শুরু করে, তাদের মানবিকতা লোপ পায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাপাচার মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা থেকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে।
ধর্ম ডেস্ক 

























