টানা চার দিন ধরে ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে পড়েছে দেশের বিস্তীর্ণ জনপদ। রাজধানীর আকাশে সূর্যের দেখা মেলায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও গ্রামবাংলার জনজীবন শীতে বিপর্যস্ত। এর মধ্যেই গতকাল বুধবার গোপালগঞ্জে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি শীত মৌসুমের এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বর্তমানে দেশের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সব জেলাসহ মোট ২১টি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের ১৬টি জেলা ছাড়াও মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ চলছে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবীর জানান, এই শৈত্যপ্রবাহ আরও দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কুয়াশার ঘনত্ব কমলে কোথাও কোথাও শীতের অনুভূতি কিছুটা কমতে পারে।
তাপমাত্রার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বুধবার যশোরে ৭.৮, চুয়াডাঙ্গায় ৮, রাজশাহীতে ৮.৪, ভোলা ও খুলনায় ৮.৫, বরিশালে ৯.১ এবং সাতক্ষীরায় ৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অফিস সতর্ক করে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ঢাকায় কুয়াশা কম থাকলেও আগামী ৩ বা ৪ জানুয়ারি থেকে আবারও শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে। ওই সময়ে ঘন কুয়াশার কারণে বিমান, নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে গোপালগঞ্জ ও উত্তরাঞ্চলের মানুষ। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানান, মাত্র এক দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা ১২.৮ থেকে কমে ৭.৫ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে। বাতাসের আর্দ্রতা ৯৭ শতাংশ থাকায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা ২০০ মিটারে নেমে আসায় দিনের বেলাতেও যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে দেখা গেছে।
তীব্র ঠান্ডার কারণে কৃষকদের বোরো ধানের বীজতলা ও রোপণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে এখনো রোগীর চাপ না বাড়লেও শীত দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















