পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নারায়ণগঞ্জে গলা কেটে হত্যার শিকার আব্রাহাম খান ওরফে আলিম খানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে রাজবাড়ীর পাংশায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পাংশা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চর দুর্লভদিয়া এলাকায় নিহত আলিম খানের বাড়ির সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি দরগাতলা ও পুরাতন বাজার এলাকা প্রদক্ষিণ করে পাংশা মডেল থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পাংশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফ-উল ইসলাম মিষ্টি, নিহত আলিম খানের পিতা ওয়াজেদ খান, বোন মিনু আক্তারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আলিম খানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে নিহতের স্বজনসহ কয়েক শতাধিক গ্রামবাসী অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা আরও বলেন, এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড সমাজে নিরাপত্তাহীনতা বাড়াচ্ছে। তাই দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ ডিসেম্বর আলিম খান ঢাকায় কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার শ্রীনিবাসদী এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা ওয়াজেদ খান ১৮ ডিসেম্বর আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানায়, ঘটনার সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ ডিসেম্বর রাতে ঢাকার মধ্য বাড্ডা এলাকা থেকে মো. রুহুল আমিন ওরফে রাব্বিকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পিবিআইয়ের তথ্যমতে, আলিম খানকে পরিকল্পিতভাবে নারায়ণগঞ্জে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়। এদিকে, মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।
আনোয়ারুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার 



















