ঢাকা ০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি রাজৈরে লিবিয়ায় নির্যাতনের পর নিহত সোহাগ মুন্সি পরিবারের থানায় অভিযোগ মোবাইল কোর্টের অভিযানে হেলমেট না পরায় ৫ মামলায় ৪ হাজার টাকা জরিমানা লটারির মাধ্যমে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৭৬৭ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বদলি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে নিয়ে মিলল আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য গোসিংগা ইউনিয়ন বিএনপি’র বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে: পবিপ্রবি উপাচার্য বর্তমানে পত্রিকার পাতায় গুম, খুন, ব্যাংক লুটের খবর নেই : পার্থ গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর মিলন রানীর পাশে উপজেলা প্রশাসন জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করলে আল্লাহ আমাদের ছেড়ে দেবেন না : ডা. শফিকুর রহমান

মনোনয়ন কিনে ভুল করেছি, ক্ষমাপ্রার্থী : মনিরুল হক সাক্কু

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, মনোনয়ন কিনে আমি ভুল করেছি। কেনা মনোনয়নটি জমা দেব না। আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। মূলত হাজী ইয়াছিনের ওপর ক্ষোভ থেকেই মনোনয়ন কিনেছি। আমি ধানের শীষের পক্ষের লোক। আমাদের প্রিয় নেতা মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করতে কাজ করছি, কাজ করেও যাব। তবে কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হয়ে হাজী ইয়াছিন পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর নানুয়া দিঘির পাড়ে নিজের বাসসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন সাক্কু।

সাক্কু বলেন, আমি বিএনপির জন্য নিবেদিত প্রাণ। সিটি করপোরেশনের দুই দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। সবশেষ দুইটা নির্বাচনে মানুষের চাপে ভোটে অংশ নিয়েছিলাম। দুইবারই হাজী ইয়াছিন তার শ্যালক কায়সারকে প্রার্থী করিয়ে আমার ক্ষতি করেছে। সাবেক এমপি বাহারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমার ভোট নষ্ট করেছে। আমি ৭০-৮০ হাজার ভোট বেশি পাই। এই ভোটগুলো নষ্ট করেছেন হাজী ইয়াছিন। তার ওপর রাগ করে আমি মনোনয়ন কিনেছি। মনোনয়ন কেনার পর আমি চিন্তা করলাম কাজটা ঠিক করিনি।

তিনি আরও বলেন, হাজী ইয়াছিন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি দলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো উপজেলায়ও কমিটি দিতে পারেননি। তিনি সাংগঠনিক কোনো কাজ করেননি। উনার (হাজী ইয়াছিনের) কাজ ছিল শুধু আমি সাক্কু কী করি সেটা নিয়ে থাকা।

বহিষ্কার আদেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাক্কু বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাকে ডেকেছেন। আমি মহাসচিবের সঙ্গে কুমিল্লা-৬ আসনের বিস্তারিত তুলে ধরেছি। মহাসচিব আমাকে বলেছেন তোমার চাহিদা কী? আমি মহাসচিবকে বলেছি কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীকে ধানের শীষ না দিলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিএনপি জয়লাভ করবে। বহিষ্কার আদেশ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। এটা দলের সিদ্ধান্ত। আমি বিএনপির রাজনীতি করি। শহীদ জিয়ার আদর্শকে লালন করে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র ছিলেন। ২০২২ সালে দলের নির্দেশ অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পদ থেকে সাক্কুকে বহিষ্কার করে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গতকাল রোববার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কেনেন সাক্কু।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাল খননের উদ্বৃত্ত ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে নজির, প্রশংসিত এমপি

মনোনয়ন কিনে ভুল করেছি, ক্ষমাপ্রার্থী : মনিরুল হক সাক্কু

আপডেট সময় ০৪:৫৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, মনোনয়ন কিনে আমি ভুল করেছি। কেনা মনোনয়নটি জমা দেব না। আমি সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। মূলত হাজী ইয়াছিনের ওপর ক্ষোভ থেকেই মনোনয়ন কিনেছি। আমি ধানের শীষের পক্ষের লোক। আমাদের প্রিয় নেতা মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করতে কাজ করছি, কাজ করেও যাব। তবে কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন হয়ে হাজী ইয়াছিন পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর নানুয়া দিঘির পাড়ে নিজের বাসসভবনে সংবাদ সম্মেলন ডেকে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন সাক্কু।

সাক্কু বলেন, আমি বিএনপির জন্য নিবেদিত প্রাণ। সিটি করপোরেশনের দুই দুইবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। সবশেষ দুইটা নির্বাচনে মানুষের চাপে ভোটে অংশ নিয়েছিলাম। দুইবারই হাজী ইয়াছিন তার শ্যালক কায়সারকে প্রার্থী করিয়ে আমার ক্ষতি করেছে। সাবেক এমপি বাহারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমার ভোট নষ্ট করেছে। আমি ৭০-৮০ হাজার ভোট বেশি পাই। এই ভোটগুলো নষ্ট করেছেন হাজী ইয়াছিন। তার ওপর রাগ করে আমি মনোনয়ন কিনেছি। মনোনয়ন কেনার পর আমি চিন্তা করলাম কাজটা ঠিক করিনি।

তিনি আরও বলেন, হাজী ইয়াছিন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি দলের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো উপজেলায়ও কমিটি দিতে পারেননি। তিনি সাংগঠনিক কোনো কাজ করেননি। উনার (হাজী ইয়াছিনের) কাজ ছিল শুধু আমি সাক্কু কী করি সেটা নিয়ে থাকা।

বহিষ্কার আদেশের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাক্কু বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার আগে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাকে ডেকেছেন। আমি মহাসচিবের সঙ্গে কুমিল্লা-৬ আসনের বিস্তারিত তুলে ধরেছি। মহাসচিব আমাকে বলেছেন তোমার চাহিদা কী? আমি মহাসচিবকে বলেছি কুমিল্লা-৬ আসনে মনিরুল হক চৌধুরীকে ধানের শীষ না দিলে আসনটি হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। মনিরুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে বিএনপি জয়লাভ করবে। বহিষ্কার আদেশ নিয়ে আমার কোনো কথা নেই। এটা দলের সিদ্ধান্ত। আমি বিএনপির রাজনীতি করি। শহীদ জিয়ার আদর্শকে লালন করে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক দুইবারের মেয়র ছিলেন। ২০২২ সালে দলের নির্দেশ অমান্য করে ভোটে অংশ নেওয়ায় প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সকল পদ থেকে সাক্কুকে বহিষ্কার করে বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গতকাল রোববার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন কেনেন সাক্কু।