ঢাকা ১০:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের ঈদযাত্রায় ‘তেলের টেনশনে’ শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা সালমান আগার রান আউট বিতর্কে যা বলছে এমসিসি ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে নোয়াখালীতে র‍্যাবের কঠোর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ইরানের সর্বোচ্চ নেতার ঈদযাত্রায় সাভারে সড়কে মানুষের ঢল, বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ কক্সবাজার সৈকতে বারুণী স্নান ও গঙ্গাপূজায় পুণ্যার্থীর ঢল মতিঝিলে চোর-পুলিশ খেলা, গুলিস্তানে পুলিশের সামনে নতুন নোট বিক্রি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, দুই পরিবহনকে জরিমানা বরগুনায় ৯ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার, সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত

দাফনের সময় কবরে পড়ে যায় মোবাইল, এক রাত পর মাটি সরিয়ে উদ্ধার

  • নাটোর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৮:৫৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৫৬৫ বার পড়া হয়েছে

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দাফনের সময় হারিয়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন এক রাত পর কবর খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে দাফন কাজের সময় যুবক সামিউল ইসলামের মোবাইলটি কবরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় আলেমদের পরামর্শে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কবরের ওপরের সামান্য মাটি সরিয়ে ফোনটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর সামাজিক কবরস্থানে। দাফনের এক রাত পর মোবাইল উদ্ধারের এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, স্থানীয় যুবক সামিউল ইসলাম সামি গত মঙ্গলবার রাতে এক আত্মীয়ের জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নিতে জয়ন্তীপুর সামাজিক কবরস্থানে যান। রাত হওয়ায় মরদেহ নামানোর সময় তিনি মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে আলো দিচ্ছিলেন। দাফন শেষে মোবাইলটি জ্যাকেটের পকেটে রেখেছেন ভেবে তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে পকেট হাতড়ে দেখেন ফোনটি নেই।

সামিউল ইসলাম জানান, সন্দেহ হওয়ায় তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে হারানো ফোনে কল দেন। মাঝে মাঝে রিং হলেও আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। এতে তিনি নিশ্চিত হন, দাফনের সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ফোনটি কবরের ভেতরই পড়ে গেছে।

রাতভর দুশ্চিন্তা কাটিয়ে বুধবার সকালে তিনি বিষয়টি স্থানীয় আলেম ও মুরুব্বিদের জানান। ধর্মীয় দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি না, তা যাচাই করে আলেমরা কবরের পবিত্রতা বজায় রেখে ওপরের সামান্য মাটি সরানোর অনুমতি দেন। তাদের পরামর্শে ও উপস্থিতিতে কবরের ওপরের দিকে মাত্র এক হাত পরিমাণ মাটি সরাতেই মোবাইলটি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জয়ন্তীপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রউফ বলেন, মোবাইলটি লাশের শরীরে বা মাটির গভীরে যায়নি। দাফনের সময় লাশের ওপর দেওয়া বাঁশের চাটাই বা খাপাচির ওপরই এটি আটকে ছিল। তাই ওপরের সামান্য মাটি সরাতেই সেটি মিলেছে।

ফোনটি হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সামিউল ইসলাম সামি বলেন, রাতে কল ঢুকছিল বলে আমি নিশ্চিত ছিলাম ফোনটি সেখানেই আছে। আলহামদুলিল্লাহ, সকালে মুরুব্বিদের সহায়তায় সেটি উদ্ধার করতে পেরেছি।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পোর্টেবল সিগন্যাল লাইট ব্যবহার শুরু পুলিশের

দাফনের সময় কবরে পড়ে যায় মোবাইল, এক রাত পর মাটি সরিয়ে উদ্ধার

আপডেট সময় ০৮:৫৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দাফনের সময় হারিয়ে যাওয়া একটি মোবাইল ফোন এক রাত পর কবর খুঁড়ে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে দাফন কাজের সময় যুবক সামিউল ইসলামের মোবাইলটি কবরে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় আলেমদের পরামর্শে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে কবরের ওপরের সামান্য মাটি সরিয়ে ফোনটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর ইউনিয়নের জয়ন্তীপুর সামাজিক কবরস্থানে। দাফনের এক রাত পর মোবাইল উদ্ধারের এ ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, স্থানীয় যুবক সামিউল ইসলাম সামি গত মঙ্গলবার রাতে এক আত্মীয়ের জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নিতে জয়ন্তীপুর সামাজিক কবরস্থানে যান। রাত হওয়ায় মরদেহ নামানোর সময় তিনি মোবাইলের টর্চ লাইট জ্বালিয়ে আলো দিচ্ছিলেন। দাফন শেষে মোবাইলটি জ্যাকেটের পকেটে রেখেছেন ভেবে তিনি বাড়ি ফেরেন। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে পকেট হাতড়ে দেখেন ফোনটি নেই।

সামিউল ইসলাম জানান, সন্দেহ হওয়ায় তিনি অন্য একটি নম্বর থেকে হারানো ফোনে কল দেন। মাঝে মাঝে রিং হলেও আবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছিল। এতে তিনি নিশ্চিত হন, দাফনের সময় তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ফোনটি কবরের ভেতরই পড়ে গেছে।

রাতভর দুশ্চিন্তা কাটিয়ে বুধবার সকালে তিনি বিষয়টি স্থানীয় আলেম ও মুরুব্বিদের জানান। ধর্মীয় দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি না, তা যাচাই করে আলেমরা কবরের পবিত্রতা বজায় রেখে ওপরের সামান্য মাটি সরানোর অনুমতি দেন। তাদের পরামর্শে ও উপস্থিতিতে কবরের ওপরের দিকে মাত্র এক হাত পরিমাণ মাটি সরাতেই মোবাইলটি পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জয়ন্তীপুর বাজার জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রউফ বলেন, মোবাইলটি লাশের শরীরে বা মাটির গভীরে যায়নি। দাফনের সময় লাশের ওপর দেওয়া বাঁশের চাটাই বা খাপাচির ওপরই এটি আটকে ছিল। তাই ওপরের সামান্য মাটি সরাতেই সেটি মিলেছে।

ফোনটি হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সামিউল ইসলাম সামি বলেন, রাতে কল ঢুকছিল বলে আমি নিশ্চিত ছিলাম ফোনটি সেখানেই আছে। আলহামদুলিল্লাহ, সকালে মুরুব্বিদের সহায়তায় সেটি উদ্ধার করতে পেরেছি।