ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার। মনোহরগঞ্জে সন্ত্রাসী কায়দায় গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ পিএসএলের বাকি অংশে খেলা হচ্ছে না নাহিদ-মুস্তাফিজের কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে অনিয়মকেই নিয়মে পরিনত করছেন মাদারীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বেরোবিতে আন্তঃবিভাগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত আইইএলটিএস পরীক্ষা দিতে আসা তরুণীর লাশ মিলল হোটেলের বাথরুমে বড়লেখা উপজেলা পৌর ছাত্রদল ও বড়লেখা উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তনু হত্যায় গ্রেপ্তার হাফিজুরের ডিএনএর নমুনা সংগ্রহ বিসিকের টেন্ডার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রাশেদ! ঘোড়াশালে চাঁদাবাজ মহিউদ্দিনের দাপট, স্বাস্থ্যকেন্দ্র দখলের অভিযোগ

আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছে সিসিকের সোহেল

২০০৬ সালে চাকরি। বেতন ছিল মাত্র ৩০০০ টাকা। পদ সিলেট সিটি করপোরেশনের আদায়কারী। এভাবেই কর্মজীবন শুরু সোহেল আহমদের। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। প্রায় দুই দশক। সেই সোহেল এখন আর সামান্য বেতনের কর্মচারী নন। তখন দুই বেলা পেট ভরে খেতে না পেলেও এখন তিনি থাকেন সিলেট শহরের অভিজাত এলাকায়। আছে নামে-বেনামে সম্পদ। নিজের এবং স্ত্রীর নামে শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন। রয়েছে দামি গাড়ি। শপিং মলে দোকান। বিপুল পরিমাণ জমি। আর আছে ব্যাংকে কোটি টাকার আমানত। সামান্য বেতনের সোহেলের এই উত্থান রাজকীয়। তার কাছে সিলেট সিটি করপোরেশন-সিসিক রীতিমতো আলাদীনের চেরাগ। সিসিকে চাকরি হওয়ার পরপরই পাল্টে যেতে শুরু করে তার একসময় দুই বেলা পেট ভরে খেতে না পেলেও এখন তিনি থাকেন অভিজাত এলাকায়। চলনে-বলনে আসে পরিবর্তন। তিনি প্রথমদিকে আশীর্বাদ লাভ করেন সিসিকে দুর্নীতির কিং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের। তার ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার পর আর কে পায় তার নাগাল। তিনি দরিদ্রতাকে পেছনে ফেলেন। তার সবচেয়ে সেরা সময় আসে যখন তিনি সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত ‘একান্ত সুযোগ পাল্টে দেয় তার পেছনের চেনা জগৎ। ঘোর অন্ধকারের পর তার জীবনের পূর্বাকাশে উদিত হয় টাকার সূর্য। তিনি শূন্য থেকে রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। গড়ে তোলেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়! সোহেল আহমদ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। যার জীবন চলত ধার-দেনায়। তিনি এখন বিলাসবহুল ভবনের মালিক। বিশ্বের একাধিক দেশে ভ্রমণকারী। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন মেয়রের ‘একান্ত সহকারী’ হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন হানিফুর রহমান। নিজের খায়েশ পূরণ করতে তারই একান্তজনকে ভিড়িয়ে দেন মেয়রের পাশে। তার মাধ্যমেই হানিফ সাবেক মেয়রের কাছ থেকে অনেক সুবিধা বাগিয়ে নিতে পেরেছিলেন। এর পর থেকেই সোহেল সিটি করপোরেশনের ভেতরকার অদৃশ্য শক্তিতে পরিণত হন। নিয়োগ, প্রমোশন, টেন্ডার- সর্বত্র ছিল তার একচেটিয়া আধিপত্য। তাকে ব্যবহার করে হানিফ গড়ে তোলেন নিজের দুর্নীতির সাম্রাজ্য। ওই সিন্ডিকেটের প্রধান দুই ব্যক্তি ছিলেন হানিফ-সোহেল। এই জুটিই সিসিকের ভেতরের বেশির ভাগ কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। চাকরিপ্রার্থী নারীদের রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে দেওয়া হতো অনৈতিক প্রস্তাব। কেউ রাজি হলে চাকরি হতো। না হলে দিনের পর দিন ঘুরেও শেষমেশ তারা চাকরি থেকে বঞ্চিত হতেন। এমন অভিযোগ মিলেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে।
বর্তমানে সোহেলের বেতন ৩০ হাজার টাকা। এই টাকায় সংসার চালিয়ে কীভাবে বাড়ি-গাড়ির মালিক হলেন? কীভাবে তার পাসপোর্টে এক ডজন দেশের ভিসা লাগিয়ে সেইসব দেশ ভ্রমণ করলেন? তা-ও আবার কখনো কখনো সপরিবারে! কীভাবে তার নামে একাধিক ভবন, কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স?- এমন প্রশ্ন সিসিকের অনেকেরই।
অভিযোগ আছে, গত এক দশকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৫০-এরও বেশি কর্মচারী। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। তার হাত ধরে নিয়োগ পাওয়া অনেকেই আজ কর শাখা, পানি শাখা, পরিবহন ও প্রকৌশল শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখা থেকে মাসিক মাসোহারা আদায় ছিল তার নিয়মিত আয়। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার- এই চোরেরা আর কত দিন আমাদের টাকায় রাজত্ব করবে? রাষ্ট্রীয় চাকরি কি শুধুই ঘুষ, অনৈতিক প্রস্তাব আর স্বজনপ্রীতির হাতিয়ার হয়ে থাকবে? আমরা কি এইসব ‘আধুনিক চোরদের’ জন্য চুপ করে থাকব? এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সোহেল আহমদ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তার মন্তব্য, সব অভিযোগ মিথ্যা। এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘ভুয়া ডিবি ও ডলার প্রতারক’ চক্রের ০১ জন সক্রীয় সদস্য গ্রেফতার।

আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়েছে সিসিকের সোহেল

আপডেট সময় ০১:১২:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

২০০৬ সালে চাকরি। বেতন ছিল মাত্র ৩০০০ টাকা। পদ সিলেট সিটি করপোরেশনের আদায়কারী। এভাবেই কর্মজীবন শুরু সোহেল আহমদের। তারপর কেটে গেছে দীর্ঘ সময়। প্রায় দুই দশক। সেই সোহেল এখন আর সামান্য বেতনের কর্মচারী নন। তখন দুই বেলা পেট ভরে খেতে না পেলেও এখন তিনি থাকেন সিলেট শহরের অভিজাত এলাকায়। আছে নামে-বেনামে সম্পদ। নিজের এবং স্ত্রীর নামে শহরের অভিজাত এলাকাগুলোতে গড়ে উঠেছে একাধিক বহুতল ভবন। রয়েছে দামি গাড়ি। শপিং মলে দোকান। বিপুল পরিমাণ জমি। আর আছে ব্যাংকে কোটি টাকার আমানত। সামান্য বেতনের সোহেলের এই উত্থান রাজকীয়। তার কাছে সিলেট সিটি করপোরেশন-সিসিক রীতিমতো আলাদীনের চেরাগ। সিসিকে চাকরি হওয়ার পরপরই পাল্টে যেতে শুরু করে তার একসময় দুই বেলা পেট ভরে খেতে না পেলেও এখন তিনি থাকেন অভিজাত এলাকায়। চলনে-বলনে আসে পরিবর্তন। তিনি প্রথমদিকে আশীর্বাদ লাভ করেন সিসিকে দুর্নীতির কিং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমানের। তার ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার পর আর কে পায় তার নাগাল। তিনি দরিদ্রতাকে পেছনে ফেলেন। তার সবচেয়ে সেরা সময় আসে যখন তিনি সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর ব্যক্তিগত ‘একান্ত সুযোগ পাল্টে দেয় তার পেছনের চেনা জগৎ। ঘোর অন্ধকারের পর তার জীবনের পূর্বাকাশে উদিত হয় টাকার সূর্য। তিনি শূন্য থেকে রাতারাতি বনে যান কোটিপতি। গড়ে তোলেন কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়! সোহেল আহমদ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান। যার জীবন চলত ধার-দেনায়। তিনি এখন বিলাসবহুল ভবনের মালিক। বিশ্বের একাধিক দেশে ভ্রমণকারী। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন মেয়রের ‘একান্ত সহকারী’ হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেন হানিফুর রহমান। নিজের খায়েশ পূরণ করতে তারই একান্তজনকে ভিড়িয়ে দেন মেয়রের পাশে। তার মাধ্যমেই হানিফ সাবেক মেয়রের কাছ থেকে অনেক সুবিধা বাগিয়ে নিতে পেরেছিলেন। এর পর থেকেই সোহেল সিটি করপোরেশনের ভেতরকার অদৃশ্য শক্তিতে পরিণত হন। নিয়োগ, প্রমোশন, টেন্ডার- সর্বত্র ছিল তার একচেটিয়া আধিপত্য। তাকে ব্যবহার করে হানিফ গড়ে তোলেন নিজের দুর্নীতির সাম্রাজ্য। ওই সিন্ডিকেটের প্রধান দুই ব্যক্তি ছিলেন হানিফ-সোহেল। এই জুটিই সিসিকের ভেতরের বেশির ভাগ কাজ নিয়ন্ত্রণ করতেন। তারা চাকরি দেওয়ার নামে প্রার্থীদের কাছ থেকে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। চাকরিপ্রার্থী নারীদের রেস্টুরেন্টে ডেকে নিয়ে দেওয়া হতো অনৈতিক প্রস্তাব। কেউ রাজি হলে চাকরি হতো। না হলে দিনের পর দিন ঘুরেও শেষমেশ তারা চাকরি থেকে বঞ্চিত হতেন। এমন অভিযোগ মিলেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে।
বর্তমানে সোহেলের বেতন ৩০ হাজার টাকা। এই টাকায় সংসার চালিয়ে কীভাবে বাড়ি-গাড়ির মালিক হলেন? কীভাবে তার পাসপোর্টে এক ডজন দেশের ভিসা লাগিয়ে সেইসব দেশ ভ্রমণ করলেন? তা-ও আবার কখনো কখনো সপরিবারে! কীভাবে তার নামে একাধিক ভবন, কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স?- এমন প্রশ্ন সিসিকের অনেকেরই।
অভিযোগ আছে, গত এক দশকে গোপনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২৫০-এরও বেশি কর্মচারী। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ২ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। তার হাত ধরে নিয়োগ পাওয়া অনেকেই আজ কর শাখা, পানি শাখা, পরিবহন ও প্রকৌশল শাখায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন শাখা থেকে মাসিক মাসোহারা আদায় ছিল তার নিয়মিত আয়। এখন সময় এসেছে প্রশ্ন তোলার- এই চোরেরা আর কত দিন আমাদের টাকায় রাজত্ব করবে? রাষ্ট্রীয় চাকরি কি শুধুই ঘুষ, অনৈতিক প্রস্তাব আর স্বজনপ্রীতির হাতিয়ার হয়ে থাকবে? আমরা কি এইসব ‘আধুনিক চোরদের’ জন্য চুপ করে থাকব? এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে সোহেল আহমদ কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তার মন্তব্য, সব অভিযোগ মিথ্যা। এগুলো তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।