জমিদাতা, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের মধ্যে ত্রিমুখী বিবাধে হুমকির মুখে এক কলেজ। গত প্রায় ৬ মাস আগে কলেজের অধ্যক্ষ নিরাপত্তার অজুহাত ও জেদের বশে ১৪ জন শিক্ষক ও কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে বাড়ির পাশে নিজ জমিতে একটি টিনের দোচালা ঘর নির্মাণ করে কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। এতে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।
এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার পাথারিয়া গ্রামের ভাষা সৈনিক শামছুল কলেজে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তারাকান্দা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোামিটার দূরে ঢাকুয়া ইউনিয়নের পাথারিয়া গ্রামে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত। ফুলপুর উপজেলার সাবেক এমপি ও স্পিকার শামছুল হকের নামে ‘ভাষা সৈনিক শামছুল কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠিত। প্রায় ৪০ কাঠা জমির ওপর এই কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার ৯ বছর পর এমপিওভুক্ত হয়। এর মধ্যে কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়ম বর্হিভুতভাবে শিক্ষক নিয়োগ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া ছাড়াও শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণসহ অযথা অনেকের বেতনভাতা বন্ধ করে হয়রানির অভিযোগ উঠে। এতে এলাকার লোকজন, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা মিলে অধ্যক্ষের বিচারের দাবি তুলে মানববন্ধনসহ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে অধ্যক্ষ, জমিদাতা ও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের মধ্যে ব্যাপক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। এতে অধ্যক্ষ কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়ে নিজের নিরাপত্তার অজুহাতে প্রথমে নিজ বাড়ির আঙিনায় ও কয়েক মাস পরে বাড়ির পাশেই একটি টিনের ঘর তৈরি করে তাতে দুইটি শ্রেণি কক্ষ ও অফিস কক্ষ ভাগ করে কার্যক্রম শুরু করেন। মূল কলেজ থেকে যার দূরত্ব কমপক্ষে ৫ শ মিটার। ফসলি খেতের মধ্যেই সদ্য নির্মিত টিনের ঘরেই উঠছে জাতীয় পতাকা। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুই শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা মাত্র ৬ জন। পাশেই অফিস কক্ষে বসে আছেন অধ্যক্ষ ছাড়াও ১৪ জন শিক্ষক। শিক্ষার্থীরা জানান, এখানে তারা ৬ জন উপস্থিত থাকলেও মূল কলেজে আছে আরও ৬ থেকে ৭ জন।
১৪ জন শিক্ষক মিলেই তাদের পাঠদান দেন। তবে কলেজ ভাগের কারণে তাদের পাঠ নিতে ভালো লাগে না। এই সমস্যার সমাধান চান তারা।
অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান জানান, তার বিরুদ্ধে অযথা মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে প্রাণনাশের হুমকি ছাড়াও বিভিন্ন সময় লাঞ্ছিত করেছে। এতে তিনি ভীত হয়ে ওই কলেজ ছেড়ে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে এখানেই কলেজ পরিচালনা করে আসছেন। বোর্ডের অনুমতি না নিয়ে এভাবে কলেজ পরিচালনা করা যায় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলাকাবাসী সম্মতি দিয়েছেন। এ ছাড়া উপায় ছিল না। কোনো কোনো বিষয়ে শিক্ষার্থী নেই, তাহলে শিক্ষক নিয়োগ হলো কিভাবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে শিক্ষক নিয়োগের বিধান রয়েছে। পরে শিক্ষার্থী।
এদিকে মূল কলেজে গিয়ে পাওয়া যায় জমিদাতার বেশ কয়েকজনকে। তাদের মধ্যে গিয়াস উদ্দিন সরকার জানান, অধ্যক্ষ কলেজটাকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছেন। নিয়ম বর্হিভুত নিয়োগ বাণিজ্য করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যেসব শিক্ষক-কর্মচারী তার কথা শুনছেন না, তাদের বেতনভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ওই অস্থায়ী কলেজে যাওয়ার জন্য নানাবিধ হুমকি দিচ্ছেন। মূল কলেজ রেখে এভাবে নিজের খেয়াল খুশিমতো আরেকটি কলেজ করলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মূল কলজে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এতে কলেজের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
দুই ভাগে বিভক্ত কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তারা এভাবে দুইভাগ হয়ে কলেজে আসতে মন খারাপ হয়। পড়ালেখার কোনো পরিবেশ নেই। তারা দ্রুতি এই অচলাবস্থার অবসান চান। তারাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসাইন বলেন, তিনি এ ঘটনায় সরেজমিন গিয়ে প্রত্যক্ষ করে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমঝোতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্ত করে শিক্ষা মাউসিতে সঠিক প্রতিবেদন প্রেরণ করার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর একে এম আলিফ উল্লাহ আহসান জানান, অধ্যক্ষ যে কাজটি করেছেন তা বেআইনি। তিনি এ বিষয়ে অবগত আছেন। তবে দুইপক্ষই কেউ কাউকে ছাড় না দেওয়ায় এভাবেই ঝুলে আছে। এ অবস্থায় আগামী ১৭ নভেম্বর কলেজে উপস্থিত থাকার জন্য দুই পক্ষকেই চিঠি পাঠিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে। ওইদিন তিনি সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 























